বাংলাদেশ ০৭:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :

সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,, সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,,০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০, ০১৭১২-৪৪৬৩০৬,০১৭১১-০০৬২১৪ সম্পাদক

     
ব্রেকিং নিউজ ::
চট্টগ্রামে নির্ধারিত সময়ের আগেই কোরবানির পশুর বর্জ্যমুক্ত তানোর পৌর বাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আওয়ামীলীগ নেতা সুজন রাঙ্গাবালীতে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা। রাঙ্গাবালী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা। বেলাল চেয়ারম্যানের ঈদ শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা হত-দরিদ্রের মাঝে রাবি ছাত্রলীগের ইদ উপহার বিতরণ চট্টগ্রামে ঈদুল আজহা উপকরনে কিনতে ব্যস্থ কোরবানিরা প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়ম, তথ্য সংগ্রহ কালে সাংবাদিককে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে জুতা মারার হুমকি। উত্তরবঙ্গের টিকেট কালোবাজারি চক্রের প্রধান দুই সদস্য নুরুজ্জামান ও জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। রংপুরের পীরগঞ্জে ইয়াবা, জুয়ারী,ও ওয়ারেন্টের আসামী সহ ৮জনকে আটক করে পীরগঞ্জ থানা পুলিশ পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জনপ্রিয় নেতা এহসাম হাওলাদার শাহজাদপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অটোরিক্সা চালকের মৃত্যু পঞ্চগড়ে নিখোঁজের একদিন পর পকুরে মিললো কলেজ ছাত্রীর লাশ ভান্ডারিয়ায় ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্থ ৩ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিলেন সমাজ সেবক মিঠু মিয়া বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার।
কালের অতল গর্ভে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য গরুর গাড়ি

কালের অতল গর্ভে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য গরুর গাড়ি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:০০:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২২
  • ১৭৮১ বার পড়া হয়েছে

কালের অতল গর্ভে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য গরুর গাড়ি

 

 

 

 

 

নাদিম আহমেদ অনিক, স্টাফ রিপোর্টার-

 

মৎস্য ও শষ্য ভান্ডার খ্যাত নওগাঁ ও তার উপজেলাগুলোতে এক সময়ের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম গ্রাম বাংলার জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহি গরুর গাড়ি আজ বিলুপ্তির পথে। নতুন নতুন প্রযুক্তির ফলে মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন ঘটছে, হারিয়ে যাচ্ছে অতীতের এই ঐতিহ্য। দুই যুগ আগেও গরুর গাড়িতে চড়ে বধূ যেত বরের বাড়ী। গরুর গাড়ি ছাড়া কল্পনাও করা যেত না বিয়ে। শুধু বিয়ে বাড়িই নয়, মাল পরিবহনে গরুর গাড়ি ছিল একমাত্র পরিবহন বাহন। গরুর গাড়ি রচালককে বলা হয় গাড়িয়াল। আর তাই চালককে উদ্দেশ্য করে রচিত হয়েছে ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই’ কিংবা বোলাও গাড়ি, আরেক নজর দেখিয়া ন্যাং মুই দয়ার বাপের বাড়িরে গাড়িয়াল’ সহ অশংখ্য সব জনপ্রিয় গান। তবে বর্তমানে নানা ধরনের মোটরযানের কারণে অপেক্ষকৃত ধীর গতির এই যানটির ব্যবহার একেবারেই নেই বললেই চলে। তাই এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। বর্তমান যুগ হচ্ছে যান্ত্রিক যুগ।

 

 

 

