বরিশালে শেবাচিম হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ, তদন্ত ও শাস্তির দাবি
বরিশালে শেবাচিম হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ, তদন্ত ও শাস্তির দাবি
বরিশাল ব্যুরো:
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে সিজারের জন্য ভর্তি হওয়া এক প্রসূতির চিকিৎসায় চরম অবহেলা, আয়াদের দিয়ে জোরপূর্বক প্রসব করানো এবং ভুল চিকিৎসায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আজ (২৮ অক্টোবর ২০২৬) হাসপাতালের পরিচালক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী বাবা মো. জামাল হাওলাদার।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল সদর থানার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা ভাষানী সড়কের বাসিন্দা জামাল হাওলাদারের স্ত্রী মনি (৪০) গর্ভধারণের পর থেকেই নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। সব পরীক্ষায় মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসক আগে থেকেই সিজারিয়ান অপারেশনের পরামর্শ দিয়েছিলেন।
গত ২৪ অক্টোবর সকালে প্রসবের সময় হলে রোগীকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকেলে আল্ট্রাসনোগ্রামসহ অন্যান্য পরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান মা ও শিশু সুস্থ আছে এবং তাদের বাসায় চলে যেতে বলেন। স্বজনরা সিজারের অনুরোধ করলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাতে রাজি হয়নি।
পরবর্তীতে ওই দিন রাতেই প্রসূতির তীব্র প্রসব বেদনা উঠলে রাত সাড়ে ১১টায় তাকে আবারও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জামাল হাওলাদার অভিযোগ করেন, রাত ৩টার দিকে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের বারবার ডাকা হলেও তারা আসেননি। উল্টো নার্স সুপারভাইজার স্বজনদের সাথে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করেন।
একপর্যায়ে কোনো চিকিৎসক বা নার্স ছাড়াই হাসপাতালের ৩ জন মেডিকেল আয়া মিলে জোরপূর্বক প্রসব করান। এতে প্রসূতি ও নবজাতক দুজনেই গুরুতর জখম হন। প্রসবের পর আয়াদের অসাবধানতায় প্রসূতির শরীরে ১৪টি সেলাই দিতে হয়। আরও অভিযোগ রয়েছে, সন্তান প্রসবের পর বকশিসের টাকার জন্য আয়ারা নবজাতককে প্রায় ৩০ মিনিট আটকে রাখে। পরবর্তীতে ১৫০০ টাকা দেওয়ার পর তারা শিশুকে স্বজনদের হাতে তুলে দেয়।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, শিশুটিকে পাওয়ার পরপরই চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি জানান, নবজাতকটি গুরুতর অসুস্থ ও ইনজুরড। পরে তাকে দ্রুত নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একদিন পর শিশুটি মারা যায়।
সন্তান হারিয়ে নির্বাক বাবা জামাল হাওলাদার এই নির্মম ও অমানবিক ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে কর্তব্যকাজে অবহেলাকারী চিকিৎসক, নার্স এবং অনৈতিকভাবে ডেলিভারি করানো আয়াদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin
কমেন্ট বক্স