বাংলাদেশ ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :

সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,, সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,,০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০, ০১৭১২-৪৪৬৩০৬,০১৭১১-০০৬২১৪ সম্পাদক

     
ব্রেকিং নিউজ ::
ভান্ডারিয়ায় ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্থ ৩ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিলেন সমাজ সেবক মিঠু মিয়া বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। বুড়িচং ফজলুর রহমান মেমোরিয়াল কলেজ অব টেকনোলজির শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মাদক সাপ্লাইয়ের অভিযোগ  পেকুয়ায় ইভটিজিংয়ের দায়ে ২ জনকে কারাদণ্ড পীরগঞ্জ মহিলা কলেজে মেহেদী উৎসব অনুষ্ঠিত। পীরগঞ্জে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও জীবন জীবীকা বিষয়ক প্রশিক্ষণ চলছে পাঠক শূন্য রাজশাহীর পুঠিয়ার সাধারণ পাঠাগার হত্যা মামলার পলাতক অন্যতম আসামী নুরুলকে র‍্যাব কর্তৃক গ্রেফতার। রাজশাহীর পুঠিয়ায় যাবজ্জাীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী গ্রেপ্তার কলাপাড়ায় জেলেদের জালে শিকার হলো জীবিত এক ডলফিন। দৈনিক আমার সংবাদ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত রাজশাহী মহানগরীতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার মির্জাগঞ্জে আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ শেখ কামাল আইটি ট্রেনিংয়ে সারাদেশের মধ্যে প্রথম হয়েছে রাজাপুরের মশিউর রহমান তামিম ত্রিশালে রেইজ’র অভিবাসী বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন

আলাদিনের চেরাগ পাওয়া বালিয়াডাঙ্গীর বেলাল দুদকের নজদারীতে

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৩:৩৭:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ মে ২০২৪
  • ১৬৮৩ বার পড়া হয়েছে

 

 

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বালিয়াডাঙ্গীর বেলাল ক’বছরে আলাদিনের আশ্বর্য্য চেরাগ পেয়ে এখন আংগুল ফুলে কলাগাছে রুপান্তরীত হয়েছে। আদালতে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার বিষয়ে দুদক তদন্তে নেমেছেন বলে জানাগেছে।

বাবার সম্পত্তির বিবরণ:

বেলালের বাবার নাম বাবর আলী ওরফে বুলবুল। বাড়ী বালিয়াডাঙ্গীর চাড়োলের মধুপুর কালিতলা গ্রামে।

বাবার তেমন কোন স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি না থাকলে এখন বাবা, ছেলে ও ভাইয়ের নামে বেনামে অঢেল সম্পদ রয়েছে।ক’বছর আগে বাবা চুরি করে বেড়াতো বলে এলাকাবাসী এমন তথ্য জানিয়েছেন।

বালিয়াডাঙ্গীসহ এলাকার আশ পাশের সকল বৈদ্যুতিক লাইনের তাজিয়ায় উঠে তামার তার চুরি করে বিক্রি করেছে।ট্রান্সমিটার ও তাজিয়ার এঙ্গেল চুরি করে বিক্রির দায়ে জেলও খেটেছে।

কয়েক বছর আগে বালিয়াডাঙ্গী প্রেট্রোল পাম্পের পূর্ব পাশে বালিয়াডাঙ্গী থেকে ঠাকুরগাও গামী ১১ হাজার কেবি বৈদ্যুতিক লাইনের তামার তার কাটতে গিয়ে বেলালের বাবা বাবর আলী ওরফে বুলবুলের সহচর দেলোয়ার ওরফে দুলু বৈদুতিক তারের সাথে জড়িয়ে মারা যায়। তার বাড়ী বুলবুলের বাড়ীর পাশে উত্তর বালিয়াডাঙ্গী গ্রামে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালিতলা গ্রামের প্রবীন শিক্ষক জানান, গ্রামে বুলবুলের অত্যচারে গ্রামের মানুষ অতিষ্ঠ ছিল।চুরি বিদ্যায় সে অত্যন্ত দক্ষ ছিল। ধান, চাল, বেগুন, পটল, শুকনা মরিচ ও শুকনা মরিচগুলো চোখে চোখে রাখতে হতো। ঘর থেকে বের করে নিয়ে পালাতো মুহুর্ত্বের মধ্যে। গ্রামের মানুষ তার বাবা গাঠিয়া ডাক্তারকে বিচার দিয়ে দিয়ে যখন কুল কিনারা পাচ্ছিলো না তখন গ্রাম বাসি বুলবুলকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেয়।

ওই শিক্ষক আরো জানান, আমরাতো এখন অবাক! এতো অল্প সময়ে বুলবুল ও তার ছেলে কিভাবে শতকোটির টাকার মালিক হলো? এমন প্রশ্ন শুধু ওই শিক্ষকের নয় এলাকার অসংখ্য মানুষের।

