বাংলাদেশ ১০:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :

সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,, সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,,০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০, ০১৭১২-৪৪৬৩০৬,০১৭১১-০০৬২১৪ সম্পাদক

     
ব্রেকিং নিউজ ::
মেহেন্দিগঞ্জে কিশোর গ্যাং এর ৬ সদস্য পুলিশের হাতে আটক। পঞ্চগড়ে বঞ্চিত শিশুদের আনন্দ দিতে শিশুস্বর্গের নানা আয়োজন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নেতা কর্মীকে বহিষ্কার। অস্বাস্থ্যকর জেলি পুশকৃত চিংড়ি বাজারজাতকরণের উদ্দেশ্যে পরিবহনে সহায়তা করার অপরাধে চিংড়ি মালিককে জরিমানা ও জেলি পুশ চিংড়ি ধ্বংস করেছে র‌্যাব। কাউখালীতে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতিসহ ৪ প্রার্থী জামানত হারান  চাকরি পেয়ে তো ঠিকই ঘুষ নিবেন আমরা একটু বেশি নিলে সমস্যা কি; রাবির দোকানি নরসিংদীর রায়পুরায় ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীকে পিটিয়ে হত্যা কালকিনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী তৌফিকুজ্জামান শাহীন সাহস করে উঠে দাঁড়ান নইলে কাল আপনার পালা: মঈন উদ্দিন খান মতিহারে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার সাপাহারে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হলেন যারা ঘাটাইলে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার শ্রমজীবী-পথচারীদের মাঝে দাগনভূঞা সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের শরবত বিতরণ  কামারগাঁ ইউপি বাসীর পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ময়নাকে সংবর্ধনা  সকল বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে এগিয়ে চলেছেন রায়গঞ্জের ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম নান্নু

সংঘবদ্ধ মলমপার্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের মোট ২৬ জন গ্রেফতার: অজ্ঞান ও ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত বিষাক্ত মলম, নগদ টাকা ও দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র উদ্ধার।

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:৫৪:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২
  • ১৬৭৯ বার পড়া হয়েছে

সংঘবদ্ধ মলমপার্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের মোট ২৬ জন গ্রেফতার: অজ্ঞান ও ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত বিষাক্ত মলম, নগদ টাকা ও দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র উদ্ধার।

 

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর খিলগাঁও, পল্টন, মুগদা, শাহজাহানপুর, শাহবাগ, মতিঝিল এবং হাতিরঝিল এলাকা হতে সংঘবদ্ধ মলমপার্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের মোট ২৬ জন গ্রেফতার: অজ্ঞান ও ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত বিষাক্ত মলম, নগদ টাকা ও দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র উদ্ধার।

 

এলিট ফোর্স হিসেবে র‌্যাব আত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন থেকেই আইনের শাসন সমুন্নত রেখে দেশের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে অপরাধ চিহ্নিতকরণ, প্রতিরোধ, শান্তি ও জনশৃংখলা রক্ষায় কাজ করে আসছে। বর্তমান সময়ে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসী, প্রতারক চক্র, চাঁদাবাজ, ধর্ষণকারী, নৈরাজ্যকারী, বিভিন্ন মামলার আসামী, অপহরণকারী, মানবপাচারকারী, জালনোট ব্যবসায়ী এবং ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য র‌্যাব সদা সচেষ্ট।

 

https://youtu.be/XEY6yybPrSM

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী ও পথচারী অজ্ঞানপার্টি ও ছিনতাইকারী কবলে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে জখমপ্রাপ্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে থাকেন। এসব ভুক্তভোগীদের বেশির ভাগই কোন আইন শৃংখলা বাহিনীর দারস্থ হয় না। ফলে সংঘবদ্ধ অজ্ঞানপার্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের তৎপরতা দিন দিন বেপরোয়াভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অজ্ঞানপার্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের প্রায় সকলেই মাদকাসক্ত। সাম্প্রতিককালে অজ্ঞানপার্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়টি ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হচ্ছে। ফলশ্রæতিতে র‌্যাব উক্ত অজ্ঞানপার্টি ও ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

