বাংলাদেশ ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :

সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,, সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,,০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০, ০১৭১২-৪৪৬৩০৬,০১৭১১-০০৬২১৪ সম্পাদক

     
ব্রেকিং নিউজ ::
জবিতে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও প্রজন্মের নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ  মুলাদীতে নিজস্ব অর্থায়নে সামাজিক উন্নয়ন করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন ইউপি সদস্য ইরান হোসেন॥ ভালুকায় প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সাংবাদিক জিগারুল ইসলাম রাঙ্গুনিয়ার মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসার সভাপতি নির্বাচিত। পার্বতীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বিশিষ্ট সাংবাদিক আতিকুর রহমান আতিকের জোর তৎপরতা॥ ফুলবাড়ীতে কুকুরের কামড়ে ৮টি ছাগলে মৃত্যু বদলগাছীতে অভিনব কায়দায় লুকায়িত ৭২ কেজি গাঁজা উদ্ধার গ্রেফতার-১  ভালুকায় যুবলীগ নেতাকে ফাসানোর চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত  রাবির ভোলা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির নেতৃত্বে জুলিয়া-মমিন বুড়িচংয়ে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা  শিক্ষার্থীদের অনলাইন সেবা দিতে আমতলী সোনালী ব্যাংকের চুক্তিপত্র স্বাক্ষর রাবি ফটোগ্রাফিক ক্লাবের সভাপতি রেজওয়ান, সম্পাদক নাজমুল কার মদদে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ ট্রলি?রামগঞ্জে নিষিদ্ধ ট্রাক্টরের দাপট বিলিন হচ্ছে ফসলি জমি প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক ভূষিত হলেন গলাচিপা থানার ওসি ফেরদৌস খান গৌরীপুর উপজেলা সিপিবি’র সম্মেলনে নতুন কমিটি গঠন

মাদ্রাসা ছাত্র তাওহীদকে অপহরণ করে হত্যার পর সেপ্টিক ট্যাংকে লাশ গুমের পরও মুক্তিপণের টাকা সহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০।

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৩:৩৭:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • ১৬০৬ বার পড়া হয়েছে

মাদ্রাসা ছাত্র তাওহীদকে অপহরণ করে হত্যার পর সেপ্টিক ট্যাংকে লাশ গুমের পরও মুক্তিপণের টাকা সহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০।

 

 

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

চাঞ্চল্যকর মাদ্রাসা ছাত্র তাওহীদ ইসলামকে অপহরণ করে হত্যার পর সেপ্টিক ট্যাংকে লাশ গুমের পরও মুক্তিপণের টাকা আদায়ের মূল পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকারীকে মুক্তিপণের টাকা সহ রাজধানীর শ্যামপুর এলাকা হতে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০।

র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভিন্ন ধরণের অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। র‌্যাবের সৃষ্টিকাল থেকে অদ্যাবধি জঙ্গি, মাদক, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, অপহরণকারী, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ ও প্রতারকচক্র গ্রেফতারে সদা তৎপর রয়েছে। এছাড়াও সা¤প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনার সাথে জড়িত আসামিদের দ্রæততম সময়ের মধ্যে আটক করে আইনের আওতায় এনে সাধারণ জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে র‌্যাব।

যেখানেই মানবাধিকার লুণ্ঠিত হয়েছে, নির্যাতন অথবা অপহরণের কোন ঘটনা ঘটেছে, র‌্যাব তৎক্ষণাৎ ভিকটিম অথবা নির্যাতিতার পাশে দাঁড়িয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত আসামিদের দ্রæততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছে।

 

গত ১০ ফেব্রæয়ারি ২০২৪ তারিখ রাতে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর এলাকার রসুলপুর জামি’আ ইসলামিয়া মাদরাসা ও এতিমখানায় নাজেরা বিভাগে অধ্যয়নরত মাদ্রাসাছাত্র মোঃ তাওহীদ ইসলাম (১০) নিখোঁজ হয়।

পরবর্তীতে ভিকটিমের পরিবারের লোকজন সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজাখুজি করতে থাকেন। খোঁজাখুজির এক পর্যায় ঐদিন রাত আনুমানিক ০৯:২০ ঘটিকায় অজ্ঞাত একজন ব্যক্তি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ফোন করে জানায় যে, সে ভিকটিম তাওহীদকে অপহরণ করেছে এবং মুক্তিপন হিসেবে ৩,০০,০০০/- (তিন লক্ষ) টাকা দাবী করে।