অনুসন্ধ্যানে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালের শেষের দিকে চুরির দায়ে গ্রাম থেকে বিতারিত হওয়ার পর বালিয়াডাঙ্গী বাজারে জঙ্গলবাড়ী গ্রামের নজির ঝালাইয়ের দোকানে কর্মচারী ছিলেন বুলবুল। নজির মৃত্যুর পর বালিয়াডাঙ্গীতে একটি ঝালাইয়ের দোকান দেন বুলবুল। দোকানের আড়ালে চলে বৈদ্যুতিক তামার তার, ট্রান্সফর্মার ও এঙ্গেল চুরি কাজ। দুর্ধর্ষ চোর হিসেবে এলাকায় তার নাম আতংক ছড়িয়ে পরে। এ নামাতংক ব্যবহার করে বালিয়াডাঙ্গী সেন্টারপাড়ার হাকিমউদ্দীনের বাড়ীর যায়গা নাম মাত্র টাকা দিয়ে দলীল করে দখল করে বাড়ী করেন। পরে মামলা হলে আদালত থেকে উচ্ছেদের আদেশ পান হাকিম উদ্দিন। কিন্তু তার প্রভাবের কারণে এখনো দখল উচ্ছেদ করতে পারেনি আইন প্রয়োগকারীরা। এলাকার দুর্ধর্ষ লোক হিসেবে যা খুশী তাই করতে চান বুলবুল। দোকানে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের দায়ে আদালত তাকে জেলে পাঠান। জেল থেকে এসে আবারও জোড়ে শোরে শুরু করে চুরি কাজ। তার উপর প্রশাসনিক নজরদারী বাড়ানোর কারণে ধীরে ধীরে চুরি কাজ ছেড়ে দেন। শুরু করেন লেদ ওয়ার্কসপের ব্যবসা। পাশাপাশি ছেলে বেলাল শুরু করে সমিতির কার্যক্রম।

চেরাগ পাওয়ার কাহিনী:

২০১০ সাল। বালিয়াডাঙ্গী সেন্টার (ইক্ষু ক্রয় কেন্দ্র) মাঠে গণউন্নয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি নামে একটি সমিতির সুচনা হয়। সমিতির নেতৃত্ব দেন বেলাল উদ্দিন। সিদ্ধান্ত হয় প্রতিদিন প্রতি সদস্য দুই টাকা করে সঞ্চয় জমা করার। কয়েক বছর চলার পর সমিতির মুল সদস্যদের বাদ দিয়ে বেলালের পরিবারের সদস্যসহ তার আঞ্জাবহ কিছু সদস্য দিয়ে সমবায় অধিদপ্তর থেকে একটি নিবন্ধন নেন। ধীরে ধীরে পূর্বের সদস্যদের বের করে দেওয়ার চক্রান্ত শুরু করে।

সমিতির কার্যক্রম শুরু করে ঢেকনাপাড়াস্থ আনিসুর রহমান (চা দোকান দার) এর বাড়ীর একটি রুম ভাড়া নিয়ে। সেখান থেকে শুরু হয় চড়া সুদের ব্যবসা। শুরু হয় চেক ও স্ট্যাম্প জমা নিয়ে টাকা সমিতির পাশাপাশি সুদ লেনদেনের ব্যবসা। মানুষের কাছ থেকে ক্ষুদ্র সঞ্চয়, এককালীন সঞ্চয় ও ডিপিএস জমার  কার্যক্রম শুরু করে মানুষের দৃষ্টি কারেন বেলাল। শুরু করেন ব্যাংকিং কার্যক্রম। জায়গা জমি কেনা ও মানুষের জমি ও বাড়ী বন্ধক নেওয়া শুরু হয় তার। প্রথম বন্ধক শুরু হয় তার ভাড়া বাড়ী আনিস চায়ের দোকানদারের বাড়ীটি। টাকা সমিতির কিন্তু রেজিষ্ট্রি হয় তার ও তার বাবাসহ পরিবারের লোকজনের নামে। জমিতে সমিতির নামে সাইনবোর্ড লাগালে মানুষের বিশ্বাস বাড়তে থাকে সমিতির প্রতি। এতে পরিধিও বাড়ে। পরে বালিয়াডাঙ্গীস্থ কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির যায়গা ও গোডাউনটি ভাড়া নিয়ে সমিতির কার্যক্রম শুরু করে। এতে মানুষের দৃষ্টি পরে সমিতির উপর।ব্যপকহারে মানুষ টাকা জমা করা শুরু করে।

মানুষের মোগজ ধোলায়ের কৌশল:

জানাগেছে,সমিতির টাকা দিয়ে জমি কিনে নিজ ও পরিবারের লোকজনের নামে রেজিষ্ট্রি করে সমিতির নামে জমিতে সাইনবোর্ড টাংগিয়ে লোকজনকে বোকা বানানো বা মোগজ ধোলাই করার কৌশল তার অনেক পুরোনো। গণউন্নয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতির নামে ব্র্যাক সংলগ্ন জমিটিতে অনেক দিন সমিতির সাইনবোর্ড থাকলেও পরে জানাগেছে সেটিও তার ও তার পরিবারের নামে রেজিষ্ট্রি করা। একই রকম ঘটনা ঘটেছে বালিয়াডাঙ্গী আলী প্রেট্রোল পাম্পের উত্তর পাশে, শুকানী, সোনাকান্দর (ভাটা নামক স্থানে), লাহিড়ী,সাইফুল লোহা দোকানের পূর্বপাশে,বালিয়াডাঙ্গী সোনালী ব্যাংক সংলগ্ন জমি ও বালিয়াডাঙ্গী পল্লী বিদ্যুৎ নামক স্থানে যেখানে মাছের পোনা উৎপাদনের হ্যাচারী করেছে।

জানাগেছে একই রকম কাজ করেছে সদরের হরিহরপুর, পুরাতন বাসষ্ট্যান্ড, শহরের ঘোয়ালপাড়া, সরকারপাড়া ও সালন্দর সিংপাড়াতেও।

