বাংলাদেশ ০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :

সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,, সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,,০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০, ০১৭১২-৪৪৬৩০৬,০১৭১১-০০৬২১৪ সম্পাদক

     
ব্রেকিং নিউজ ::
পীরগঞ্জে বিশেষ অভিযানে জুয়ারী সহ ১৩জন গ্রেফতার। সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী উম্মে কুলসুম ধর্ষণ মামলার আসামী রনিকে গ্রেফতার। কুষ্টিয়ায় এক সাংবাদিকের উপর সন্ত্রাসী হামলা বাবুগঞ্জে এসএসসি কৃতকার্য ছাত্রী ধর্ষিতা অবশেষে পুত্র সন্তানের মা হলেন চট্টগ্রামে নির্ধারিত সময়ের আগেই কোরবানির পশুর বর্জ্যমুক্ত তানোর পৌর বাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আওয়ামীলীগ নেতা সুজন রাঙ্গাবালীতে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা। রাঙ্গাবালী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা। বেলাল চেয়ারম্যানের ঈদ শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা হত-দরিদ্রের মাঝে রাবি ছাত্রলীগের ইদ উপহার বিতরণ চট্টগ্রামে ঈদুল আজহা উপকরনে কিনতে ব্যস্থ কোরবানিরা প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়ম, তথ্য সংগ্রহ কালে সাংবাদিককে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে জুতা মারার হুমকি। উত্তরবঙ্গের টিকেট কালোবাজারি চক্রের প্রধান দুই সদস্য নুরুজ্জামান ও জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। রংপুরের পীরগঞ্জে ইয়াবা, জুয়ারী,ও ওয়ারেন্টের আসামী সহ ৮জনকে আটক করে পীরগঞ্জ থানা পুলিশ পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জনপ্রিয় নেতা এহসাম হাওলাদার

৯৪ বছর যাবৎ কোরআন তেলাওয়াত হচ্ছে যে মসজিদে!

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:৩৭:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ মার্চ ২০২২
  • ১৮১৯ বার পড়া হয়েছে

মোঃ শহিদুল ইসলাম, টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ

গত ৯৪ বছরে কতকিছুই না ঘটে গেছে দেশে। এসেছে দুর্ভিক্ষ, মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ। কিন্তু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ব্যতীত এসবের কোনো কিছুই এক মুহূর্তের জন্যও থামাতে পারেনি ৭০০ বছরের পুরোনো নওয়াব শাহি মসজিদের কোরআন তেলাওয়াত।

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় অবস্থিত এই মসজিদ এখন মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।

মসজিদের খতিব ও ইমাম হাফেজ মাওলানা ইদ্রিস হুসাইন জানান, বিরামহীন কোরআন তেলাওয়াত চালিয়ে নিতে মসজিদটিতে সার্বক্ষণিক নিযুক্ত থাকেন পাঁচজন হাফেজ। পালাক্রমে কোরআন তেলাওয়াত করেন তারা।

সেলজুক তুর্কি বংশের ইসপিঞ্জার খাঁ ও মনোয়ার খাঁ নামে দুই ভাই ষোড়শ শতকে এক কক্ষবিশিষ্ট এই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। পরে নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী ১১৫ বছর আগে ১০ কাঠা জমির ওপর এটি সম্প্রসারণ করে আধুনিক রূপ দেন।

সংস্কারের আগে মসজিদটির দৈর্ঘ্য ছিল ১৩ দশমিক ৭২ মিটার এবং প্রস্থ ৪ দশমিক ৫৭ মিটার। সংস্কারের মাধ্যমে এটিকে বর্গাকৃতির করা হয়। আর মোগল স্থাপত্য রীতির সঙ্গে মিল রেখে এতে নানা নকশা ও তিনটি বড় গম্বুজ যুক্ত করা হয়।

ছোট-বড় মিলিয়ে মসজিদটিতে মোট গম্বুজের সংখ্যা ৩৪। আর কারুকার্য খচিত বড় মিনার আছে ১০টি। প্রতিটি মিনারের উচ্চতা ছাদ থেকে প্রায় ৩০ ফুট। মাথায় বসানো তামা দিয়ে তৈরি চাঁদ মিনারগুলোর সৌন্দর্য আরো বাড়িয়েছে।

মসজিদের মেঝে আর দেয়ালে কাচের টুকরো দিয়ে নকশাদার মোজাইক করা। মেঝেতে মার্বেল পাথরে খোদাই করা নিপুণ কারুকার্যও নজর কাড়ে। ভেতরের সব জায়গাতেই চীনামাটির টুকরো দিয়ে মোজাইকের মতো করা হয়েছে ফুলেল নকশা।

মসজিদটির ভিত্তিভূমিতে প্রবেশের জন্য চারদিক থেকে চারটি পথ রয়েছে। আর মসজিদের ভেতরে ঢুকতে পূর্ব দিকের বহু খাঁজে চিত্রিত তিনটিসহ উত্তর ও দক্ষিণে একটি করে মোট পাঁচটি প্রবেশপথ রয়েছে। পূর্ব দিকের তিনটি প্রবেশপথ বরাবর মসজিদের পশ্চিমের দেয়ালে তিনটি মিহরাব রয়েছে।

মসজিদে সংরক্ষিত আছে ১৮টি হাঁড়িবাতি। শুরুর দিকে এগুলোয় নারকেল তেলের মাধ্যমে আলো জ্বালানোর ব্যবস্থা করা হতো। একসঙ্গে অন্তত ২০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন এই মসজিদে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, পিরের নির্দেশে কবরের আজাব থেকে মুক্তি পেতে ১৯২৭ সালে এই মসজিদে সার্বক্ষণিক কোরআন তেলাওয়াতের ব্যবস্থা করেছিলেন সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী। ১৯২৯ সালে মারা যান তিনি।