 

 

এরই প্রেক্ষিতে র‌্যাব-৩ এর আভিযানিক দল রাজধানীর খিলগাঁও, পল্টন, মুগদা, শাহজাহানপুর, শাহবাগ, মতিঝিল এবং হাতিরঝিল থানাধীন এলাকায় ২৭/০৬/২০২২ তারিখ রাতে অভিযান পরিচালনা করে অজ্ঞানপার্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য ১। মোঃ পাপ্পু (২৮), পিতা-মোঃ জহির মিয়া, সাং-রক্ষনশ্রী, থানা-সুনামগঞ্জ সদর, জেলা-সুনামগঞ্জ, ২। মোঃ জীবন (২২), পিতা-মৃত মনোয়ার হোসেন, সাং-পূর্ব রাজাগাঁও, থানা-হাজীগঞ্জ, জেলা-চাঁদপুর, ৩। মোঃ সজীব (২৬), পিতা-মৃত পারভেজ সিকদার, সাং-লক্ষীপুর, থানা-মুলাদী, জেলা-বরিশাল, ৪। মোঃ শহিদ শেখ (৩০), পিতা-আঃ রশিদ শেখ, সাং-৮নং চর উতরাইল, থানা-শিবচর, জেলা-মাদারীপুর, ৫। আলাউদ্দিন (৪২), পিতা-মোঃ মফিজ উদ্দিন, সাং লেমুয়া, থানা-ফেনী সদর, জেলা-ফেনী, ৬। মোঃ শফিক (১৮), পিতা-মোঃ আবুল কালাম, সাং-পূর্ব শেরী, থানা-শেরপুর সদর, জেলা-শেরপুর, ৭। আঃ হক হৃদয় (২২), পিতা-মৃত আঃ রশিদ, সাং-বাগান বাড়ী, থানা-গোসাইরহাট, জেলা-শরিয়তপুর, ৮। মোঃ রানা (১৮), পিতা-মোঃ কাওসার, গ্রাম-নওডা, থানা-বাজিদপুর, জেলা-কিশোরগঞ্জ, ৯। মোঃ অন্তর (২৬), পিতা-মোঃ ফারুক, সাং-কমলাপুর রেল স্টেশন এলাকায় ভাসমান, শাহজাহানপুর, ডিএমপি, ঢাকা, ১০। মোঃ মেহেদী হাসান(২০), পিতা-মোঃ আলমাস হোসেন, সাং-কলাকান্দা, থানা-দেওয়ানগঞ্জ, জেলা-জামালপুর, ১১। মোঃ শাকিল(২৫), পিতা-মোতালেব শেখ, সাং-কমলাপুর রেল স্টেশন এলাকায় ভাসমান, শাহজাহানপুর, ডিএমপি, ঢাকা, ১২। মোঃ রাব্বী আপন(২০), পিতা-মোঃ বাবুল, সাং-নামপুর, থানা-মির্জাগঞ্জ, জেলা-পটুয়াখালী, ১৩। মোঃ আলমগীর(৪৫), পিতা-মৃত আব্দুর রশিদ, সাং-১৭/২ শান্তিনগর, থানা-পল্টন, ডিএমপি, ঢাকা, ১৪। মোঃ ফাইম(২২), পিতা-আবুবকর সিদ্দিক, সাং-ফরিদপুর বাংলাবাজার, থানা-গোসাইরহাট, জেলা-শরীয়তপুর, ১৫। মোঃ মামুন শেখ (৪২), পিতা-মোঃ আব্দুর রব শেখ, সাং-এনায়েতনগর, থানা-সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা-নারায়ণগঞ্জ, ১৬। মোঃ সজল (২৬), পিতা-মোঃ শফিকুল ইসলাম, সাং-গুলিস্থান স্টেডিয়াম এলাকায় ভাসমান, থানা-পল্টন মডেল, ডিএমপি, ঢাকা, ১৭। মোঃ ফেরদৌস (৩২), পিতা-মৃত রইচ মিয়া, সাং-ময়েজগঙ্গা, থানা-কলমাকান্দা, জেলা-নেত্রকোনা, ১৮। মোঃ রুবেল মাতবর (৩৪), পিতা-মৃত আব্দুর রব মাতবর, সাং-চান্দনী, থানা-নড়িয়া, জেলা-শরীয়তপুর, ১৯। মোঃ হানিফ ব্যাপারী (২৯), পিতা-মৃত জাহাঙ্গীর ব্যাপারী, সাং-কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় ভাসমান, থানা-শাহজাহানপুর, ডিএমপি, ঢাকা, ২০। জাকির হোসেন (২৪), পিতা-জাহাঙ্গীর আলম, সাং-কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় ভাসমান, থানা-শাহজাহানপুর, ডিএমপি, ঢাকা, ২১। মোঃ সোহেল (১৯), পিতা-কালাম গাজী, সাং-কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় ভাসমান, থানা-শাহজাহানপুর, ডিএমপি, ঢাকা, ২২। মোঃ মাহাবুব ইসলাম রিয়ন (৪২), পিতা-মৃত আবেদ আলী, সাং-কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় ভাসমান, থানা-শাহজাহানপুর, ডিএমপি, ঢাকা, ২৩। মোঃ আঃ মান্নান (১৯), পিতা-মোঃ আছর উদ্দিন @ ওয়র উদ্দিন, সাং-গুলিস্থান এলাকায় ভাসমান, থানা-পল্টন মডেল, ডিএমপি, ঢাকা, ২৪। মোঃ হাবীব মিয়া (২২), পিতা- মোহাম্মদ আলী, সাং-গুলিস্থান এলাকায় ভাসমান, থানা-পল্টন মডেল, ডিএমপি, ঢাকা, ২৫। মোঃ হৃদয় @ মুজিবর (১৯), পিতা-মোহাম্মদ আলী, সাং-গুলিস্থান এলাকায় ভাসমান, থানা-পল্টন মডেল, ডিএমপি, ঢাকা, ২৬। মোঃ রিফাত উদ্দিন চেšধুরী@ দুঃখু (২৪), পিতা মৃত-আঃ বাছেদ চেšধুরী, সাং-গুলিস্থান এলাকায় ভাসমান, থানা-পল্টন মডেল, ডিএমপি, ঢাকাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