এছাড়াও সদস্যদের বোকা বানানোর আরো কৌশল হচ্ছে নতুন নতুন মডেলের দুই চাকা ও চার চাকার গাড়ী কিনে চমক দেখানো। সদস্যদের বোঝানো হয় গাড়ীগুলো সমিতির।

এতে মানুষের গভীর বিশ্বাস তৈরী করে মানুষের কাছ থেকে দীর্ঘ মেয়াদী আমানত সংগ্রহ করে চরা সুদের ব্যবসায় খাটানো হয়। মানুষের মোগজ ধোলায়ের জন্য প্রথমে ৪লক্ষ ৯০হাজার টাকায় একটি মোটর সাইকেল কিনে সমিতির মোটরসাইকেল হিসেবে ব্যবহার করেন। তখন এই এলাকায় ওটিই ছিল সবচেয়ে দামী মোটর সাইকেল। তার পরে মরহুম সাবেক ইউপি জামাল উদ্দীনের প্রাইভেট কারটি কিনেন। যেটির গাঁয়ে গণউন্নয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিখে এলাকায় দাপিয়ে চলেন। তার পরে একটি কালো রংগের Rash জীপ গাড়ী কিনলেন। এখন একটি সাদা রং এর কোটি টাকা মূল্যের গাড়ী নিয়ে এলাকায় ঘুরেন। প্রতিটি গাড়ীই সদস্যদের কাছে বা এলাকাবাসীর কাছে সমিতির গাড়ী। আসলে ঘটনাটি উল্টো। বেলাল মানুষের দৃষ্টি কারার জন্যই এসব নাটক করেন একাধীক সুত্রে জানাগেছে।

জমি বন্ধক ও রেজিস্ট্রি :

জানাগেছে, টাকা দিয়ে জমি বন্ধক রাখা বা রেজিষ্ট্রি করে রাখার অসংখ্য ঘটনা রয়েছে। শর্তসাপেক্ষে ব্যবসার জন্য কিছু টাকা দিয়ে জমি লিখে নিয়ে (জমি ফেরত দেওয়ার শর্তে) বেকায়দায় ফেলেন বেলাল। চরা সুদে এক সময় জমি ছেড়ে দিয়েও হয় না আরো সুদের টাকা গুনতে হয়। অনেকেই তার অত্যাচারে বাড়ীঘর ছেড়ে এলাকার বাহিরে চলে গেছেন।

ঈষিতা হোটেলের মালিক ইউনুস ও তার স্ত্রী আকলিমা জানান, বাড়ীর জমি কেনার সময় আমার কিছু টাকার দরকার হয়। আমি সমিতির লোনের জন্য গেলে তিনি শর্ত সাপেক্ষে টাকা দিতে রাজি হয়। শর্ত হচ্ছে অর্ধেক জমি তাঁর নামে এবং অর্ধেক জমি আমার নামে রেজিষ্ট্রি দিতে হবে। সুদসহ টাকা ফেরৎ দিলে আমাকে জমি ফেরত দিবে। এতে আমি রাজী হয়ে স্বল্প সুদে টাকা নিলেও পরে চরা সুদের কারণে আমি আমার অর্ধেক জমি দিয়েও রেহায় পায়নি। দোকান পার্ট বন্ধ করে এলাকা ছাড়তে হয়েছে। এরকম ইন্জিনিয়ার জাকির, আনিস চায়ের দোকানদার, মনজুর আলম, দারাজ মেকারসহ অসংখ্য মানুষের সংগে জমি বন্ধকের ঘটনা রয়েছে। আনিস বাদে কেহই জমি ফেরত পাননি বলে জানা গেছে।

চেক জালিয়াতি:

সমিতি থেকে চাকুরি ছেড়ে দেওয়া ছোট সিংগিয়া গ্রামের এক মাঠকর্মী জানান,সমিতি ও সুদের ব্যবসার পাশাপাশি চেক কিনে মানুষকে বিপদে ফেলা তার কাছে এখন চুটকির ব্যপার। কুড়িয়ে পাওয়া সই স্বাক্ষর করা চেক পাইলেই তিনি কিনে নেন। এর পরে শুরু হয় হয়রানী।

আরাজী সরলিয়া গ্রামের শিক্ষক এরশাদ আলী শিক্ষকসহ সাধারণ মানুষের কাছে চেক ও স্ট্যাম্প জমা নিয়ে সুদের ব্যবসা করতো। কয়েক বছর আগে এরশাদ ক্যানসারে আক্রান্ত হলে সমিতির বেলালউদ্দিনের নিকট বিভিন্ন শিক্ষকের চেক ও স্ট্যাম্পগুলো জমা রেখে কিছু টাকা নেন। এখন অসংখ্য শিক্ষক বেলালের কাছে জিম্মি হয়ে পরেছে। মামলাও দিচ্ছে অনেক মানুষের বিরুদ্ধে।

চেকের মামলা:

সমিতির বেলালউদ্দিন অসংখ্য মানুষের বিরুদ্ধে চেক ডিজ অর্নার ও স্ট্যাম্পের মামলা করে হয়রানী করেছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। অনেক মানুষকে চেকের মামলার ভয়,আবার অনেককে উকিল নোটিশ দিয়ে ভয় ভিতি দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করা হচ্ছে। এসব মামলা বেলাল নিজে অথবা তার বাবা, ভাই, সমিতির কমিটির লোক ও মাঠকর্মীদের বাদী করে আদালতে মামলা ও মামলার নাটকও করা হচ্ছে। চেক জমা দিয়ে তিন লক্ষ টাকা নিয়ে চার লক্ষ টাকা সুদের দিয়েও আবার ৩০ লক্ষ টাকার মামলা হয়েছে বলে জানান এক ভুক্তভোগি।