মসজিদের পাশেই রয়েছে শান বাঁধানো ঘাট ও কবরস্থান। সেখানেই দাফন করা হয়েছে এই নবাব বাহাদুরকে। তার ওয়াকফ করা সম্পদের আয় দিয়েই মসজিদ, পার্শ্ববর্তী মাদ্রাসা ও ঈদগাহ পরিচালিত হয়।

প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় জমান এই মসজিদটি দেখতে। তারা মসজিদের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি গভীর মনোযোগে কোরআন তেলাওয়াত শোনেন।

ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আসলাম হোসাইন জানান, ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদে সব ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে তার প্রশাসন। আর মসজিদ এলাকায় পর্যটকরা যেন সহজেই যেতে পারেন, সে বিষয়েও নজর দেয়া হবে।

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

পীরগঞ্জে বিশেষ অভিযানে জুয়ারী সহ ১৩জন গ্রেফতার।

৯৪ বছর যাবৎ কোরআন তেলাওয়াত হচ্ছে যে মসজিদে!

আপডেট সময় ১০:৩৭:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ মার্চ ২০২২

মোঃ শহিদুল ইসলাম, টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ

গত ৯৪ বছরে কতকিছুই না ঘটে গেছে দেশে। এসেছে দুর্ভিক্ষ, মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ। কিন্তু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ব্যতীত এসবের কোনো কিছুই এক মুহূর্তের জন্যও থামাতে পারেনি ৭০০ বছরের পুরোনো নওয়াব শাহি মসজিদের কোরআন তেলাওয়াত।

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় অবস্থিত এই মসজিদ এখন মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।

মসজিদের খতিব ও ইমাম হাফেজ মাওলানা ইদ্রিস হুসাইন জানান, বিরামহীন কোরআন তেলাওয়াত চালিয়ে নিতে মসজিদটিতে সার্বক্ষণিক নিযুক্ত থাকেন পাঁচজন হাফেজ। পালাক্রমে কোরআন তেলাওয়াত করেন তারা।

সেলজুক তুর্কি বংশের ইসপিঞ্জার খাঁ ও মনোয়ার খাঁ নামে দুই ভাই ষোড়শ শতকে এক কক্ষবিশিষ্ট এই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। পরে নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী ১১৫ বছর আগে ১০ কাঠা জমির ওপর এটি সম্প্রসারণ করে আধুনিক রূপ দেন।

সংস্কারের আগে মসজিদটির দৈর্ঘ্য ছিল ১৩ দশমিক ৭২ মিটার এবং প্রস্থ ৪ দশমিক ৫৭ মিটার। সংস্কারের মাধ্যমে এটিকে বর্গাকৃতির করা হয়। আর মোগল স্থাপত্য রীতির সঙ্গে মিল রেখে এতে নানা নকশা ও তিনটি বড় গম্বুজ যুক্ত করা হয়।

ছোট-বড় মিলিয়ে মসজিদটিতে মোট গম্বুজের সংখ্যা ৩৪। আর কারুকার্য খচিত বড় মিনার আছে ১০টি। প্রতিটি মিনারের উচ্চতা ছাদ থেকে প্রায় ৩০ ফুট। মাথায় বসানো তামা দিয়ে তৈরি চাঁদ মিনারগুলোর সৌন্দর্য আরো বাড়িয়েছে।

মসজিদের মেঝে আর দেয়ালে কাচের টুকরো দিয়ে নকশাদার মোজাইক করা। মেঝেতে মার্বেল পাথরে খোদাই করা নিপুণ কারুকার্যও নজর কাড়ে। ভেতরের সব জায়গাতেই চীনামাটির টুকরো দিয়ে মোজাইকের মতো করা হয়েছে ফুলেল নকশা।

মসজিদটির ভিত্তিভূমিতে প্রবেশের জন্য চারদিক থেকে চারটি পথ রয়েছে। আর মসজিদের ভেতরে ঢুকতে পূর্ব দিকের বহু খাঁজে চিত্রিত তিনটিসহ উত্তর ও দক্ষিণে একটি করে মোট পাঁচটি প্রবেশপথ রয়েছে। পূর্ব দিকের তিনটি প্রবেশপথ বরাবর মসজিদের পশ্চিমের দেয়ালে তিনটি মিহরাব রয়েছে।

মসজিদে সংরক্ষিত আছে ১৮টি হাঁড়িবাতি। শুরুর দিকে এগুলোয় নারকেল তেলের মাধ্যমে আলো জ্বালানোর ব্যবস্থা করা হতো। একসঙ্গে অন্তত ২০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন এই মসজিদে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, পিরের নির্দেশে কবরের আজাব থেকে মুক্তি পেতে ১৯২৭ সালে এই মসজিদে সার্বক্ষণিক কোরআন তেলাওয়াতের ব্যবস্থা করেছিলেন সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী। ১৯২৯ সালে মারা যান তিনি।

মসজিদের পাশেই রয়েছে শান বাঁধানো ঘাট ও কবরস্থান। সেখানেই দাফন করা হয়েছে এই নবাব বাহাদুরকে। তার ওয়াকফ করা সম্পদের আয় দিয়েই মসজিদ, পার্শ্ববর্তী মাদ্রাসা ও ঈদগাহ পরিচালিত হয়।

প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় জমান এই মসজিদটি দেখতে। তারা মসজিদের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি গভীর মনোযোগে কোরআন তেলাওয়াত শোনেন।

ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আসলাম হোসাইন জানান, ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদে সব ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে তার প্রশাসন। আর মসজিদ এলাকায় পর্যটকরা যেন সহজেই যেতে পারেন, সে বিষয়েও নজর দেয়া হবে।