 

 

গ্রেফতারকালে উক্ত আসামীদের নিকট হতে এন্টিকাটার ০৩ টি, বেøড ১১ টি, বিষাক্ত মলম ১০ টি, চাকু ০১ টি, মোবাইল ফোন ০৯টি এবং নগদ ৩,২৯০/-টাকা উদ্ধার করা হয়।

 

 

গ্রেফতারকৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন এলাকায় অজ্ঞানপার্টির সদস্যরা ঘোরাফেরা করতে থাকে। সহজ সরল যাত্রীদের টার্গেট করে কখনও তাদেরকে ডাব, কোমল পানীয় কিংবা পানির সাথে বিষাক্ত চেতনানাশক ঔষধ মিশিয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করে।

 

 

আবার কখনও যাত্রীবেশে বাস ও ট্রেনে চড়ে যাত্রীদের পাশে বসে তাদের নাকের কাছে চেতনানাশক ঔষধে ভেজানো রুমাল দিয়ে যাত্রীদের অজ্ঞান করে থাকে। উক্ত বিষাক্ত পানীয় সেবন করার বা বিষাক্ত স্প্রের ঘ্রাণ নেওয়ার পর উক্ত যাত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়লে তার সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে তারা ভিড়ের মধ্যে মিশে যায়।

 

 

 

এছাড়াও কখনও ভিড়ের মধ্যে যাত্রীদের চোখে-মূখে বিষাক্ত মলম বা মরিচের গুড়া বা বিষাক্ত স্প্রে করে যাত্রীদের যন্ত্রণায় কাতর করে সর্বস্ব কেড়ে নেয়। এরপর কোন সহৃদয় ব্যক্তি উক্ত অজ্ঞান বা অসুস্থ যাত্রীকে হাসপাতালে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে। চেতনানাশকের পরিমান বেশী হলে উক্ত ভুক্তভোগীর জ্ঞান ফিরতে ৭২ ঘন্টা পর্যন্ত লেগে থাকে। অজ্ঞানপার্টির শিকার ব্যক্তি শারিরীকভাবে দুর্বল ও বয়স্ক হলে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। অন্যদিকে ভূক্তভোগীর চোখে-মূখে বিষাক্ত মলম লাগানোর ফলে তার দৃষ্টিশক্তি চিরতরে হারানোর সম্ভাবনা থেকে যায়। এসব অজ্ঞানপার্টির সদস্যরা নির্বিঘেœ তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