পরবর্তীতে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করে; যার মামলা নং-৩৩/৯৫ তারিখ ১১ ফেব্রæয়ারি ২০২৪। পরবর্তীতে ভিকটিমের মা তার ছেলেকে উদ্ধারে র‌্যাবের নিকটও অভিযোগ দায়ের করেন। উক্ত অপহৃত ভিকটিম’কে উদ্ধার ও অপহরণকারীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে র‌্যাব।

এরই ধারাবাহিকতায় গত রাতে র‌্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানী কেরাণীগঞ্জের পোস্তগোলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চাঞ্চল্যকর মাদরাসা ছাত্র মোঃ তাওহীদ ইসলাম কে অপহরণ করে হত্যার পর সেপ্টিক ট্যাংকে লাশ গুমের পরও মুক্তিপণের টাকা আদায়ের মূল পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকারী মোঃ মকবুল হোসেন (৩৭), পিতা-আলী হোসেন, থানা-দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ, জেলা-ঢাকাকে গ্রেফতার করে। উদ্ধার করা মুক্তিপনের ২,৯০,০০০/- টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত উক্ত অপহরণ ও হত্যার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত মকবুল পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। ভিকটিমের পরিবার ও গ্রেফতারকৃত মকবুল একই এলাকায় বসবাস করতো এবং কিছুদিন পূর্বে গ্রেফতারকৃত মকবুল ভিকটিমের বাসায় রাজমিস্ত্রির কাজ করেছে বলে জানায়। একই এলাকায় বসবাস এবং বাসায় রাজমিস্ত্রির কাজ করার সুবাধে ভিকটিমের পরিবারের সাথে তার সুসম্পর্ক ছিল। ভিকটিম তাওহীদের বাবা একজন প্রবাসী। তাওহীদ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর এলাকার একটি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় নাজেরা বিভাগে পড়াশুনা করতো। যার ফলে সে সকালে মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে বাসা হতে বের হতো এবং বাসায় ফিরতে প্রায়ই সন্ধ্যা হয়ে যেতো।

গ্রেফতারকৃত মকবুল এর ধারণা ছিল যে, ভিকটিমের বাবা প্রবাসী তাই ভিকটিমকে অপহরণ করলে মোটা অংকের মুক্তিপন আদায় করা যাবে। এরই প্রেক্ষিতে গ্রেফতারকৃত মকবুল অল্পসময়ে অধিক অর্থ লাভের আশায় প্রায় ০৬ মাস যাবৎ ভিকটিমকে অপহরণের পরিকল্পনা করে আসছিল। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১০ ফেব্রæয়ারি ২০২৪ তারিখ গ্রেফতারকৃত মকবুল ভিকটিম তাওহীদ মাদ্রাসা থেকে বাড়ী ফেরার পথিমধ্যে ভিকটিমের বাড়ীর রাস্তার পাশে ওৎ পেতে থাকে।

এসময় ভিকটিম মাদ্রাসা থেকে আনুমানিক রাত ২০:৪০ ঘটিকার সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্র পূর্বহতে ওৎ পেতে থাকা গ্রেফতারকৃত মকবুল ভিকটিমের মুখ চেপে ধরে উক্ত এলাকার নিকটস্থ একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে তার হাত, পা ও মুখ বেধে রাখে।

পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত মকবুল পূর্বে ক্রয়কৃত তার মোবাইল কৌশলে ভিকটিমের বাসায় রেখে আসে। গ্রেফতারকৃত মকবুল ভিকটিমের বাসায় রেখে আসা মোবাইল ফোনে কল দিয়ে ভিকটিমকে অপহরণের বিষয়টি জানায় এবং ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

এসময় মুক্তিপণের টাকা না দিলে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিলে ভিকটিমকে হত্যা করবে বলে হুমকি প্রদান করে। পরবর্তীতে ভিকটিমের মুখের বাঁধন খুলে গেলে ভিকটিম ডাক-চিৎকার করলে গ্রেফতারকৃত মকবুল ক্ষিপ্ত হয়ে ভিকটিম তাওহীদের মুখ ও গলা মাফলার দিয়ে পেচিয়ে ধরে শ্বাসরোধ করে নৃশংসভাবে হত্যা করে এবং ভিকটিমের লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে উক্ত এলাকার নিকটস্থ একটি সেইফটি ট্যাংকের ভিতরে ফেলে রেখে দ্রæত ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায়।

