বাংলাদেশ ০৭:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :

সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,, সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,,০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০, ০১৭১২-৪৪৬৩০৬,০১৭১১-০০৬২১৪ সম্পাদক

     
ব্রেকিং নিউজ ::
১৫ দিনের ঈদযাত্রায় ২৯৪ প্রাণের মৃত্যুমিছিল : সেভ দ্য রোড উপজেলা নির্বাচনে এমপি-মন্ত্রীদের স্বজনদের প্রার্থীতা প্রত্যাহারের নির্দেশ কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীর আজহারুল কে ফেন্সিডিল ও ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। ফুলবাড়ীতে তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির স্মরণসভা শ্যালিকার সঙ্গে পরকীয়ার জেরে দুলাভাইকে নৃশংসভাবে হত্যার মামলার আসামি আশারুল তার প্রধান সহযোগী ইলিয়াস ও খায়রুল কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। পঞ্চগড়ে কৃষিভিত্তিক কারখানায়, দূর হচ্ছে বেকারত্ব হত্যা মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মামুনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। নাটোরে বাগাতিপাড়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা! মধুপুরে অবৈধভাবে মাটিকাটার অপরাধে ১লক্ষ টাকা জরিমানা  পেকুয়ায় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত শের-ই- বাংলা পাবলিক লাইব্রেরীতে পিরোজপুর সাহিত্য পরিষদের ঈদপূনর্মিলনী অনুষ্ঠিত সিংড়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী’কে শোকজ করল আ.লীগ যশোরে তিনদিন ব্যাপী চিত্র প্রদর্শনী শুরু  এক পিস ডাবের দাম ১৮০ টাকা! সার্বজনীন পেনশন স্কিম নিবন্ধনে ‘রাজশাহী’ এগিয়ে

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও শিশু দিবসের ভাবনা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:১৮:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ মার্চ ২০২২
  • ১৭৬১ বার পড়া হয়েছে