 

 

অন্যদিকে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীরা রাজধানীর বিভিন্ন অলি গলিতে উৎপেতে থাকে। সুযোগ পাওয়া মাত্রই তারা পথচারী, রিকশা আরোহী, যানজটে থাকা সিএনজি, অটোরিকশার যাত্রীদের ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে সর্বস্ব লুটে নেয়। সন্ধ্যা হতে ভোর পর্যন্ত তুলনামূলক জনশূন্য রাস্তা, লঞ্চঘাট, বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশন এলাকায় ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

 

 

তাদের ছিনতাইকাজে বাধা দিলে তারা নিরীহ পথচারীদের প্রাণঘাতী আঘাত করতে দ্বিধা বোধ করেনা। খিলগাঁও মালিবাগ রেইল গেইট, দৈনিক বাংলা মোড়, পীরজঙ্গি মাজার ক্রসিং, কমলাপুর বটতলা, মতিঝিল কালবার্ট রোড, নাসিরের টেক হাতিরঝিল, শাহবাগ, গুলবাগ, রাজউক ক্রসিং, ইউবিএল ক্রসিং পল্টন মোড়, গোলাপ শাহর মাজার ক্রসিং, হাইকোর্ট ক্রসিং, আব্দুল গণি রোড, মানিকনগর স্টেডিয়ামের সামনে, নন্দীপাড়া ব্রিজ, বাসাবো ক্রসিং এলাকায় সন্ধ্যা হতে ভোর রাত পর্যন্ত ছিনতাইকারীদের তৎপরতা বেশি পরিলক্ষিত হয়।

 

 

 

এ সকল অজ্ঞানপার্টি ও ছিনতাইকারীদের আইনের আওতায় আনার ফলে পথচারীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। রাজধানীবাসী এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে রাজধানীতে আগত যাত্রীরা যাতে নিরাপদে দৈনন্দিন কাজকর্ম সম্পন্ন করে নির্বিঘেœ স্বস্তির সাথে বাড়ী ফিরে যেতে পারেন এলক্ষ্য নিয়ে সংঘবদ্ধ অজ্ঞানপার্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের বিরুদ্ধে র‌্যাবের সাড়াঁশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ধৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বীণা রানী দাস, পিপিএম (বার)
পুলিশ সুপার
স্টাফ অফিসার (অপস্ ও ইন্ট শাখা)
পক্ষে পরিচালক

 

 

আপলোডকারীর তথ্য

Banglar Alo News

hello
জনপ্রিয় সংবাদ

মেহেন্দিগঞ্জে কিশোর গ্যাং এর ৬ সদস্য পুলিশের হাতে আটক।

সংঘবদ্ধ মলমপার্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের মোট ২৬ জন গ্রেফতার: অজ্ঞান ও ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত বিষাক্ত মলম, নগদ টাকা ও দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র উদ্ধার।

আপডেট সময় ০৬:৫৪:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২

 

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর খিলগাঁও, পল্টন, মুগদা, শাহজাহানপুর, শাহবাগ, মতিঝিল এবং হাতিরঝিল এলাকা হতে সংঘবদ্ধ মলমপার্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের মোট ২৬ জন গ্রেফতার: অজ্ঞান ও ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত বিষাক্ত মলম, নগদ টাকা ও দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র উদ্ধার।

 