মাদরাসার নামে জমি দখল :

বেলালের ভাই সরিফুল ইসলাম চট্রগ্রাম হাটহাজারী থেকে মুফতী হয়ে এলাকায় আসেন। এর পরই মানুষকে বেহেস্তের স্বপ্ন দেখিয়ে মসজিদ-মাদরাসার নামে কিছু জমি রেজিস্ট্রি করে নেন এবং কিছু মানুষকে মসজিদের নামে দান করান। কিছু জমি রেজিষ্ট্রি না করে দখল করে নেন। বালিয়াডাঙ্গী দারুল উলুম মাদরাসার সুপার আব্দুল কুদ্দুস জানান,আমাদের মাদরাসার যায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রেখেছে। একাধীক বার জমির বিষয়টি বলার পরও সমাধান করছেন না তারা।

সহযোগিতার নামে মানুষের দৃষ্টি নেওয়া:

ঠাকুরগাঁও বালিয়াডাঙ্গীতে ওয়েলবীং বাংলাদেশ সোসাইটি এর তত্ত্বাবধানে গ্লোবাল রিলিফ ট্রাস্ট (GRT) এবং এল আই এ রিলিফ ট্রাস্ট সহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার এর অর্থায়নে জমিরিয়া ইহ্ইয়াউল উলূম মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুফতি শরিফুল ইসলাম, তার নিকট আত্মীয় স্বজনের নিকট ত্রাণ বিতরণ করেছেন। শরিফুল বড় ভাই সুদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক

গণ উন্নয়ন সমবায় সমিতির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মোঃ বেলাল কে দিয়ে তালিকা করেছে। বেলালের সুদের প্রতিষ্ঠানের কর্মচারি ও সদস্যদের মাঝে ত্রাণ প্রদান করেছে বলে অনুসন্ধানে এরকম তথ্য প্রমান পাওয়া গেছে।

মানুষের প্রতি অত্যাচার:

মানুষের প্রতি অত্যাচারের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।হঠাৎ অনেক টাকার মালিক হয়ে যাওয়ার কারণে মানুষকে মানুষ মনে করেন না বেলাল ও তার পরিবারের লোকেরা। প্রতিবেশী আকরাম চৌধুরী, ইসলাম, মাহাবুব আলম মানু, মোজাফর, সংগে ভালো সম্পর্ক নাই তার।সাংবাদিক রমজান আলী ও বেলাল উদ্দিন একে অন্যের প্রতিবেশী। ইতোমধ্যে বেলাল সাংবাদিক রমজানের ঘরের ওয়াল ঘেঁষে সীমানা প্রাচির করলে তার সংগে সম্পর্কের অবনতি হয়। ইতোমধ্যে অনেক প্রতিবেশী কে মামলায় ফেলে জেরবার করেছেন এমন অভিযোগ ঊঠেছে।

আদালতে মামলা:

জানাগেছে, বেলালউদ্দিন শতাধীক মানুষের উপর নিজে, পরিবারের লোকদিয়ে ও সমিতির লোক দিয়ে নামে বেনামে মামলা করেছেন। অনেক মামলা মোটা অংকের টাকা নিয়ে আপোষও করেছেন।

অসংখ্য মানুষকে মামলায় জড়িয়ে জেরবার করেছেন। কাউকে টাকা দিয়ে মামলার আসামী বানিয়ে শায়েস্তা করেছেন। কারো জমি দখল নিতে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ঝামেলা করেছেন। তার বিরুদ্ধে চান্ঞল্যকর পালানু হত্যা মামলার অভিযোগও রয়েছে। অনেক টাকার বিনিময়ে থানা থেকে ফাইনাল নিলেও এখন সিআইডিতে তদন্তাধীন রয়েছে। অন্য একটি মামলা দুদক তার অনেক বিষয় নিয়ে মাঠে তদন্তে রয়েছে বলে জানা গেছে।

দুদকের তদন্ত ও সমিতির বর্তমান অবস্থা:

জানাগেছে,দুদকের তদন্ত চলছে। তার সমিতিতে যারা টাকা জমা রেখেছে তাদের মধ্য হতে অনেকেই টাকা তোলার জন্য হুমরি খেয়ে পরছে বলে জানা গেছে। সমিতিতে যারা টাকা জমা করেছিল এবং মেয়াদ পূর্তির দুই মাস অতিক্রম হলেও তাদের টাকা দিতে পারছে না। গ্রাহকরা চাপ দিলে তাদের সংগে অশোভন আচরণ করছে এমন অভিযোগ অহরহ।গ্রাহকদের টাকা ফেরৎ দিবে এমন একাধীক তারিখ দিয়েও টাকা দিতে পারছেন না।

অন্যদিকে ব্যাংকের কয়েকগুন বেশী লাভের লোভ দেখিয়েও কেউ আর গণউন্নয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতিকে বিশ্বাস করে এককালীন টাকা রাখছেন বলে একাধীক সূত্রে জানাগেছে।

