জবিতে এবার খেলাফত ছাত্র মজলিসের উদ্যোগে গরুভোজ, থাকছে কাওয়ালি সন্ধ্যা
জবিতে এবার খেলাফত ছাত্র মজলিসের উদ্যোগে গরুভোজ, থাকছে কাওয়ালি সন্ধ্যা
জবি প্রতিনিধি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) পশু জবাই থেকে বিরত থাকার প্রশাসনিক নির্দেশনার প্রতিবাদে শুক্রবারের পর এবার শনিবার গরুভোজের আয়োজন করছে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস। এতে গরুর মাংসের তেহারি বিতরণের পাশাপাশি সন্ধ্যায় কাওয়ালি অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে গরু জবাইয়ের কথা জানিয়েছেন আয়োজকেরা। বিকেল সাড়ে ৩টায় কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তেহারি বিতরণ করা হবে। আয়োজক সংগঠনটির পক্ষ
থেকে জানানো হয়েছে, কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য জনপ্রতি ৪০ টাকা নিবন্ধন ফি নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৮০ হাজার টাকায় একটি গরু কেনা হয়েছে। ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য খাসির মাংসের ব্যবস্থা করারও চেষ্টা চলছে। খাসি পাওয়া না গেলে বিকল্প হিসেবে খাসির কাচ্চি সরবরাহ করা হবে। বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যসচিব ওবায়দুল ইসলাম বলেন, "আমরা জবি ক্যাম্পাসে সবার মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক চাই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনার প্রতিবাদে আগামীকাল গরু জবাই করে ভোজের ব্যবস্থা করব। অন্য ধর্মের ভাইদের জন্যও খাসির ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি। খাসি না পাওয়া গেলে তাদের জন্য খাসির কাচ্চির ব্যবস্থা করা হবে।" বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে এ আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে সন্ধ্যায় কাওয়ালি অনুষ্ঠানের আয়োজনের কথাও নিশ্চিত করেন। এদিকে প্রথমে আপত্তি জানালেও পরে শর্তসাপেক্ষে কর্মসূচির অনুমতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান বলেন, "আজ শিক্ষার্থীরা গরুভোজ করেছে। এতে আমাদের আপত্তি থাকলেও আজকের পরিবেশ যথেষ্ট ভালো ছিল এবং সবকিছু সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল খেলাফত ছাত্র মজলিস আবারও গরুভোজ করতে চাচ্ছে। আমরা প্রথমে অনুমতি দিতে চাইনি। তবে সংগঠনটির নেতা মামুনুর রশিদ উপাচার্যকে ফোন করে অনুরোধ করেছেন। পরে শর্ত সাপেক্ষে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।" তিনি আরও জানান, "শুক্রবারের কর্মসূচি যে স্থানে অনুষ্ঠিত হয়েছে, শনিবারও একই স্থানে আয়োজন করতে হবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।" উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সব ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনুরোধ জানানো হয়। ওই নির্দেশনার প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবন ও গণিত বিভাগের মধ্যবর্তী সড়কে গরু জবাই করেন শিক্ষার্থীরা।
পরে গরু ও খাসির মাংস দিয়ে ভোজের আয়োজন করা হয়। এর এক দিন পর একই দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করল বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স