এলিট ফোর্স হিসেবে র‌্যাব আত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন থেকেই আইনের শাসন সমুন্নত রেখে দেশের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে অপরাধ চিহ্নিতকরণ, প্রতিরোধ, শান্তি ও জনশৃংখলা রক্ষায় কাজ করে আসছে। বর্তমান সময়ে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসী, প্রতারক চক্র, চাঁদাবাজ, ধর্ষণকারী, নৈরাজ্যকারী, বিভিন্ন মামলার আসামী, অপহরণকারী, মানবপাচারকারী, জালনোট ব্যবসায়ী এবং ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য র‌্যাব সদা সচেষ্ট।

 

https://youtu.be/XEY6yybPrSM

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী ও পথচারী অজ্ঞানপার্টি ও ছিনতাইকারী কবলে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে জখমপ্রাপ্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে থাকেন। এসব ভুক্তভোগীদের বেশির ভাগই কোন আইন শৃংখলা বাহিনীর দারস্থ হয় না। ফলে সংঘবদ্ধ অজ্ঞানপার্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের তৎপরতা দিন দিন বেপরোয়াভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অজ্ঞানপার্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের প্রায় সকলেই মাদকাসক্ত। সাম্প্রতিককালে অজ্ঞানপার্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়টি ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হচ্ছে। ফলশ্রæতিতে র‌্যাব উক্ত অজ্ঞানপার্টি ও ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

 

 