বালিয়াডাঙ্গীস্থ কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির যায়গা ও গোডাউনটি ভাড়া নিয়ে সমিতির কার্যক্রম শুরু করে। ঐ জায়গায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আব্দুল, আনিসুর, সোহাগ, আব্দুল হামিদ ২০ / ২৫ ধরে কেউ চা বিক্রি করতো কেউ পান বিক্রি করতো। তাদেরকে উচ্ছেদ করে প্রয় ৬ হাজার বর্গফুটের তিনতলা বিল্ডিং নির্মান করেছে মার্কেট বেলাল নিজের টাকা দিয়ে। কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির নামে কোন টাকা নেই। বর্তমানে তারপিতা বাবর আলী ও নিজের সুদকারবারীর প্রতিষ্ঠান ভোগ দখল করে আসছে।   ক্েন্দ্রীয় সমবায় সমিতির কখনো নিজে বা তার পিতা বাবর আলীকে সভাপতি করে থাকে।

 

 

 

 

আপলোডকারীর তথ্য

Banglar Alo News

hello
জনপ্রিয় সংবাদ

ভান্ডারিয়ায় ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্থ ৩ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিলেন সমাজ সেবক মিঠু মিয়া

আলাদিনের চেরাগ পাওয়া বালিয়াডাঙ্গীর বেলাল দুদকের নজদারীতে

আপডেট সময় ০৩:৩৭:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ মে ২০২৪

 

 

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বালিয়াডাঙ্গীর বেলাল ক’বছরে আলাদিনের আশ্বর্য্য চেরাগ পেয়ে এখন আংগুল ফুলে কলাগাছে রুপান্তরীত হয়েছে। আদালতে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার বিষয়ে দুদক তদন্তে নেমেছেন বলে জানাগেছে।

বাবার সম্পত্তির বিবরণ:

বেলালের বাবার নাম বাবর আলী ওরফে বুলবুল। বাড়ী বালিয়াডাঙ্গীর চাড়োলের মধুপুর কালিতলা গ্রামে।

বাবার তেমন কোন স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি না থাকলে এখন বাবা, ছেলে ও ভাইয়ের নামে বেনামে অঢেল সম্পদ রয়েছে।ক’বছর আগে বাবা চুরি করে বেড়াতো বলে এলাকাবাসী এমন তথ্য জানিয়েছেন।

বালিয়াডাঙ্গীসহ এলাকার আশ পাশের সকল বৈদ্যুতিক লাইনের তাজিয়ায় উঠে তামার তার চুরি করে বিক্রি করেছে।ট্রান্সমিটার ও তাজিয়ার এঙ্গেল চুরি করে বিক্রির দায়ে জেলও খেটেছে।

কয়েক বছর আগে বালিয়াডাঙ্গী প্রেট্রোল পাম্পের পূর্ব পাশে বালিয়াডাঙ্গী থেকে ঠাকুরগাও গামী ১১ হাজার কেবি বৈদ্যুতিক লাইনের তামার তার কাটতে গিয়ে বেলালের বাবা বাবর আলী ওরফে বুলবুলের সহচর দেলোয়ার ওরফে দুলু বৈদুতিক তারের সাথে জড়িয়ে মারা যায়। তার বাড়ী বুলবুলের বাড়ীর পাশে উত্তর বালিয়াডাঙ্গী গ্রামে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালিতলা গ্রামের প্রবীন শিক্ষক জানান, গ্রামে বুলবুলের অত্যচারে গ্রামের মানুষ অতিষ্ঠ ছিল।চুরি বিদ্যায় সে অত্যন্ত দক্ষ ছিল। ধান, চাল, বেগুন, পটল, শুকনা মরিচ ও শুকনা মরিচগুলো চোখে চোখে রাখতে হতো। ঘর থেকে বের করে নিয়ে পালাতো মুহুর্ত্বের মধ্যে। গ্রামের মানুষ তার বাবা গাঠিয়া ডাক্তারকে বিচার দিয়ে দিয়ে যখন কুল কিনারা পাচ্ছিলো না তখন গ্রাম বাসি বুলবুলকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেয়।

ওই শিক্ষক আরো জানান, আমরাতো এখন অবাক! এতো অল্প সময়ে বুলবুল ও তার ছেলে কিভাবে শতকোটির টাকার মালিক হলো? এমন প্রশ্ন শুধু ওই শিক্ষকের নয় এলাকার অসংখ্য মানুষের।

অনুসন্ধ্যানে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালের শেষের দিকে চুরির দায়ে গ্রাম থেকে বিতারিত হওয়ার পর বালিয়াডাঙ্গী বাজারে জঙ্গলবাড়ী গ্রামের নজির ঝালাইয়ের দোকানে কর্মচারী ছিলেন বুলবুল। নজির মৃত্যুর পর বালিয়াডাঙ্গীতে একটি ঝালাইয়ের দোকান দেন বুলবুল। দোকানের আড়ালে চলে বৈদ্যুতিক তামার তার, ট্রান্সফর্মার ও এঙ্গেল চুরি কাজ। দুর্ধর্ষ চোর হিসেবে এলাকায় তার নাম আতংক ছড়িয়ে পরে। এ নামাতংক ব্যবহার করে বালিয়াডাঙ্গী সেন্টারপাড়ার হাকিমউদ্দীনের বাড়ীর যায়গা নাম মাত্র টাকা দিয়ে দলীল করে দখল করে বাড়ী করেন। পরে মামলা হলে আদালত থেকে উচ্ছেদের আদেশ পান হাকিম উদ্দিন। কিন্তু তার প্রভাবের কারণে এখনো দখল উচ্ছেদ করতে পারেনি আইন প্রয়োগকারীরা। এলাকার দুর্ধর্ষ লোক হিসেবে যা খুশী তাই করতে চান বুলবুল। দোকানে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের দায়ে আদালত তাকে জেলে পাঠান। জেল থেকে এসে আবারও জোড়ে শোরে শুরু করে চুরি কাজ। তার উপর প্রশাসনিক নজরদারী বাড়ানোর কারণে ধীরে ধীরে চুরি কাজ ছেড়ে দেন। শুরু করেন লেদ ওয়ার্কসপের ব্যবসা। পাশাপাশি ছেলে বেলাল শুরু করে সমিতির কার্যক্রম।