জানা যায়, গরুর গাড়ির ইতিহাস সুপ্রাচীন। খ্রিস্টজন্মের ১৬০০ – ১৫০০ বছর আগেই সিন্ধু অববাহিকা ও ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম অ লে গরুর গাড়ির প্রচলন ছিল, যা সেখান থেকে ক্রমে ক্রমে দক্ষিণেও ছড়িয়ে পড়ে। গ্রাম বাংলায় এ ঐতিহ্য আজ তা বিলুপ্তির পথে। একসময় উত্তরাঞ্চলের পলী এলাকার জনপ্রিয় বাহন ছিল গরুর গাড়ি। বিশেষ করে এই জনপদে কৃষি ফসল ও মানুষ বহনের জনপ্রিয় বাহন ছিল গরুর গাড়ি। যুগের পরিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে এই বাহন। মাঝে মধ্যে প্রত্যক্ষ এলাকায় দু-একটি গরুর গাড়ি চোঁখে পড়লেও শহরাঞ্চলে একেবারেই দেখা যায় না। সে কারণে শহরের ছেলেমেয়েরা দূরের কথা, বর্তমানে গ্রামের ছেলে মেয়েরাও গরুর গাড়ি শব্দটির সঙ্গে পরিচিত নয়। এমনকি অনেক শহুরে শিশু গরুর গাড়ি দেখলে বাবা-মাকে জিজ্ঞেস করে গরুর গাড়ি সম্পর্কে। গরুর গাড়ি দুই চাকাবিশিষ্ট গরু বা বলদে টানা এক প্রকার বিশেষ যান।

 

 

 

 

এ যানে সাধারণত দুটি চাকা যুক্ত থাকে। গাড়ির সামনের দিকে একটি জোয়ালের সাথে দুটি গরু বা বলদ জুটি মিলে গাড়ি টেনে নিয়ে চলে। সাধারণত চালক বসেন গাড়ির সামনের দিকে। আর পেছনে বসেন যাত্রীরা। বিভিন্ন মালপত্র বহন করা হয় গাড়ির পেছন দিকে। বিভিন্ন কৃষিজাত দ্রব্য ও ফসল বহনের কাজে গরুর গাড়ির প্রচলন ছিল ব্যাপক। মানুষ বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় মালামাল বহনের জন্য বাহন হিসেবে ব্যবহার করছে ট্রাক, পাওয়ার টিলার, লরি, নসিমন- করিমনসহ বিভিন্ন মালগাড়ি। মানুষের যাতায়াতের জন্য রয়েছে মোটরগাড়ি, রেলগাড়ি, বেবিট্যাক্সি, অটোরিকশা ইত্যাদি।

 

 

 

ফলে গ্রামা গেলেও আর চোখে পড়ে না গরুর গাড়ি। অথচ গরুর গাড়ির একটি সুবিধা হলো, এতে কোনো জ্বালানি লাগে না। ফলে ধোঁয়া হয় না। পরিবেশের কোনো ক্ষতিও করে না। এটি পরিবেশবান্ধব একটি যানবাহন। আবার ধীর গতির কারণে এতে তেমন কোনো দুর্ঘটনারও আশংকা থাকে না। অথচ যুগের পরিবর্তনে আমাদের প্রিয় এই গরুর গাড়ি প্রচলন আজ হারিয়ে যাচ্ছে কালের অতল গর্ভে।

 

 

 

 

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে নির্ধারিত সময়ের আগেই কোরবানির পশুর বর্জ্যমুক্ত

কালের অতল গর্ভে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য গরুর গাড়ি

কালের অতল গর্ভে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য গরুর গাড়ি

আপডেট সময় ০৪:০০:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২২

 

 

 

 

 

নাদিম আহমেদ অনিক, স্টাফ রিপোর্টার-

 

মৎস্য ও শষ্য ভান্ডার খ্যাত নওগাঁ ও তার উপজেলাগুলোতে এক সময়ের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম গ্রাম বাংলার জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহি গরুর গাড়ি আজ বিলুপ্তির পথে। নতুন নতুন প্রযুক্তির ফলে মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন ঘটছে, হারিয়ে যাচ্ছে অতীতের এই ঐতিহ্য। দুই যুগ আগেও গরুর গাড়িতে চড়ে বধূ যেত বরের বাড়ী। গরুর গাড়ি ছাড়া কল্পনাও করা যেত না বিয়ে। শুধু বিয়ে বাড়িই নয়, মাল পরিবহনে গরুর গাড়ি ছিল একমাত্র পরিবহন বাহন। গরুর গাড়ি রচালককে বলা হয় গাড়িয়াল। আর তাই চালককে উদ্দেশ্য করে রচিত হয়েছে ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই’ কিংবা বোলাও গাড়ি, আরেক নজর দেখিয়া ন্যাং মুই দয়ার বাপের বাড়িরে গাড়িয়াল’ সহ অশংখ্য সব জনপ্রিয় গান। তবে বর্তমানে নানা ধরনের মোটরযানের কারণে অপেক্ষকৃত ধীর গতির এই যানটির ব্যবহার একেবারেই নেই বললেই চলে। তাই এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। বর্তমান যুগ হচ্ছে যান্ত্রিক যুগ।

