বাংলাদেশ ০৪:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :

সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,, সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,,০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০, ০১৭১২-৪৪৬৩০৬,০১৭১১-০০৬২১৪ সম্পাদক

     
ব্রেকিং নিউজ ::
‌সি‌লে‌টে কবি আবুল বশর আনসারী’র লেখা কবিতা পবিত্র সিলেট ভূমি ফলক উন্মোচন ও জীবনী নি‌য়ে আলোচনা। তিন পদে লোক নিচ্ছে হুয়াওয়ে বাংলাদেশ স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ ও হত্যার পলাতক আসামী গ্রেফতার।  তালতলীর খালাকে হত্যার পর কানের রিং বিক্রি করে খুনিকে টাকা দেয় ভাগ্নে কলাপাড়ায় এক সন্তানের জননীকে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগ নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সুপারিশ রাঙ্গাবালীতে মৎস্য ব্যবসায়ী রাসাদ হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন। পিঠা উৎসব ও বসন্ত বরনকে কেন্দ্র করে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মিলন মেলায় পরিনত  নাটোরের বড়াইগ্রামে বর্ণিল আয়োজনে পিঠা উৎসব ও বসন্ত বরণ। পঞ্চগড়ের বোদায় ট্যাপেন্ডাডল ট্যাবলেটসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। রায়গঞ্জের বিভিন্ন গাছে গাছে দেখা যাচ্ছে আমের মুকুল মুক্তিযোদ্বা প্রজন্ম লীগ সভাপতিকে কুপিয়ে জখমকে কেন্দ্র করে পিরোজপুর শহরে উত্তেজনা রাবিতে চাঁদপুর পরিবারের নেতৃত্বে ইমন-রাহিম ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইঞ্জিঃ পিলাব মল্লিক (গোল্ডেন) -এর সংবাদ  সম্মেলন    ঝালকাঠিতে ৮টি গাঁজাগাছ ও ১৫পিস ইয়াবাসহ আটক-২

ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:১০:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ মার্চ ২০২২
  • ১৬৮২ বার পড়া হয়েছে

ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

মোঃ এনামুল হক ( খোকন) পাটওয়ারী
ফরিদগঞ্জ উপজেলা- প্রতিনিধি
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদে চলছে হরিলুট, চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন রিপনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয়ে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছেই। জেলা প্রশাসক কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে ওই ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের ৩জন সদস্য লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে হয়রানীর অভিযোগও রয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য ঝর্ণা বেগম, জানাহারা বেগম ও শিরিনা আক্তারের লিখিত বক্তব্য ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন রিপন মহিলা মেম্বার ঝর্ণা বেগম ও জাহারা বেগমের নামে দুটি কাবিখা প্রকল্প উপজেলা প্রকল্প বাস্তাবয়ন অফিসে জমা দেন। ওই প্রকল্প দুইটির মধ্যে একটির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
অপর একটি দায়সারা ভাবে সম্পন্ন করেই মহিলা সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। মহিলা মেম্বার শিরিনা বেগম ও ঝর্ণা বেগমের নামে বিগত দিনগুলোতে টি. আর, কাবিখা, এলজি, এসপি, ও ৪০ দিনের কর্মসূচিসহ কয়েকটি প্রকল্পের বিলও ডিওতে স্বাক্ষর করিয়ে বিলসমূহ উত্তোলন করে চেয়ারম্যান নিজেই আত্মসাৎ করেন। এতে ভুক্তভোগী মহিলা সদস্যরা চরম হয়রানীর শিকার হয়েছেন। মহিলা সদস্য জাহানারা বেগম জানান, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে অদ্যাবদি কোন প্রকল্প আমাকে দেওয়া হয়নি। সরকারের মহিলা কোটায় প্রকল্প থাকলেও চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন রিপন নিজেই মহিলা মেম্বারদের স্বাক্ষর জাল করে নিয়ে যান।
এছাড়াও পরিষদের চলমান মেয়াদকাল দু’বছর অতিক্রম করলেও প্যানেল চেয়ারম্যান নামে রেজুলেশন না করা, পরিষদের মাসিক সভায় সদস্যদের স্বাক্ষর জাল, ট্যাক্সের টাকা আত্মসাৎ, মেম্বারদের সম্মানি ভাতা নিয়মিত প্রদান না করা, ইউনিয়নের সকল ওয়ার্ড থেকে হোল্ডিং নাম্বার বাবদ ২ শ থেকে ৫ শত টাকা আদায় করাসহ জন্ম সনদ, বয়স্ক, বিধবা, মাতৃকালিন ভাতার কার্ড ও ওয়ারিস সনদসহ বিভিন্ন ভাতার কার্ড প্রদানে অনিয়মের এমন সব অভিযোগ করে চলতি মাসের ৭ তারিখে উক্ত ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের ৩ জন সদস্য-ই চাঁদপুর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান নিয়মিত অফিসে থাকেন না, আমাদের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর করতে হলে হয় চেয়ারম্যান সাহেবের বাড়িতে গিয়ে অন্যথায় সচিবের কাছে দিয়ে এসে দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা আরো বলেন, বিভিন্ন ইউনিয়নে তো প্যানেল চেয়ারম্যান থাকে আমাদের ইউনিয়নে প্যানেল চেয়ারম্যান দিলে চেয়ারম্যান সাহেবের কি এমন ক্ষতি হয়ে যাবে?
এদিকে চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন রিপন জানান, আমি সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্যদের সব চাইতে বেশি প্রকল্প দিয়েছি, আমার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি যদি দীর্ঘ সময় নিয়ে দেশের বাহিরে যাই, তখন হয়তো প্যানেল চেয়ারম্যানের বিষয়টি বিবেচনায় আসবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিল্টন দস্তিদার জানান, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মহিলা মেম্বাররা যে অভিযোগ করেছেন, ওই প্রকল্পের প্রথমে বিল উত্তোলন করে তাদেরকে কিছু টাকা দেওয়া হয়েছে, পরবর্তিতে বাকি বিল উত্তোলন করে হয়তো মহিলা মেম্বারদেকে টাকা দেওয়া হয়নি। প্রকল্পের সভাপতি ছাড়া অন্য কাউকে বিল প্রদানের কোনো নিয়ম আছে কি প্রশ্নের জবাবে তিনি বক্তব্য দিতে রাজী হয়নি। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিউলী হরি জানান, লিখিত বক্তব্য হাতে পাইনি, পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয় সংবাদ