চেরাগ পাওয়ার কাহিনী:

২০১০ সাল। বালিয়াডাঙ্গী সেন্টার (ইক্ষু ক্রয় কেন্দ্র) মাঠে গণউন্নয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি নামে একটি সমিতির সুচনা হয়। সমিতির নেতৃত্ব দেন বেলাল উদ্দিন। সিদ্ধান্ত হয় প্রতিদিন প্রতি সদস্য দুই টাকা করে সঞ্চয় জমা করার। কয়েক বছর চলার পর সমিতির মুল সদস্যদের বাদ দিয়ে বেলালের পরিবারের সদস্যসহ তার আঞ্জাবহ কিছু সদস্য দিয়ে সমবায় অধিদপ্তর থেকে একটি নিবন্ধন নেন। ধীরে ধীরে পূর্বের সদস্যদের বের করে দেওয়ার চক্রান্ত শুরু করে।

সমিতির কার্যক্রম শুরু করে ঢেকনাপাড়াস্থ আনিসুর রহমান (চা দোকান দার) এর বাড়ীর একটি রুম ভাড়া নিয়ে। সেখান থেকে শুরু হয় চড়া সুদের ব্যবসা। শুরু হয় চেক ও স্ট্যাম্প জমা নিয়ে টাকা সমিতির পাশাপাশি সুদ লেনদেনের ব্যবসা। মানুষের কাছ থেকে ক্ষুদ্র সঞ্চয়, এককালীন সঞ্চয় ও ডিপিএস জমার  কার্যক্রম শুরু করে মানুষের দৃষ্টি কারেন বেলাল। শুরু করেন ব্যাংকিং কার্যক্রম। জায়গা জমি কেনা ও মানুষের জমি ও বাড়ী বন্ধক নেওয়া শুরু হয় তার। প্রথম বন্ধক শুরু হয় তার ভাড়া বাড়ী আনিস চায়ের দোকানদারের বাড়ীটি। টাকা সমিতির কিন্তু রেজিষ্ট্রি হয় তার ও তার বাবাসহ পরিবারের লোকজনের নামে। জমিতে সমিতির নামে সাইনবোর্ড লাগালে মানুষের বিশ্বাস বাড়তে থাকে সমিতির প্রতি। এতে পরিধিও বাড়ে। পরে বালিয়াডাঙ্গীস্থ কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির যায়গা ও গোডাউনটি ভাড়া নিয়ে সমিতির কার্যক্রম শুরু করে। এতে মানুষের দৃষ্টি পরে সমিতির উপর।ব্যপকহারে মানুষ টাকা জমা করা শুরু করে।

মানুষের মোগজ ধোলায়ের কৌশল:

জানাগেছে,সমিতির টাকা দিয়ে জমি কিনে নিজ ও পরিবারের লোকজনের নামে রেজিষ্ট্রি করে সমিতির নামে জমিতে সাইনবোর্ড টাংগিয়ে লোকজনকে বোকা বানানো বা মোগজ ধোলাই করার কৌশল তার অনেক পুরোনো। গণউন্নয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতির নামে ব্র্যাক সংলগ্ন জমিটিতে অনেক দিন সমিতির সাইনবোর্ড থাকলেও পরে জানাগেছে সেটিও তার ও তার পরিবারের নামে রেজিষ্ট্রি করা। একই রকম ঘটনা ঘটেছে বালিয়াডাঙ্গী আলী প্রেট্রোল পাম্পের উত্তর পাশে, শুকানী, সোনাকান্দর (ভাটা নামক স্থানে), লাহিড়ী,সাইফুল লোহা দোকানের পূর্বপাশে,বালিয়াডাঙ্গী সোনালী ব্যাংক সংলগ্ন জমি ও বালিয়াডাঙ্গী পল্লী বিদ্যুৎ নামক স্থানে যেখানে মাছের পোনা উৎপাদনের হ্যাচারী করেছে।

জানাগেছে একই রকম কাজ করেছে সদরের হরিহরপুর, পুরাতন বাসষ্ট্যান্ড, শহরের ঘোয়ালপাড়া, সরকারপাড়া ও সালন্দর সিংপাড়াতেও।

এছাড়াও সদস্যদের বোকা বানানোর আরো কৌশল হচ্ছে নতুন নতুন মডেলের দুই চাকা ও চার চাকার গাড়ী কিনে চমক দেখানো। সদস্যদের বোঝানো হয় গাড়ীগুলো সমিতির।