 

 

 

জানা যায়, গরুর গাড়ির ইতিহাস সুপ্রাচীন। খ্রিস্টজন্মের ১৬০০ – ১৫০০ বছর আগেই সিন্ধু অববাহিকা ও ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম অ লে গরুর গাড়ির প্রচলন ছিল, যা সেখান থেকে ক্রমে ক্রমে দক্ষিণেও ছড়িয়ে পড়ে। গ্রাম বাংলায় এ ঐতিহ্য আজ তা বিলুপ্তির পথে। একসময় উত্তরাঞ্চলের পলী এলাকার জনপ্রিয় বাহন ছিল গরুর গাড়ি। বিশেষ করে এই জনপদে কৃষি ফসল ও মানুষ বহনের জনপ্রিয় বাহন ছিল গরুর গাড়ি। যুগের পরিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে এই বাহন। মাঝে মধ্যে প্রত্যক্ষ এলাকায় দু-একটি গরুর গাড়ি চোঁখে পড়লেও শহরাঞ্চলে একেবারেই দেখা যায় না। সে কারণে শহরের ছেলেমেয়েরা দূরের কথা, বর্তমানে গ্রামের ছেলে মেয়েরাও গরুর গাড়ি শব্দটির সঙ্গে পরিচিত নয়। এমনকি অনেক শহুরে শিশু গরুর গাড়ি দেখলে বাবা-মাকে জিজ্ঞেস করে গরুর গাড়ি সম্পর্কে। গরুর গাড়ি দুই চাকাবিশিষ্ট গরু বা বলদে টানা এক প্রকার বিশেষ যান।

 

 

 

 

এ যানে সাধারণত দুটি চাকা যুক্ত থাকে। গাড়ির সামনের দিকে একটি জোয়ালের সাথে দুটি গরু বা বলদ জুটি মিলে গাড়ি টেনে নিয়ে চলে। সাধারণত চালক বসেন গাড়ির সামনের দিকে। আর পেছনে বসেন যাত্রীরা। বিভিন্ন মালপত্র বহন করা হয় গাড়ির পেছন দিকে। বিভিন্ন কৃষিজাত দ্রব্য ও ফসল বহনের কাজে গরুর গাড়ির প্রচলন ছিল ব্যাপক। মানুষ বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় মালামাল বহনের জন্য বাহন হিসেবে ব্যবহার করছে ট্রাক, পাওয়ার টিলার, লরি, নসিমন- করিমনসহ বিভিন্ন মালগাড়ি। মানুষের যাতায়াতের জন্য রয়েছে মোটরগাড়ি, রেলগাড়ি, বেবিট্যাক্সি, অটোরিকশা ইত্যাদি।

 

 

 

ফলে গ্রামা গেলেও আর চোখে পড়ে না গরুর গাড়ি। অথচ গরুর গাড়ির একটি সুবিধা হলো, এতে কোনো জ্বালানি লাগে না। ফলে ধোঁয়া হয় না। পরিবেশের কোনো ক্ষতিও করে না। এটি পরিবেশবান্ধব একটি যানবাহন। আবার ধীর গতির কারণে এতে তেমন কোনো দুর্ঘটনারও আশংকা থাকে না। অথচ যুগের পরিবর্তনে আমাদের প্রিয় এই গরুর গাড়ি প্রচলন আজ হারিয়ে যাচ্ছে কালের অতল গর্ভে।