এরই প্রেক্ষিতে র‌্যাব-৩ এর আভিযানিক দল রাজধানীর খিলগাঁও, পল্টন, মুগদা, শাহজাহানপুর, শাহবাগ, মতিঝিল এবং হাতিরঝিল থানাধীন এলাকায় ২৭/০৬/২০২২ তারিখ রাতে অভিযান পরিচালনা করে অজ্ঞানপার্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য ১। মোঃ পাপ্পু (২৮), পিতা-মোঃ জহির মিয়া, সাং-রক্ষনশ্রী, থানা-সুনামগঞ্জ সদর, জেলা-সুনামগঞ্জ, ২। মোঃ জীবন (২২), পিতা-মৃত মনোয়ার হোসেন, সাং-পূর্ব রাজাগাঁও, থানা-হাজীগঞ্জ, জেলা-চাঁদপুর, ৩। মোঃ সজীব (২৬), পিতা-মৃত পারভেজ সিকদার, সাং-লক্ষীপুর, থানা-মুলাদী, জেলা-বরিশাল, ৪। মোঃ শহিদ শেখ (৩০), পিতা-আঃ রশিদ শেখ, সাং-৮নং চর উতরাইল, থানা-শিবচর, জেলা-মাদারীপুর, ৫। আলাউদ্দিন (৪২), পিতা-মোঃ মফিজ উদ্দিন, সাং লেমুয়া, থানা-ফেনী সদর, জেলা-ফেনী, ৬। মোঃ শফিক (১৮), পিতা-মোঃ আবুল কালাম, সাং-পূর্ব শেরী, থানা-শেরপুর সদর, জেলা-শেরপুর, ৭। আঃ হক হৃদয় (২২), পিতা-মৃত আঃ রশিদ, সাং-বাগান বাড়ী, থানা-গোসাইরহাট, জেলা-শরিয়তপুর, ৮। মোঃ রানা (১৮), পিতা-মোঃ কাওসার, গ্রাম-নওডা, থানা-বাজিদপুর, জেলা-কিশোরগঞ্জ, ৯। মোঃ অন্তর (২৬), পিতা-মোঃ ফারুক, সাং-কমলাপুর রেল স্টেশন এলাকায় ভাসমান, শাহজাহানপুর, ডিএমপি, ঢাকা, ১০। মোঃ মেহেদী হাসান(২০), পিতা-মোঃ আলমাস হোসেন, সাং-কলাকান্দা, থানা-দেওয়ানগঞ্জ, জেলা-জামালপুর, ১১। মোঃ শাকিল(২৫), পিতা-মোতালেব শেখ, সাং-কমলাপুর রেল স্টেশন এলাকায় ভাসমান, শাহজাহানপুর, ডিএমপি, ঢাকা, ১২। মোঃ রাব্বী আপন(২০), পিতা-মোঃ বাবুল, সাং-নামপুর, থানা-মির্জাগঞ্জ, জেলা-পটুয়াখালী, ১৩। মোঃ আলমগীর(৪৫), পিতা-মৃত আব্দুর রশিদ, সাং-১৭/২ শান্তিনগর, থানা-পল্টন, ডিএমপি, ঢাকা, ১৪। মোঃ ফাইম(২২), পিতা-আবুবকর সিদ্দিক, সাং-ফরিদপুর বাংলাবাজার, থানা-গোসাইরহাট, জেলা-শরীয়তপুর, ১৫। মোঃ মামুন শেখ (৪২), পিতা-মোঃ আব্দুর রব শেখ, সাং-এনায়েতনগর, থানা-সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা-নারায়ণগঞ্জ, ১৬। মোঃ সজল (২৬), পিতা-মোঃ শফিকুল ইসলাম, সাং-গুলিস্থান স্টেডিয়াম এলাকায় ভাসমান, থানা-পল্টন মডেল, ডিএমপি, ঢাকা, ১৭। মোঃ ফেরদৌস (৩২), পিতা-মৃত রইচ মিয়া, সাং-ময়েজগঙ্গা, থানা-কলমাকান্দা, জেলা-নেত্রকোনা, ১৮। মোঃ রুবেল মাতবর (৩৪), পিতা-মৃত আব্দুর রব মাতবর, সাং-চান্দনী, থানা-নড়িয়া, জেলা-শরীয়তপুর, ১৯। মোঃ হানিফ ব্যাপারী (২৯), পিতা-মৃত জাহাঙ্গীর ব্যাপারী, সাং-কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় ভাসমান, থানা-শাহজাহানপুর, ডিএমপি, ঢাকা, ২০। জাকির হোসেন (২৪), পিতা-জাহাঙ্গীর আলম, সাং-কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় ভাসমান, থানা-শাহজাহানপুর, ডিএমপি, ঢাকা, ২১। মোঃ সোহেল (১৯), পিতা-কালাম গাজী, সাং-কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় ভাসমান, থানা-শাহজাহানপুর, ডিএমপি, ঢাকা, ২২। মোঃ মাহাবুব ইসলাম রিয়ন (৪২), পিতা-মৃত আবেদ আলী, সাং-কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় ভাসমান, থানা-শাহজাহানপুর, ডিএমপি, ঢাকা, ২৩। মোঃ আঃ মান্নান (১৯), পিতা-মোঃ আছর উদ্দিন @ ওয়র উদ্দিন, সাং-গুলিস্থান এলাকায় ভাসমান, থানা-পল্টন মডেল, ডিএমপি, ঢাকা, ২৪। মোঃ হাবীব মিয়া (২২), পিতা- মোহাম্মদ আলী, সাং-গুলিস্থান এলাকায় ভাসমান, থানা-পল্টন মডেল, ডিএমপি, ঢাকা, ২৫। মোঃ হৃদয় @ মুজিবর (১৯), পিতা-মোহাম্মদ আলী, সাং-গুলিস্থান এলাকায় ভাসমান, থানা-পল্টন মডেল, ডিএমপি, ঢাকা, ২৬। মোঃ রিফাত উদ্দিন চেšধুরী@ দুঃখু (২৪), পিতা মৃত-আঃ বাছেদ চেšধুরী, সাং-গুলিস্থান এলাকায় ভাসমান, থানা-পল্টন মডেল, ডিএমপি, ঢাকাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

 

 

গ্রেফতারকালে উক্ত আসামীদের নিকট হতে এন্টিকাটার ০৩ টি, বেøড ১১ টি, বিষাক্ত মলম ১০ টি, চাকু ০১ টি, মোবাইল ফোন ০৯টি এবং নগদ ৩,২৯০/-টাকা উদ্ধার করা হয়।

 

 

গ্রেফতারকৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন এলাকায় অজ্ঞানপার্টির সদস্যরা ঘোরাফেরা করতে থাকে। সহজ সরল যাত্রীদের টার্গেট করে কখনও তাদেরকে ডাব, কোমল পানীয় কিংবা পানির সাথে বিষাক্ত চেতনানাশক ঔষধ মিশিয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করে।