এতে মানুষের গভীর বিশ্বাস তৈরী করে মানুষের কাছ থেকে দীর্ঘ মেয়াদী আমানত সংগ্রহ করে চরা সুদের ব্যবসায় খাটানো হয়। মানুষের মোগজ ধোলায়ের জন্য প্রথমে ৪লক্ষ ৯০হাজার টাকায় একটি মোটর সাইকেল কিনে সমিতির মোটরসাইকেল হিসেবে ব্যবহার করেন। তখন এই এলাকায় ওটিই ছিল সবচেয়ে দামী মোটর সাইকেল। তার পরে মরহুম সাবেক ইউপি জামাল উদ্দীনের প্রাইভেট কারটি কিনেন। যেটির গাঁয়ে গণউন্নয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিখে এলাকায় দাপিয়ে চলেন। তার পরে একটি কালো রংগের Rash জীপ গাড়ী কিনলেন। এখন একটি সাদা রং এর কোটি টাকা মূল্যের গাড়ী নিয়ে এলাকায় ঘুরেন। প্রতিটি গাড়ীই সদস্যদের কাছে বা এলাকাবাসীর কাছে সমিতির গাড়ী। আসলে ঘটনাটি উল্টো। বেলাল মানুষের দৃষ্টি কারার জন্যই এসব নাটক করেন একাধীক সুত্রে জানাগেছে।

জমি বন্ধক ও রেজিস্ট্রি :

জানাগেছে, টাকা দিয়ে জমি বন্ধক রাখা বা রেজিষ্ট্রি করে রাখার অসংখ্য ঘটনা রয়েছে। শর্তসাপেক্ষে ব্যবসার জন্য কিছু টাকা দিয়ে জমি লিখে নিয়ে (জমি ফেরত দেওয়ার শর্তে) বেকায়দায় ফেলেন বেলাল। চরা সুদে এক সময় জমি ছেড়ে দিয়েও হয় না আরো সুদের টাকা গুনতে হয়। অনেকেই তার অত্যাচারে বাড়ীঘর ছেড়ে এলাকার বাহিরে চলে গেছেন।

ঈষিতা হোটেলের মালিক ইউনুস ও তার স্ত্রী আকলিমা জানান, বাড়ীর জমি কেনার সময় আমার কিছু টাকার দরকার হয়। আমি সমিতির লোনের জন্য গেলে তিনি শর্ত সাপেক্ষে টাকা দিতে রাজি হয়। শর্ত হচ্ছে অর্ধেক জমি তাঁর নামে এবং অর্ধেক জমি আমার নামে রেজিষ্ট্রি দিতে হবে। সুদসহ টাকা ফেরৎ দিলে আমাকে জমি ফেরত দিবে। এতে আমি রাজী হয়ে স্বল্প সুদে টাকা নিলেও পরে চরা সুদের কারণে আমি আমার অর্ধেক জমি দিয়েও রেহায় পায়নি। দোকান পার্ট বন্ধ করে এলাকা ছাড়তে হয়েছে। এরকম ইন্জিনিয়ার জাকির, আনিস চায়ের দোকানদার, মনজুর আলম, দারাজ মেকারসহ অসংখ্য মানুষের সংগে জমি বন্ধকের ঘটনা রয়েছে। আনিস বাদে কেহই জমি ফেরত পাননি বলে জানা গেছে।

চেক জালিয়াতি:

সমিতি থেকে চাকুরি ছেড়ে দেওয়া ছোট সিংগিয়া গ্রামের এক মাঠকর্মী জানান,সমিতি ও সুদের ব্যবসার পাশাপাশি চেক কিনে মানুষকে বিপদে ফেলা তার কাছে এখন চুটকির ব্যপার। কুড়িয়ে পাওয়া সই স্বাক্ষর করা চেক পাইলেই তিনি কিনে নেন। এর পরে শুরু হয় হয়রানী।

আরাজী সরলিয়া গ্রামের শিক্ষক এরশাদ আলী শিক্ষকসহ সাধারণ মানুষের কাছে চেক ও স্ট্যাম্প জমা নিয়ে সুদের ব্যবসা করতো। কয়েক বছর আগে এরশাদ ক্যানসারে আক্রান্ত হলে সমিতির বেলালউদ্দিনের নিকট বিভিন্ন শিক্ষকের চেক ও স্ট্যাম্পগুলো জমা রেখে কিছু টাকা নেন। এখন অসংখ্য শিক্ষক বেলালের কাছে জিম্মি হয়ে পরেছে। মামলাও দিচ্ছে অনেক মানুষের বিরুদ্ধে।

চেকের মামলা:

সমিতির বেলালউদ্দিন অসংখ্য মানুষের বিরুদ্ধে চেক ডিজ অর্নার ও স্ট্যাম্পের মামলা করে হয়রানী করেছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। অনেক মানুষকে চেকের মামলার ভয়,আবার অনেককে উকিল নোটিশ দিয়ে ভয় ভিতি দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করা হচ্ছে। এসব মামলা বেলাল নিজে অথবা তার বাবা, ভাই, সমিতির কমিটির লোক ও মাঠকর্মীদের বাদী করে আদালতে মামলা ও মামলার নাটকও করা হচ্ছে। চেক জমা দিয়ে তিন লক্ষ টাকা নিয়ে চার লক্ষ টাকা সুদের দিয়েও আবার ৩০ লক্ষ টাকার মামলা হয়েছে বলে জানান এক ভুক্তভোগি।

মাদরাসার নামে জমি দখল :

বেলালের ভাই সরিফুল ইসলাম চট্রগ্রাম হাটহাজারী থেকে মুফতী হয়ে এলাকায় আসেন। এর পরই মানুষকে বেহেস্তের স্বপ্ন দেখিয়ে মসজিদ-মাদরাসার নামে কিছু জমি রেজিস্ট্রি করে নেন এবং কিছু মানুষকে মসজিদের নামে দান করান। কিছু জমি রেজিষ্ট্রি না করে দখল করে নেন। বালিয়াডাঙ্গী দারুল উলুম মাদরাসার সুপার আব্দুল কুদ্দুস জানান,আমাদের মাদরাসার যায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রেখেছে। একাধীক বার জমির বিষয়টি বলার পরও সমাধান করছেন না তারা।