‌সি‌লে‌টে কবি আবুল বশর আনসারী’র লেখা কবিতা পবিত্র সিলেট ভূমি ফলক উন্মোচন ও জীবনী নি‌য়ে আলোচনা।

ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় ১১:১০:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ মার্চ ২০২২
মোঃ এনামুল হক ( খোকন) পাটওয়ারী
ফরিদগঞ্জ উপজেলা- প্রতিনিধি
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদে চলছে হরিলুট, চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন রিপনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয়ে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছেই। জেলা প্রশাসক কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে ওই ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের ৩জন সদস্য লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে হয়রানীর অভিযোগও রয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য ঝর্ণা বেগম, জানাহারা বেগম ও শিরিনা আক্তারের লিখিত বক্তব্য ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন রিপন মহিলা মেম্বার ঝর্ণা বেগম ও জাহারা বেগমের নামে দুটি কাবিখা প্রকল্প উপজেলা প্রকল্প বাস্তাবয়ন অফিসে জমা দেন। ওই প্রকল্প দুইটির মধ্যে একটির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
অপর একটি দায়সারা ভাবে সম্পন্ন করেই মহিলা সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। মহিলা মেম্বার শিরিনা বেগম ও ঝর্ণা বেগমের নামে বিগত দিনগুলোতে টি. আর, কাবিখা, এলজি, এসপি, ও ৪০ দিনের কর্মসূচিসহ কয়েকটি প্রকল্পের বিলও ডিওতে স্বাক্ষর করিয়ে বিলসমূহ উত্তোলন করে চেয়ারম্যান নিজেই আত্মসাৎ করেন। এতে ভুক্তভোগী মহিলা সদস্যরা চরম হয়রানীর শিকার হয়েছেন। মহিলা সদস্য জাহানারা বেগম জানান, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে অদ্যাবদি কোন প্রকল্প আমাকে দেওয়া হয়নি। সরকারের মহিলা কোটায় প্রকল্প থাকলেও চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন রিপন নিজেই মহিলা মেম্বারদের স্বাক্ষর জাল করে নিয়ে যান।
এছাড়াও পরিষদের চলমান মেয়াদকাল দু’বছর অতিক্রম করলেও প্যানেল চেয়ারম্যান নামে রেজুলেশন না করা, পরিষদের মাসিক সভায় সদস্যদের স্বাক্ষর জাল, ট্যাক্সের টাকা আত্মসাৎ, মেম্বারদের সম্মানি ভাতা নিয়মিত প্রদান না করা, ইউনিয়নের সকল ওয়ার্ড থেকে হোল্ডিং নাম্বার বাবদ ২ শ থেকে ৫ শত টাকা আদায় করাসহ জন্ম সনদ, বয়স্ক, বিধবা, মাতৃকালিন ভাতার কার্ড ও ওয়ারিস সনদসহ বিভিন্ন ভাতার কার্ড প্রদানে অনিয়মের এমন সব অভিযোগ করে চলতি মাসের ৭ তারিখে উক্ত ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের ৩ জন সদস্য-ই চাঁদপুর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান নিয়মিত অফিসে থাকেন না, আমাদের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর করতে হলে হয় চেয়ারম্যান সাহেবের বাড়িতে গিয়ে অন্যথায় সচিবের কাছে দিয়ে এসে দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা আরো বলেন, বিভিন্ন ইউনিয়নে তো প্যানেল চেয়ারম্যান থাকে আমাদের ইউনিয়নে প্যানেল চেয়ারম্যান দিলে চেয়ারম্যান সাহেবের কি এমন ক্ষতি হয়ে যাবে?
এদিকে চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন রিপন জানান, আমি সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্যদের সব চাইতে বেশি প্রকল্প দিয়েছি, আমার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি যদি দীর্ঘ সময় নিয়ে দেশের বাহিরে যাই, তখন হয়তো প্যানেল চেয়ারম্যানের বিষয়টি বিবেচনায় আসবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিল্টন দস্তিদার জানান, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মহিলা মেম্বাররা যে অভিযোগ করেছেন, ওই প্রকল্পের প্রথমে বিল উত্তোলন করে তাদেরকে কিছু টাকা দেওয়া হয়েছে, পরবর্তিতে বাকি বিল উত্তোলন করে হয়তো মহিলা মেম্বারদেকে টাকা দেওয়া হয়নি। প্রকল্পের সভাপতি ছাড়া অন্য কাউকে বিল প্রদানের কোনো নিয়ম আছে কি প্রশ্নের জবাবে তিনি বক্তব্য দিতে রাজী হয়নি। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিউলী হরি জানান, লিখিত বক্তব্য হাতে পাইনি, পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।