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও শিশু দিবসের ভাবনা

স্বীকৃতি বিশ্বাস 
ভারত বিভাজন আন্দোলনে সক্রিয় নেতৃত্বদানকারী, পূর্ব পাকিস্তান নামক স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে  কেন্দ্রিয় নেতৃত্ব দানকারী হিসাব সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসাবে কৃতিত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশের “জাতির জনক” হিসাবে খ্যাত, প্রাচীন বাঙালি সভ্যতার আধুনিক স্থপতি ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসাবে বিবেচিত, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা হিসাবে আওয়ামী লীগের সভাপতি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, পরবর্তীতে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ রাত আটটায় তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্ভুক্ত ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার পাটগাতি ইউনিয়নের বাইগার নদী তীরবর্তী টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।চার কন্যা এবং দুই পুত্রের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়।
ছোটবেলার ডাকনাম ছিল “খোকা”।ছোটবেলা থেকেই তিনি মানুষের প্রতি সহমর্মী স্বভাবের অধিকারী ছিলেন। দুর্ভিক্ষের সময় নিজের গোলা থেকে ধান বিতরণ করতেন। সমিতি করে অন্যদের কাছ থেকে ধান-চাল সংগ্রহ করে গরিব ছাত্রদের মধ্যে বিলি করতেন।
ব্রিটিশ আমলে ঔপনিবেশিকতাবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে মুজিবের রাজনৈতিক দর্শন। এই সময় থেকেই তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন।
পরবর্তীতে শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও কার্যকলাপ পাকিস্তান রাষ্ট্রের মধ্যে পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন, ভাষাকেন্দ্রিক বাঙালি জাতীয়তাবাদ, অসাম্প্রদায়িকতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকারকে ঘিরে আবর্তিত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সব সময় ছোটদের একটু বেশি ভালবাসতেন, আদর ও স্নেহ করতেন এবং মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন “ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে ” –  আর তাই বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনকে উপলক্ষ্য করে পালিত জাতীয় শিশু দিবস।
এই বছর ১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবস -২০২২ এর প্রতিপাদ্য বিষয় হলঃ “বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের অঙ্গীকার, সকল শিশুর সমান অধিকার। প্রতিটি শিশুর হৃদয়ে জড়িয়ে রয়েছে আগামী দিনের আধুনিক বিজ্ঞান মনোষ্ক ও সৃষ্টিশীল সমৃদ্ধ জাতি।আর এজন্য শিশুদের সঠিক পরিচর্যার কোন বিকল্প নেই।
শিশুদের নৈতিকজ্ঞান সম্পন্ন, দেশপ্রেমে উদ্ধুদ্ধ জাতি হিসাবে গড়ে তোলার জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন  শিশুদের সুরক্ষা ও মৌলিক অধিকার সমূহ বাস্তবায়ন করে সঠিকভাবে শিশু বিকাশের সুযোগ তৈরি করা।
ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশেরও বেশি শিশু রয়েছে।
আজকের শিশুরাই  যেহেতু  আগামী দিনের জাতির কান্ডারী সেহেতু শিশুদের অধিকার- বাবা-মা উভয়ের সাথে মেলামেশার অধিকার, শারীরিক সুরক্ষা, খাদ্য, সার্বজনীন রাষ্ট্র-প্রদত্ত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিশুর বয়স ও বিকাশের জন্য উপযুক্ত ফৌজদারি আইন, নাগরিক অধিকার, শিশুর জাতি, লিঙ্গ, যৌন অভিমুখ, লিঙ্গ পরিচয়, জাতীয় উৎপত্তি, ধর্ম, অক্ষমতা, রঙ, জাতিগত বা অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বৈষম্য, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন থেকে মুক্তি দেওয়া। শিশুদের অধিকারের ক্ষেত্রটি আইন, রাজনীতি, ধর্ম এবং নৈতিকতার ক্ষেত্রে বিস্তৃত করা।
জাতীয় শিশু নীতি ২০১১ হলো বাংলাদেশে শিশু অধিকার বাস্তবায়নের একটি আইন। এ আইনে শিশুদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বিনির্মানে সুদূরপ্রসারী রূপপ্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।শিশু অধিকার বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও কর্মসূচি গ্রহণ, শিশুর নিরাপদ জন্ম ও সার্বিক বিকাশ নিশ্চিতকরা, শিশুর দারিদ্র বিমোচন, শিশু স্বাস্থ্য, শিশুর বিকাশে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা (৩ – ৫ বছর), শিশু শিক্ষা, শিশুর বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, শিশুর সুরক্ষা, প্রতিবন্ধী শিশুর জন্য বিশেষ কার্যক্রম, অটিস্টিক শিশুর জন্য বিশেষ কার্যক্রম, শিশুর জন্ম নিবন্ধন, সংখ্যালঘু ও নৃতাত্ত্বিক শিশুর জন্য বিশেষ কার্যক্রম, দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে শিশুর সুরক্ষা, শিশুর অধিকার ও উন্নয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট সংস্থা/প্রতিষ্ঠানে শিশুর উন্নয়ন নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে গৃহীত সকল কার্যক্রমে তাদের মতামত ও অংশগ্রহণের উপর গুরুত্ব প্রদান করা, কিশোর কিশোরীদের উন্নয়ন করা, শিশুশ্রম নিরসনে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা ও বাস্তবায়ন কৌশলসূহ উল্লেখ আছে।
আমাদের দেশে প্রতি চার জনের মধ্যে একজন শিশুর বয়স ৬ থেকে ১১ বছরের মধ্যে।এই শিশুদের মধ্যে  স্বল্প আয়ের পরিবারের কত মেয়ে শিশু যে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে তার ইয়ত্তা নেই। শিক্ষার ক্ষেত্রেও ঝরে পড়ার হার করোনাকালীন সময়ে বেড়েছে। করোনা সংক্রামণ শুরু হওয়ার পরবেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেটরি রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড গভর্ন্যন্সের (বিআইজিডি) যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাথমিক পর্যায়ে ১৯ ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পড়াশোনার বাইরে চলে গেছে।
যার মূল কারণ বাল্যবিবাহ।বেসরকারি সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের গবেষণায় বলা হয়েছে, করোনাকালে বাংলাদেশে গড়ে প্রতিদিন ৬৫টি করে বাল্যবিয়ে হয়েছে।
এছাড়া এই শিশুদের মধ্যে একটা বিরাট অংশ জুড়ে আছে প্রতিবন্ধী। কিন্তু প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিশ্চিতেও রয়েছে নানা ধরনের সামাজিক  প্রতিবন্ধকতা।
শিশু অধিকার বিষয়ে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নীতি ও আইন রয়েছে। শিশুশ্রম নিরসন আইন, শিশু নীতি, শিশু আইন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন প্রভৃতি তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এই আইন ও নীতি গুলো বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এইসব আইনগুলো বাস্তবায়ন ও সমন্বয়ের জন্য বাংলাদেশে শিশুদের আলাদা কোনো মন্ত্রণালয় কিংবা অধিদপ্তর নেই। বিধায় শিশু অধিকার বাস্তবায়ন অনেকাংশেই অধরাই থেকে যাচ্ছে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর ১০২ তম জন্মবার্ষিকীতে শিশু অধিকার  বাস্তবায়নই হোক দৃঢ় অঙ্গীকার।
জনপ্রিয় সংবাদ

