বাংলাদেশ ১২:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :

সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,, সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,,০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০, ০১৭১২-৪৪৬৩০৬,০১৭১১-০০৬২১৪ সম্পাদক

     
ব্রেকিং নিউজ ::
মুন্সীগঞ্জ সদর ইউএনওর চরডুমুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন সন্ধ্যার মধ্যে উপাচার্য, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসভবন ছাড়ার আল্টিমেটাম কুবি শিক্ষার্থীদের রাবিতে জড়ো হওয়া আন্দোলনকারীদের পুলিশ-বিজিবির ধাওয়া মেহেন্দিগঞ্জে অজ্ঞাতনামা নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার। মুন্সীগঞ্জে গায়েবানা জানাযা থেকে ঈমাম ও বিএনপি নেতাকে ধরে নিয়ে গেলো পুলিশ কোটা আন্দোলনের পক্ষে সংহতি জানিয়ে ফেনী ইউনিভার্সিটির বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিবৃতি চলমান পরিস্থিতিতে রাবি ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি আপাতত স্থগিত: উপাচার্য বিদেশের পাঠানো টাকা চাইতে গিয়ে বিপাকে প্রবাসী স্বামী রাজশাহীতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র আশুরা পালিত চট্রগ্রামের কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত ওয়াসিমের জানাজায় মানুষের ঢল পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌরসভার রাস্তায় সমবায় সমিতি ভবনের ট্যাংকির ময়লা: জনদুর্ভোগ মুন্সীগঞ্জে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উপর হামলা, আহত ৫ হরিপুরে, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এর পক্ষ থেকে কর্মী মিটিং ও গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত। গৌরীপুরে উদীচী কার্য়ালয়ে হামলা ও ভাংচুর স্ত্রীর যৌতুক মামলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কারাগারে

সেই কোন শৈশবে বাবার হাত ধরে ‘দৈনিক পাকিস্তান’ দিয়ে পত্রিকার হকারি জীবনের শুরু।

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:৩৩:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ এপ্রিল ২০২২
  • ১৭০১ বার পড়া হয়েছে

