ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ , ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মসজিদে হোয়াটসঅ্যাপ-ফেসবুক ব্যবহার জায়েজ কিনা, জানালেন আলেম

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-১০-১৫ ২০:৫৬:১৬
মসজিদে হোয়াটসঅ্যাপ-ফেসবুক ব্যবহার জায়েজ কিনা, জানালেন আলেম মসজিদে হোয়াটসঅ্যাপ-ফেসবুক ব্যবহার জায়েজ কিনা, জানালেন আলেম

নিজস্ব প্রতিবেদক

মসজিদে মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে গুনাহ হবে কি না, তা নির্ভর করে ব্যবহারের ধরন ও উদ্দেশ্যের ওপর। প্রয়োজনীয় কাজে ফোন ব্যবহার করা গেলেও অপ্রয়োজনে বিনোদনে ব্যস্ত থাকা বা অন্য মুসল্লিদের ইবাদতে বিঘ্ন ঘটানো থেকে বিরত থাকা উচিত বলে জানিয়েছেন আলেমরা।

 

ঢাকার মোহাম্মদপুরের দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার মুফতি ও মুহাদ্দিস আব্দুল কাইয়ুম বলেন, মসজিদ আল্লাহ তাআলার ঘর এবং পবিত্র ইবাদতগাহ। এটি আল্লাহর ইবাদত, জিকির ও দ্বীনি আমলের জন্য নির্ধারিত। তাই মসজিদের আদব ও সম্মান রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।

 

তিনি বলেন, মসজিদের আদব বজায় রেখে একান্ত প্রয়োজনীয় ও বৈধ কাজে মোবাইল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অপ্রয়োজনে ফোন ব্যবহার, খেলাধুলা বা বিনোদনে ব্যস্ত থাকা এবং এমনভাবে ছবি-ভিডিও দেখা, যাতে অন্য মুসল্লিদের ইবাদতে ব্যাঘাত ঘটে, তা থেকে বিরত থাকা উচিত।

 

মসজিদে প্রবেশের আগে ফোন সাইলেন্ট করুন

সম্ভব হলে মসজিদে আসার আগে মোবাইল ফোন বাড়ি, অফিস বা দোকানে রেখে আসা ভালো। তা সম্ভব না হলে মসজিদে প্রবেশের আগেই ফোন বন্ধ করে দেওয়া অথবা সাইলেন্ট মোডে রাখা উচিত। রিংটোন ও মেসেজের অ্যালার্টে গান-বাজনা বা শরিয়তবিরোধী শব্দ ব্যবহার থেকেও বিরত থাকতে হবে।

 

মসজিদে ফোন এলে করণীয়

জরুরি ফোন এলে যথাসম্ভব মসজিদের বাইরে গিয়ে কথা বলা উচিত। বাইরে যাওয়া সম্ভব না হলে নিরিবিলি স্থানে নিচু স্বরে ও সংক্ষেপে কথা বলা যেতে পারে। তবে জামাতের সময় কিংবা অন্য মুসল্লিরা ইবাদতে মগ্ন থাকলে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কারও নামাজ বা ইবাদতে ব্যাঘাত না ঘটে।

 

হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে একান্ত প্রয়োজনীয় বার্তা আদান-প্রদান করা যেতে পারে। তবে অপ্রয়োজনীয় মেসেজ, অনৈতিক বিষয়বস্তু দেখা কিংবা অন্যের মনোযোগ নষ্ট হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত।

একইভাবে মসজিদে ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অপ্রয়োজনে ব্যবহার করা ঠিক নয়। বিশেষ করে বিনোদনমূলক ভিডিও দেখা বা অনর্থক কাজে সময় কাটানোর পরিবর্তে ইবাদত ও জিকিরে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

মোবাইলের ওয়ালপেপারে মানুষ বা প্রাণীর ছবি থাকলে এ বিষয়ে ধর্মীয় বিধান জানতে নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

 

মসজিদে মোবাইল ব্যবহারের মূলনীতি

মসজিদে মোবাইল ব্যবহার করলেই তা গুনাহ হয়ে যায়, এমন নয়। বরং ফোনটি কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এর কারণে অন্য মুসল্লিদের ইবাদতে ব্যাঘাত ঘটছে কি না, তা বিবেচ্য। প্রয়োজনীয় ও বৈধ কাজে মসজিদের আদব বজায় রেখে ফোন ব্যবহার করা যেতে পারে। অন্যদিকে, অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার ও ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি করে এমন কাজ থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসল্লির দায়িত্ব।

 



নিউজটি আপডেট করেছেন : News Room 3

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