১৫ দিনের ঈদযাত্রায় ২৯৪ প্রাণের মৃত্যুমিছিল : সেভ দ্য রোড

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও শিশু দিবসের ভাবনা

আপডেট সময় ০৬:১৮:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ মার্চ ২০২২
স্বীকৃতি বিশ্বাস 
ভারত বিভাজন আন্দোলনে সক্রিয় নেতৃত্বদানকারী, পূর্ব পাকিস্তান নামক স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে  কেন্দ্রিয় নেতৃত্ব দানকারী হিসাব সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসাবে কৃতিত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশের “জাতির জনক” হিসাবে খ্যাত, প্রাচীন বাঙালি সভ্যতার আধুনিক স্থপতি ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসাবে বিবেচিত, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা হিসাবে আওয়ামী লীগের সভাপতি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, পরবর্তীতে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ রাত আটটায় তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্ভুক্ত ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার পাটগাতি ইউনিয়নের বাইগার নদী তীরবর্তী টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।চার কন্যা এবং দুই পুত্রের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়।
ছোটবেলার ডাকনাম ছিল “খোকা”।ছোটবেলা থেকেই তিনি মানুষের প্রতি সহমর্মী স্বভাবের অধিকারী ছিলেন। দুর্ভিক্ষের সময় নিজের গোলা থেকে ধান বিতরণ করতেন। সমিতি করে অন্যদের কাছ থেকে ধান-চাল সংগ্রহ করে গরিব ছাত্রদের মধ্যে বিলি করতেন।
ব্রিটিশ আমলে ঔপনিবেশিকতাবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে মুজিবের রাজনৈতিক দর্শন। এই সময় থেকেই তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন।
পরবর্তীতে শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও কার্যকলাপ পাকিস্তান রাষ্ট্রের মধ্যে পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন, ভাষাকেন্দ্রিক বাঙালি জাতীয়তাবাদ, অসাম্প্রদায়িকতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকারকে ঘিরে আবর্তিত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সব সময় ছোটদের একটু বেশি ভালবাসতেন, আদর ও স্নেহ করতেন এবং মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন “ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে ” –  আর তাই বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনকে উপলক্ষ্য করে পালিত জাতীয় শিশু দিবস।
এই বছর ১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবস -২০২২ এর প্রতিপাদ্য বিষয় হলঃ “বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের অঙ্গীকার, সকল শিশুর সমান অধিকার। প্রতিটি শিশুর হৃদয়ে জড়িয়ে রয়েছে আগামী দিনের আধুনিক বিজ্ঞান মনোষ্ক ও সৃষ্টিশীল সমৃদ্ধ জাতি।আর এজন্য শিশুদের সঠিক পরিচর্যার কোন বিকল্প নেই।
শিশুদের নৈতিকজ্ঞান সম্পন্ন, দেশপ্রেমে উদ্ধুদ্ধ জাতি হিসাবে গড়ে তোলার জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন  শিশুদের সুরক্ষা ও মৌলিক অধিকার সমূহ বাস্তবায়ন করে সঠিকভাবে শিশু বিকাশের সুযোগ তৈরি করা।
ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশেরও বেশি শিশু রয়েছে।