সহযোগিতার নামে মানুষের দৃষ্টি নেওয়া:

ঠাকুরগাঁও বালিয়াডাঙ্গীতে ওয়েলবীং বাংলাদেশ সোসাইটি এর তত্ত্বাবধানে গ্লোবাল রিলিফ ট্রাস্ট (GRT) এবং এল আই এ রিলিফ ট্রাস্ট সহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার এর অর্থায়নে জমিরিয়া ইহ্ইয়াউল উলূম মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুফতি শরিফুল ইসলাম, তার নিকট আত্মীয় স্বজনের নিকট ত্রাণ বিতরণ করেছেন। শরিফুল বড় ভাই সুদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক

গণ উন্নয়ন সমবায় সমিতির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মোঃ বেলাল কে দিয়ে তালিকা করেছে। বেলালের সুদের প্রতিষ্ঠানের কর্মচারি ও সদস্যদের মাঝে ত্রাণ প্রদান করেছে বলে অনুসন্ধানে এরকম তথ্য প্রমান পাওয়া গেছে।

মানুষের প্রতি অত্যাচার:

মানুষের প্রতি অত্যাচারের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।হঠাৎ অনেক টাকার মালিক হয়ে যাওয়ার কারণে মানুষকে মানুষ মনে করেন না বেলাল ও তার পরিবারের লোকেরা। প্রতিবেশী আকরাম চৌধুরী, ইসলাম, মাহাবুব আলম মানু, মোজাফর, সংগে ভালো সম্পর্ক নাই তার।সাংবাদিক রমজান আলী ও বেলাল উদ্দিন একে অন্যের প্রতিবেশী। ইতোমধ্যে বেলাল সাংবাদিক রমজানের ঘরের ওয়াল ঘেঁষে সীমানা প্রাচির করলে তার সংগে সম্পর্কের অবনতি হয়। ইতোমধ্যে অনেক প্রতিবেশী কে মামলায় ফেলে জেরবার করেছেন এমন অভিযোগ ঊঠেছে।

আদালতে মামলা:

জানাগেছে, বেলালউদ্দিন শতাধীক মানুষের উপর নিজে, পরিবারের লোকদিয়ে ও সমিতির লোক দিয়ে নামে বেনামে মামলা করেছেন। অনেক মামলা মোটা অংকের টাকা নিয়ে আপোষও করেছেন।

অসংখ্য মানুষকে মামলায় জড়িয়ে জেরবার করেছেন। কাউকে টাকা দিয়ে মামলার আসামী বানিয়ে শায়েস্তা করেছেন। কারো জমি দখল নিতে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ঝামেলা করেছেন। তার বিরুদ্ধে চান্ঞল্যকর পালানু হত্যা মামলার অভিযোগও রয়েছে। অনেক টাকার বিনিময়ে থানা থেকে ফাইনাল নিলেও এখন সিআইডিতে তদন্তাধীন রয়েছে। অন্য একটি মামলা দুদক তার অনেক বিষয় নিয়ে মাঠে তদন্তে রয়েছে বলে জানা গেছে।

দুদকের তদন্ত ও সমিতির বর্তমান অবস্থা:

জানাগেছে,দুদকের তদন্ত চলছে। তার সমিতিতে যারা টাকা জমা রেখেছে তাদের মধ্য হতে অনেকেই টাকা তোলার জন্য হুমরি খেয়ে পরছে বলে জানা গেছে। সমিতিতে যারা টাকা জমা করেছিল এবং মেয়াদ পূর্তির দুই মাস অতিক্রম হলেও তাদের টাকা দিতে পারছে না। গ্রাহকরা চাপ দিলে তাদের সংগে অশোভন আচরণ করছে এমন অভিযোগ অহরহ।গ্রাহকদের টাকা ফেরৎ দিবে এমন একাধীক তারিখ দিয়েও টাকা দিতে পারছেন না।

অন্যদিকে ব্যাংকের কয়েকগুন বেশী লাভের লোভ দেখিয়েও কেউ আর গণউন্নয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতিকে বিশ্বাস করে এককালীন টাকা রাখছেন বলে একাধীক সূত্রে জানাগেছে।

বালিয়াডাঙ্গীস্থ কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির যায়গা ও গোডাউনটি ভাড়া নিয়ে সমিতির কার্যক্রম শুরু করে। ঐ জায়গায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আব্দুল, আনিসুর, সোহাগ, আব্দুল হামিদ ২০ / ২৫ ধরে কেউ চা বিক্রি করতো কেউ পান বিক্রি করতো। তাদেরকে উচ্ছেদ করে প্রয় ৬ হাজার বর্গফুটের তিনতলা বিল্ডিং নির্মান করেছে মার্কেট বেলাল নিজের টাকা দিয়ে। কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির নামে কোন টাকা নেই। বর্তমানে তারপিতা বাবর আলী ও নিজের সুদকারবারীর প্রতিষ্ঠান ভোগ দখল করে আসছে।   ক্েন্দ্রীয় সমবায় সমিতির কখনো নিজে বা তার পিতা বাবর আলীকে সভাপতি করে থাকে।