জামিন পেলেন পরীমনি
নিজস্ব প্রতিবেদক
মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় শুনানি শেষে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় পরীমনির জামিন বাতিল করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন আদালত।
ওই দিন পরীমনির আইনজীবী সময়ের আবেদন জানিয়ে আদালতকে জানান, অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে তিনি হাজির হতে পারেননি। অন্যদিকে, বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
পরোয়ানা জারির পরদিন সকালে ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়ে আদালতে হাজির হন পরীমনি। এ সময় তাঁকে আদালত প্রাঙ্গণে একটি সাদা গাড়িতে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তাঁর উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়লে আদালত এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা এ মামলায় পরীমনিসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। সেদিনও তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।
মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পরীমনি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করে। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বোট ক্লাবের তৎকালীন সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। অপর দুই আসামি হলেন ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, সাভারের বোট ক্লাবে গিয়ে পরীমনি ও তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে বাদীর বিরোধ হয়। একপর্যায়ে তাঁকে গালমন্দ ও মারধর করা হয় এবং একটি সার্ভিং গ্লাস ও মোবাইল ফোন ছুড়ে মারা হয়। এতে তাঁর মাথা ও বুকে আঘাত লাগে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্লাবে ভাঙচুর ও হত্যার হুমকির অভিযোগও আনা হয়।
তবে মামলার এসব অভিযোগ বিচারাধীন এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমে এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।