আজকের শিশুরাই  যেহেতু  আগামী দিনের জাতির কান্ডারী সেহেতু শিশুদের অধিকার- বাবা-মা উভয়ের সাথে মেলামেশার অধিকার, শারীরিক সুরক্ষা, খাদ্য, সার্বজনীন রাষ্ট্র-প্রদত্ত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিশুর বয়স ও বিকাশের জন্য উপযুক্ত ফৌজদারি আইন, নাগরিক অধিকার, শিশুর জাতি, লিঙ্গ, যৌন অভিমুখ, লিঙ্গ পরিচয়, জাতীয় উৎপত্তি, ধর্ম, অক্ষমতা, রঙ, জাতিগত বা অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বৈষম্য, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন থেকে মুক্তি দেওয়া। শিশুদের অধিকারের ক্ষেত্রটি আইন, রাজনীতি, ধর্ম এবং নৈতিকতার ক্ষেত্রে বিস্তৃত করা।
জাতীয় শিশু নীতি ২০১১ হলো বাংলাদেশে শিশু অধিকার বাস্তবায়নের একটি আইন। এ আইনে শিশুদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বিনির্মানে সুদূরপ্রসারী রূপপ্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।শিশু অধিকার বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও কর্মসূচি গ্রহণ, শিশুর নিরাপদ জন্ম ও সার্বিক বিকাশ নিশ্চিতকরা, শিশুর দারিদ্র বিমোচন, শিশু স্বাস্থ্য, শিশুর বিকাশে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা (৩ – ৫ বছর), শিশু শিক্ষা, শিশুর বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, শিশুর সুরক্ষা, প্রতিবন্ধী শিশুর জন্য বিশেষ কার্যক্রম, অটিস্টিক শিশুর জন্য বিশেষ কার্যক্রম, শিশুর জন্ম নিবন্ধন, সংখ্যালঘু ও নৃতাত্ত্বিক শিশুর জন্য বিশেষ কার্যক্রম, দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে শিশুর সুরক্ষা, শিশুর অধিকার ও উন্নয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট সংস্থা/প্রতিষ্ঠানে শিশুর উন্নয়ন নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে গৃহীত সকল কার্যক্রমে তাদের মতামত ও অংশগ্রহণের উপর গুরুত্ব প্রদান করা, কিশোর কিশোরীদের উন্নয়ন করা, শিশুশ্রম নিরসনে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা ও বাস্তবায়ন কৌশলসূহ উল্লেখ আছে।
আমাদের দেশে প্রতি চার জনের মধ্যে একজন শিশুর বয়স ৬ থেকে ১১ বছরের মধ্যে।এই শিশুদের মধ্যে  স্বল্প আয়ের পরিবারের কত মেয়ে শিশু যে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে তার ইয়ত্তা নেই। শিক্ষার ক্ষেত্রেও ঝরে পড়ার হার করোনাকালীন সময়ে বেড়েছে। করোনা সংক্রামণ শুরু হওয়ার পরবেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেটরি রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড গভর্ন্যন্সের (বিআইজিডি) যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাথমিক পর্যায়ে ১৯ ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পড়াশোনার বাইরে চলে গেছে।
যার মূল কারণ বাল্যবিবাহ।বেসরকারি সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের গবেষণায় বলা হয়েছে, করোনাকালে বাংলাদেশে গড়ে প্রতিদিন ৬৫টি করে বাল্যবিয়ে হয়েছে।
এছাড়া এই শিশুদের মধ্যে একটা বিরাট অংশ জুড়ে আছে প্রতিবন্ধী। কিন্তু প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিশ্চিতেও রয়েছে নানা ধরনের সামাজিক  প্রতিবন্ধকতা।
শিশু অধিকার বিষয়ে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নীতি ও আইন রয়েছে। শিশুশ্রম নিরসন আইন, শিশু নীতি, শিশু আইন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন প্রভৃতি তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এই আইন ও নীতি গুলো বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এইসব আইনগুলো বাস্তবায়ন ও সমন্বয়ের জন্য বাংলাদেশে শিশুদের আলাদা কোনো মন্ত্রণালয় কিংবা অধিদপ্তর নেই। বিধায় শিশু অধিকার বাস্তবায়ন অনেকাংশেই অধরাই থেকে যাচ্ছে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর ১০২ তম জন্মবার্ষিকীতে শিশু অধিকার  বাস্তবায়নই হোক দৃঢ় অঙ্গীকার।