গত ১১ ফেব্রæয়ারি ২০২৪ তারিখ সকালে গ্রেফতারকৃত মকবুল মুক্তিপণের টাকা নিয়ে প্রথমে আব্দুল্লাহপুর বাজারে, সেখান থেকে রাজেন্দ্রপুর, তারপর রসুলপুর আসতে বলে এভাবে ভিকটিমের মামাকে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাতে থাকে।

সর্বশেষ একই দিন আনুমানিক সকাল ১০:৩০ ঘটিকায় ভিকটিমের মামা গ্রেফতারকৃত মকবুলের কথা মত ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুরে ঢাকা-মাওয়া হাইওয়ের ফুটওভার ব্রিজের উপরে ৪নং পিলারের গোড়ায় নগদ-৩,০০,০০০/- (তিন লক্ষ) টাকা রেখে আসে।

পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত মকবুল মুক্তিপণের টাকা নিয়ে পোস্তগোলা এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করে। হোটেলে অবস্থাকালীন সময় র‌্যাব কর্তৃক গ্রেফতার হয়। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

 

 

আপলোডকারীর তথ্য

Banglar Alo News

hello
জনপ্রিয় সংবাদ

জবিতে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও প্রজন্মের নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ 

মাদ্রাসা ছাত্র তাওহীদকে অপহরণ করে হত্যার পর সেপ্টিক ট্যাংকে লাশ গুমের পরও মুক্তিপণের টাকা সহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০।

আপডেট সময় ০৩:৩৭:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

 

 

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

চাঞ্চল্যকর মাদ্রাসা ছাত্র তাওহীদ ইসলামকে অপহরণ করে হত্যার পর সেপ্টিক ট্যাংকে লাশ গুমের পরও মুক্তিপণের টাকা আদায়ের মূল পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকারীকে মুক্তিপণের টাকা সহ রাজধানীর শ্যামপুর এলাকা হতে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০।

র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভিন্ন ধরণের অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। র‌্যাবের সৃষ্টিকাল থেকে অদ্যাবধি জঙ্গি, মাদক, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, অপহরণকারী, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ ও প্রতারকচক্র গ্রেফতারে সদা তৎপর রয়েছে। এছাড়াও সা¤প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনার সাথে জড়িত আসামিদের দ্রæততম সময়ের মধ্যে আটক করে আইনের আওতায় এনে সাধারণ জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে র‌্যাব।

যেখানেই মানবাধিকার লুণ্ঠিত হয়েছে, নির্যাতন অথবা অপহরণের কোন ঘটনা ঘটেছে, র‌্যাব তৎক্ষণাৎ ভিকটিম অথবা নির্যাতিতার পাশে দাঁড়িয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত আসামিদের দ্রæততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছে।

 

গত ১০ ফেব্রæয়ারি ২০২৪ তারিখ রাতে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর এলাকার রসুলপুর জামি’আ ইসলামিয়া মাদরাসা ও এতিমখানায় নাজেরা বিভাগে অধ্যয়নরত মাদ্রাসাছাত্র মোঃ তাওহীদ ইসলাম (১০) নিখোঁজ হয়।

পরবর্তীতে ভিকটিমের পরিবারের লোকজন সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজাখুজি করতে থাকেন। খোঁজাখুজির এক পর্যায় ঐদিন রাত আনুমানিক ০৯:২০ ঘটিকায় অজ্ঞাত একজন ব্যক্তি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ফোন করে জানায় যে, সে ভিকটিম তাওহীদকে অপহরণ করেছে এবং মুক্তিপন হিসেবে ৩,০০,০০০/- (তিন লক্ষ) টাকা দাবী করে।

পরবর্তীতে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করে; যার মামলা নং-৩৩/৯৫ তারিখ ১১ ফেব্রæয়ারি ২০২৪। পরবর্তীতে ভিকটিমের মা তার ছেলেকে উদ্ধারে র‌্যাবের নিকটও অভিযোগ দায়ের করেন। উক্ত অপহৃত ভিকটিম’কে উদ্ধার ও অপহরণকারীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে র‌্যাব।

