শেরপুরে ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে ডে'ঙ্গু ও হাম ; হামে এখন পর্যন্ত মৃ'ত্যু ৪
শেরপুরে ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে ডে'ঙ্গু ও হাম ; হামে এখন পর্যন্ত মৃ'ত্যু ৪
মোঃ ওসমান গনি শেরপুর জেলা প্রতিনিধি,
সারাদেশের মতো সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরেও বেড়েই চলেছে ডেঙ্গু ও হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। ইতিমধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বেড ও ঔষধ সরবরাহ সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভর্তি থাকা রোগী ও তাদের স্বজনেরা। তবে রোগীদের প্রতি সঠিক চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহের কথা জানালেন হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক। যেকোন সংকট সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি। শেরপুর জেলা প্রতিনিধি শেখ রিয়াজ এর পাঠানো তথ্য ও চিত্রে বিস্তারিত ডেস্ক রিপোর্ট। প্যাকেজ: শেরপুর ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু ও হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।
হাসপাতালের মেডিসিন, শিশু ও ডেঙ্গু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। বর্তমানে শুধু ডেঙ্গু পজিটিভ রোগী ভর্তি আছেন ৪৬ জনেরও বেশি। এছাড়া ডেঙ্গু ও হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরও প্রায় ৬৫ জন। হামের ১৫ বেড ও ডেঙ্গুর ২৬ বেডের বিপরীতে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক রোগী ভর্তি থাকায় তিল ধারণের ঠাঁই নেই ভবনজুড়ে। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত সেবা ও ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। মেঝোজুড়ে গাদাগাদি করে চিকিৎসা চলায় ছড়িয়ে পড়ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মশারি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকলেও, মশারি না পেয়ে খোলামেলা বারান্দায় ঝুঁকি নিয়ে দিন পার করছেন অনেকে। অন্যদিকে শতাধিক ভর্তি রোগীর সেবায় নিয়োজিত মাত্র দুজন নার্স, যা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল। হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনেররা
ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ডাক্তার পাই না, ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। বারান্দায় মশারি ছাড়া মশার কামড়ে শুয়ে থাকা লাগে, কোনো নার্সও টাইমমতো আসে না।" ভক্সপপ : ১ হাসপাতালে ভর্তি ও তাদের স্বজনেরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, জেলায় এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।তবে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কেউ মারা যায়নি। চিকিৎসকদের মতে, আক্রান্তদের বড় একটি অংশই রাজধানী ঢাকা কিংবা বাহিরের জেলা থেকে ডেঙ্গু নিয়ে শেরপুরে এসেছেন। তবে স্থানীয়ভাবেও বাড়ছে সংক্রমণ। চিকিৎসক ও জনবলসংকটে সেবা দিতে চরম হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল প্রশাসন। "এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত হয়ে আলাদা আলাদা প্রায় শতাধিকের মতো রোগী ভর্তি আছে। হাসপাতাল থেকে সাধ্যমতো সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই বাইরের জেলা থেকে এলেও শেরপুরের ভেতরেও ডেঙ্গু সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে।" সট-১ ডা. মো. সাজ্জাৎ হাসান তত্ত্বাবধায়ক, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল।
পেঅফ: স্বল্প লোকবল ও ধারণক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি রোগী নিয়ে দিশেহারা শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল। দ্রুত পর্যাপ্ত জনবল ও ডেঙ্গু-হাম প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্কা সচেতন মহলের।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স