সেই কোন শৈশবে বাবার হাত ধরে ‘দৈনিক পাকিস্তান’ দিয়ে পত্রিকার হকারি জীবনের শুরু।

সাইফুর নিশাদ নরসিংদী প্রতিনিধি 
আজ ৫৭ বছর ধরে আছেন সেই একই পেশায়। সাইকেলে করে ঘুরে ঘুরে আগের মতোই পত্রিকা পৌঁছে দেন অফিসে অফিসে, মানুষের বাড়িতে বাড়িতে।
নরসিংদীর মনোহরদী পৌর এলাকার হাররদীয়া গ্রামের বাসিন্দা মতিউর রহমান। বয়স ৭০। স্থানীয়ভাবে সবাই তাকে হকার মতি হিসেবেই চেনেন।
আলাপকালে মতি ভাই জানান, বাবার হাত ধরে ‘দৈনিক পাকিস্তান’ ও ‘অবজারভার’ দিয়ে তার পত্রিকা ব্যবসার শুরু। মতি ভাইয়ের ভাষায়, পাক-ভারত যুদ্ধের সময় (৬৫ সাল) থেকে তিনি এ ব্যবসায় আছেন। তিনি তখন ১৩ কিলোমিটার দূরের শিবপুর থেকে সাইকেলে করে পত্রিকা আনতেন। আবার সাইকেলে করেই পাঠকদের বাড়ি ও অফিসে পৌঁছে দিতেন পত্রিকা। তার ব্যবসার গন্ডি একসময় মনোহরদী ছাড়িয়ে কাপাসিয়া উপজেলারও এক বিস্তীর্ণ গন্ডি পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিলো।
গল্পে গল্পে মতি ভাই জানান, আগের দিনের পত্রিকা পরের দিন আসতো। তা’ও মাত্র ২০টি পত্রিকা। সেও আবার নিজের নামে নয়- শিবপুরের খালেক মাস্টারের নামে। সেখান থেকে পত্রিকা এনে বিক্রি করতেন তিনি। পরে নিজে এজেন্ট হন। পাশাপাশি ডাক বিভাগের রানার পদে চাকরি নেন।
১৩ কিলোমিটার দূরবর্তী শিবপুর থেকে সাইকেল চালিয়ে পত্রিকা আনতে যেতেন। সেইসঙ্গে আবার ডাক আনানেয়ার কাজও করতে হতো প্রতিদিন। এভাবে প্রত্যহ শিবপুর যাতায়াত করতে হতো তাকে। আবার সাইকেলে করে ঘুরে ঘুরে পত্রিকাও পৌঁছে দিতে হতো পাঠকদের হাতে হাতে। এ কাজে তাকে যেমন মনোহরদী সদরের এ বাড়ি- ও বাড়ি, এ অফিস- ও অফিস যেতে হতো, তেমনি কাপাসিয়া এলাকার খিরাটি, কামারগাঁও, চালা, ঘোরস্বাব ও আড়াল এলাকায়ও যাতায়াত করতে হতো। আর তা’ও মাঝেমধ্যে কিংবা কখনো-সখনো নয়, একেবারে নিয়মিত এবং প্রতিদিন।
মতিভাই জানান, এজন্য কম করে হলেও প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার রাস্তা সাইকেল চালাতো হতো তাকে। পরে এ ব্যবসায় ছেলে আলমও সহায়তা করতো তাকে। এ কাজে রোদ-বৃষ্টি-ঝড় কোনটাকেই ভয় পেলে চলতো না তার।
মতি ভাই ডাক বিভাগের চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন সেও আজ প্রায় ১০ বছর। কিন্তু এখনো তিনি সাইকেলে করে পত্রিকা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন আগের মতোই। এখনো এলাকাবাসীসহ মনোহরদীর সরকারি-বেসরকারি অধিকাংশ অফিসই আছে এ পুরনো সংবাত্রসেবীর দখলেই।
আলাপকালে মতি ভাই আরও জানান, কালের পরিবর্তনে এ ব্যবসায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। খুব কম সংবাদপত্রসেবীই এখন আর আগের মতো সাইকেলে করে পত্রিকা বিতরণ করে থাকেন। এখন অধিকাংশেরই মোটরসাইকেল আছে। কিন্তু মতি ভাই আছেন আগের মতোই।
কিন্তু আর কতোদিন এভাবে চলবে তার- জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিশ্রম করে সারা জীবন গেছে। এখন আর বসে বসে খেতে ভালো লাগে না। যতোদিন শরীর-স্বাস্থ্যে কুলোয়, ততোদিনই এ ব্যবসা চালিয়ে যাবার ইচ্ছে। আর তা আগের মতোই সাইকেলে করে ঘুরে ঘুরেই।
জনপ্রিয় সংবাদ

মুন্সীগঞ্জ সদর ইউএনওর চরডুমুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন

সেই কোন শৈশবে বাবার হাত ধরে ‘দৈনিক পাকিস্তান’ দিয়ে পত্রিকার হকারি জীবনের শুরু।

আপডেট সময় ০২:৩৩:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ এপ্রিল ২০২২
সাইফুর নিশাদ নরসিংদী প্রতিনিধি 
আজ ৫৭ বছর ধরে আছেন সেই একই পেশায়। সাইকেলে করে ঘুরে ঘুরে আগের মতোই পত্রিকা পৌঁছে দেন অফিসে অফিসে, মানুষের বাড়িতে বাড়িতে।
নরসিংদীর মনোহরদী পৌর এলাকার হাররদীয়া গ্রামের বাসিন্দা মতিউর রহমান। বয়স ৭০। স্থানীয়ভাবে সবাই তাকে হকার মতি হিসেবেই চেনেন।
আলাপকালে মতি ভাই জানান, বাবার হাত ধরে ‘দৈনিক পাকিস্তান’ ও ‘অবজারভার’ দিয়ে তার পত্রিকা ব্যবসার শুরু। মতি ভাইয়ের ভাষায়, পাক-ভারত যুদ্ধের সময় (৬৫ সাল) থেকে তিনি এ ব্যবসায় আছেন। তিনি তখন ১৩ কিলোমিটার দূরের শিবপুর থেকে সাইকেলে করে পত্রিকা আনতেন। আবার সাইকেলে করেই পাঠকদের বাড়ি ও অফিসে পৌঁছে দিতেন পত্রিকা। তার ব্যবসার গন্ডি একসময় মনোহরদী ছাড়িয়ে কাপাসিয়া উপজেলারও এক বিস্তীর্ণ গন্ডি পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিলো।
গল্পে গল্পে মতি ভাই জানান, আগের দিনের পত্রিকা পরের দিন আসতো। তা’ও মাত্র ২০টি পত্রিকা। সেও আবার নিজের নামে নয়- শিবপুরের খালেক মাস্টারের নামে। সেখান থেকে পত্রিকা এনে বিক্রি করতেন তিনি। পরে নিজে এজেন্ট হন। পাশাপাশি ডাক বিভাগের রানার পদে চাকরি নেন।
১৩ কিলোমিটার দূরবর্তী শিবপুর থেকে সাইকেল চালিয়ে পত্রিকা আনতে যেতেন। সেইসঙ্গে আবার ডাক আনানেয়ার কাজও করতে হতো প্রতিদিন। এভাবে প্রত্যহ শিবপুর যাতায়াত করতে হতো তাকে। আবার সাইকেলে করে ঘুরে ঘুরে পত্রিকাও পৌঁছে দিতে হতো পাঠকদের হাতে হাতে। এ কাজে তাকে যেমন মনোহরদী সদরের এ বাড়ি- ও বাড়ি, এ অফিস- ও অফিস যেতে হতো, তেমনি কাপাসিয়া এলাকার খিরাটি, কামারগাঁও, চালা, ঘোরস্বাব ও আড়াল এলাকায়ও যাতায়াত করতে হতো। আর তা’ও মাঝেমধ্যে কিংবা কখনো-সখনো নয়, একেবারে নিয়মিত এবং প্রতিদিন।
মতিভাই জানান, এজন্য কম করে হলেও প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার রাস্তা সাইকেল চালাতো হতো তাকে। পরে এ ব্যবসায় ছেলে আলমও সহায়তা করতো তাকে। এ কাজে রোদ-বৃষ্টি-ঝড় কোনটাকেই ভয় পেলে চলতো না তার।
মতি ভাই ডাক বিভাগের চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন সেও আজ প্রায় ১০ বছর। কিন্তু এখনো তিনি সাইকেলে করে পত্রিকা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন আগের মতোই। এখনো এলাকাবাসীসহ মনোহরদীর সরকারি-বেসরকারি অধিকাংশ অফিসই আছে এ পুরনো সংবাত্রসেবীর দখলেই।
আলাপকালে মতি ভাই আরও জানান, কালের পরিবর্তনে এ ব্যবসায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। খুব কম সংবাদপত্রসেবীই এখন আর আগের মতো সাইকেলে করে পত্রিকা বিতরণ করে থাকেন। এখন অধিকাংশেরই মোটরসাইকেল আছে। কিন্তু মতি ভাই আছেন আগের মতোই।
কিন্তু আর কতোদিন এভাবে চলবে তার- জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিশ্রম করে সারা জীবন গেছে। এখন আর বসে বসে খেতে ভালো লাগে না। যতোদিন শরীর-স্বাস্থ্যে কুলোয়, ততোদিনই এ ব্যবসা চালিয়ে যাবার ইচ্ছে। আর তা আগের মতোই সাইকেলে করে ঘুরে ঘুরেই।