এরই ধারাবাহিকতায় গত রাতে র‌্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানী কেরাণীগঞ্জের পোস্তগোলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চাঞ্চল্যকর মাদরাসা ছাত্র মোঃ তাওহীদ ইসলাম কে অপহরণ করে হত্যার পর সেপ্টিক ট্যাংকে লাশ গুমের পরও মুক্তিপণের টাকা আদায়ের মূল পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকারী মোঃ মকবুল হোসেন (৩৭), পিতা-আলী হোসেন, থানা-দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ, জেলা-ঢাকাকে গ্রেফতার করে। উদ্ধার করা মুক্তিপনের ২,৯০,০০০/- টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত উক্ত অপহরণ ও হত্যার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত মকবুল পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। ভিকটিমের পরিবার ও গ্রেফতারকৃত মকবুল একই এলাকায় বসবাস করতো এবং কিছুদিন পূর্বে গ্রেফতারকৃত মকবুল ভিকটিমের বাসায় রাজমিস্ত্রির কাজ করেছে বলে জানায়। একই এলাকায় বসবাস এবং বাসায় রাজমিস্ত্রির কাজ করার সুবাধে ভিকটিমের পরিবারের সাথে তার সুসম্পর্ক ছিল। ভিকটিম তাওহীদের বাবা একজন প্রবাসী। তাওহীদ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর এলাকার একটি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় নাজেরা বিভাগে পড়াশুনা করতো। যার ফলে সে সকালে মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে বাসা হতে বের হতো এবং বাসায় ফিরতে প্রায়ই সন্ধ্যা হয়ে যেতো।

গ্রেফতারকৃত মকবুল এর ধারণা ছিল যে, ভিকটিমের বাবা প্রবাসী তাই ভিকটিমকে অপহরণ করলে মোটা অংকের মুক্তিপন আদায় করা যাবে। এরই প্রেক্ষিতে গ্রেফতারকৃত মকবুল অল্পসময়ে অধিক অর্থ লাভের আশায় প্রায় ০৬ মাস যাবৎ ভিকটিমকে অপহরণের পরিকল্পনা করে আসছিল। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১০ ফেব্রæয়ারি ২০২৪ তারিখ গ্রেফতারকৃত মকবুল ভিকটিম তাওহীদ মাদ্রাসা থেকে বাড়ী ফেরার পথিমধ্যে ভিকটিমের বাড়ীর রাস্তার পাশে ওৎ পেতে থাকে।

এসময় ভিকটিম মাদ্রাসা থেকে আনুমানিক রাত ২০:৪০ ঘটিকার সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্র পূর্বহতে ওৎ পেতে থাকা গ্রেফতারকৃত মকবুল ভিকটিমের মুখ চেপে ধরে উক্ত এলাকার নিকটস্থ একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে তার হাত, পা ও মুখ বেধে রাখে।

পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত মকবুল পূর্বে ক্রয়কৃত তার মোবাইল কৌশলে ভিকটিমের বাসায় রেখে আসে। গ্রেফতারকৃত মকবুল ভিকটিমের বাসায় রেখে আসা মোবাইল ফোনে কল দিয়ে ভিকটিমকে অপহরণের বিষয়টি জানায় এবং ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

এসময় মুক্তিপণের টাকা না দিলে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিলে ভিকটিমকে হত্যা করবে বলে হুমকি প্রদান করে। পরবর্তীতে ভিকটিমের মুখের বাঁধন খুলে গেলে ভিকটিম ডাক-চিৎকার করলে গ্রেফতারকৃত মকবুল ক্ষিপ্ত হয়ে ভিকটিম তাওহীদের মুখ ও গলা মাফলার দিয়ে পেচিয়ে ধরে শ্বাসরোধ করে নৃশংসভাবে হত্যা করে এবং ভিকটিমের লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে উক্ত এলাকার নিকটস্থ একটি সেইফটি ট্যাংকের ভিতরে ফেলে রেখে দ্রæত ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায়।

গত ১১ ফেব্রæয়ারি ২০২৪ তারিখ সকালে গ্রেফতারকৃত মকবুল মুক্তিপণের টাকা নিয়ে প্রথমে আব্দুল্লাহপুর বাজারে, সেখান থেকে রাজেন্দ্রপুর, তারপর রসুলপুর আসতে বলে এভাবে ভিকটিমের মামাকে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাতে থাকে।

সর্বশেষ একই দিন আনুমানিক সকাল ১০:৩০ ঘটিকায় ভিকটিমের মামা গ্রেফতারকৃত মকবুলের কথা মত ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুরে ঢাকা-মাওয়া হাইওয়ের ফুটওভার ব্রিজের উপরে ৪নং পিলারের গোড়ায় নগদ-৩,০০,০০০/- (তিন লক্ষ) টাকা রেখে আসে।

পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত মকবুল মুক্তিপণের টাকা নিয়ে পোস্তগোলা এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করে। হোটেলে অবস্থাকালীন সময় র‌্যাব কর্তৃক গ্রেফতার হয়। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।