 

 

আবার কখনও যাত্রীবেশে বাস ও ট্রেনে চড়ে যাত্রীদের পাশে বসে তাদের নাকের কাছে চেতনানাশক ঔষধে ভেজানো রুমাল দিয়ে যাত্রীদের অজ্ঞান করে থাকে। উক্ত বিষাক্ত পানীয় সেবন করার বা বিষাক্ত স্প্রের ঘ্রাণ নেওয়ার পর উক্ত যাত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়লে তার সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে তারা ভিড়ের মধ্যে মিশে যায়।

 

 

 

এছাড়াও কখনও ভিড়ের মধ্যে যাত্রীদের চোখে-মূখে বিষাক্ত মলম বা মরিচের গুড়া বা বিষাক্ত স্প্রে করে যাত্রীদের যন্ত্রণায় কাতর করে সর্বস্ব কেড়ে নেয়। এরপর কোন সহৃদয় ব্যক্তি উক্ত অজ্ঞান বা অসুস্থ যাত্রীকে হাসপাতালে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে। চেতনানাশকের পরিমান বেশী হলে উক্ত ভুক্তভোগীর জ্ঞান ফিরতে ৭২ ঘন্টা পর্যন্ত লেগে থাকে। অজ্ঞানপার্টির শিকার ব্যক্তি শারিরীকভাবে দুর্বল ও বয়স্ক হলে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। অন্যদিকে ভূক্তভোগীর চোখে-মূখে বিষাক্ত মলম লাগানোর ফলে তার দৃষ্টিশক্তি চিরতরে হারানোর সম্ভাবনা থেকে যায়। এসব অজ্ঞানপার্টির সদস্যরা নির্বিঘেœ তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

 

 

অন্যদিকে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীরা রাজধানীর বিভিন্ন অলি গলিতে উৎপেতে থাকে। সুযোগ পাওয়া মাত্রই তারা পথচারী, রিকশা আরোহী, যানজটে থাকা সিএনজি, অটোরিকশার যাত্রীদের ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে সর্বস্ব লুটে নেয়। সন্ধ্যা হতে ভোর পর্যন্ত তুলনামূলক জনশূন্য রাস্তা, লঞ্চঘাট, বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশন এলাকায় ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

 

 

তাদের ছিনতাইকাজে বাধা দিলে তারা নিরীহ পথচারীদের প্রাণঘাতী আঘাত করতে দ্বিধা বোধ করেনা। খিলগাঁও মালিবাগ রেইল গেইট, দৈনিক বাংলা মোড়, পীরজঙ্গি মাজার ক্রসিং, কমলাপুর বটতলা, মতিঝিল কালবার্ট রোড, নাসিরের টেক হাতিরঝিল, শাহবাগ, গুলবাগ, রাজউক ক্রসিং, ইউবিএল ক্রসিং পল্টন মোড়, গোলাপ শাহর মাজার ক্রসিং, হাইকোর্ট ক্রসিং, আব্দুল গণি রোড, মানিকনগর স্টেডিয়ামের সামনে, নন্দীপাড়া ব্রিজ, বাসাবো ক্রসিং এলাকায় সন্ধ্যা হতে ভোর রাত পর্যন্ত ছিনতাইকারীদের তৎপরতা বেশি পরিলক্ষিত হয়।

 

 

 

এ সকল অজ্ঞানপার্টি ও ছিনতাইকারীদের আইনের আওতায় আনার ফলে পথচারীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। রাজধানীবাসী এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে রাজধানীতে আগত যাত্রীরা যাতে নিরাপদে দৈনন্দিন কাজকর্ম সম্পন্ন করে নির্বিঘেœ স্বস্তির সাথে বাড়ী ফিরে যেতে পারেন এলক্ষ্য নিয়ে সংঘবদ্ধ অজ্ঞানপার্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের বিরুদ্ধে র‌্যাবের সাড়াঁশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ধৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বীণা রানী দাস, পিপিএম (বার)
পুলিশ সুপার
স্টাফ অফিসার (অপস্ ও ইন্ট শাখা)
পক্ষে পরিচালক