ঢাকা , শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ , ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্যান্সার, হৃদরোগ ও ডেঙ্গু রোগীদের জীবন রক্ষাকারী ফল নাগালের বাইরে

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-১০-১৫ ১৩:৩৯:৩২
ক্যান্সার, হৃদরোগ ও ডেঙ্গু রোগীদের জীবন রক্ষাকারী ফল নাগালের বাইরে ক্যান্সার, হৃদরোগ ও ডেঙ্গু রোগীদের জীবন রক্ষাকারী ফল নাগালের বাইরে
নিজস্ব প্রতিবেদক

বুড়িচংয়ে ফলের বাজারে আগুন, চরম দুর্ভোগে মুমূর্ষু রোগীদের পরিবার মোঃ আবদুল্লাহ বুড়িচং (কুমিল্লা) কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিভিন্ন বিদেশি ও দেশি ফলের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে অনেক ফল। বিশেষ করে ক্যান্সার রোগী, প্রেসারের রোগী, হার্টের রোগী, ডায়াবেটিস রোগী ও ডেঙ্গু জ্বরের রোগীর জন্য এই সমস্ত ফল অতি জরুরি প্রয়োজন হয়, কিন্তু মানুষ এগুলো কিনতে পারছে না। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পৌরসভার বাজার,

ভরাসার বাজার, কংশনগর বাজার, ময়নামতি বাজার, দেবপুর বাজার সরেজমিনে ঘুরে ফলের দামে উর্ধ্বগতির এই ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি বিদেশি কমলা ৪০০ টাকা, মাল্টা ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা, আপেল ৩২০থেকে ৩৫০ টাকা, আঙুর ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা, বেদানা বা আনার ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, নাসপাতি ৩০০- ৩৫০ টাকা, পাকা পেঁপে ১০০ টাকা কেজি , ড্রাগন ফল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, পেয়ারা কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা , আনারস প্রতি পিস ৯০ টাকা, কাটিমন আম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা এবং তরমুজ ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি পিস ডাব বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায়। কংশনগর বাজারের ফল ব্যবসায়ী সালাম মিয়া বলেন, এ বছর ফলের দাম বেশি। মোকামেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। দাম কম থাকলে বেচাকেনা ভালো হয়, লাভও ভালো হয়। এত বেশি দামে ফল কিনে বিক্রি না হলে পচে যায়। ফলে অনেক সময় লোকসানে পড়তে হয়। ময়নামতি বাজারের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, আগে দিনে ২ মণ আপেল-কমলা বিক্রি করতাম, এখন ১মণ বিক্রি হয় না। মানুষ দাম শুনে চলে যায়।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছরের তুলনায় এবার মোকামেই ফলের দাম বেশি। ডলারের দাম বেশি, আমদানি খরচ বেশি, পরিবহন খরচ বেশি। তার ওপর ৫ আগস্টের পর থেকে ব্যবসায় মন্দা। ফলে বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। কংশনগর গৃহিণী নাসরিন আক্তার (৪০) কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার স্বামী ক্যান্সারের রোগী। ডাক্তার বলেছে প্রতিদিন আপেল, মাল্টা, বেদানা, আঙুর খাওয়াতে। বাজারে এসে দেখি আপেল ৩৫০ টাকা, বেদানা ৪০০-৪৫০ টাকা। আমার স্বামী গার্মেন্টসে কাজ করতো, এখন বেকার। ৮ হাজার টাকায় সংসার চলে না। আমি কেমনে এই ফল কিনমু? দেবপুর অটো চালক জালাল (৪৫) বলেন, আমার মায়ের হার্টের রোগ, প্রেসার বেশি। ডাক্তার বলেছে ডাবের পানি, পেঁপে, পেয়ারা খাওয়াতে। ডাব ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা পিস! আগে ৮০-১০০ টাকায় ডাব কিনতাম। এখন ৪০০ টাকা ইনকামে কেমনে ১৫০ টাকা দিয়া ডাব কিনমু? মা'রে কি বিনা চিকিৎসায় মারমু? রাইস মিলের শ্রমিক শিপন আরা (৪০) বলেন, আমার ছেলের ডেঙ্গু হয়েছে। ডাক্তার বলেছে বেশি বেশি মাল্টা, কমলার জুস, ডাবের পানি খাওয়াতে। বাজারে মাল্টা ৩২০-৩৫০ টাকা কেজি। আমার বেতন ৮ হাজার টাকা, ওভারটাইম নাই। আমি কেমনে কিনমু? আমার বুক ফাইটা যায়।

ভরাসার কুলসুম আক্তার (৩৬) বলেন, আমার বাচ্চার ডেঙ্গু, প্লাটিলেট কমে গেছে। ডাক্তার বলেছে ডাব, পেঁপে, মাল্টা খাওয়াতে। ডাব ১৫০ টাকা! ৩টা ডাব কিনলে ৪৫০ টাকা। আমার স্বামী অসুস্থ, আমি বাসায় কাজ করি।

এত টাকা কই পামু? বুড়িচংয়ের হাট-বাজারগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হোক। হতদরিদ্র রোগীদের জন্য বিশেষ ভর্তুকিতে ফল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।


নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