বাংলাদেশ ০৭:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :

সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,, সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,,০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০, ০১৭১২-৪৪৬৩০৬,০১৭১১-০০৬২১৪ সম্পাদক

     
ব্রেকিং নিউজ ::
সিংগাইরে আল ইহসান সমবায় সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে গ্রাহকদের লাখ লাখ টাকা আত্নসাতের অভিযোগ সালথার জয়ঝাফ উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা । পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে ছিল নানান আয়োজন, আজ বেশিভাগ ধর্মপ্রাণ মানুষেরা রোজা রেখেছেন কাউনিয়ায় দৈনিক যুগান্তরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন  কাউখালীতে অটো টেম্পু মালিক সমিতির সদস্যর মৃত্যুতে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত। মধ্যপাড়া খনিজ শিল্পাঞ্চলে যুব সংঘের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তীমূলক অপপ্রচারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা  জাতির পিতার সমাধিতে নেত্রকোনা-১ এবং ময়মনসিংহ- ১০ আসনের সংসদ সদস্যদের শ্রদ্ধা নিবেদন। কাউখালীতে ব্রীজ নির্মান কাজ ৫ বছরে শেষ না হওয়ায় জনগনের ভোগান্তি চরমে। টাকার বিনিময়ে সরকারী চাকুরী প্রলোভনকারী প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ ০২ জন প্রতারককে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১। গলা কেটে মাথা বিচ্ছিন্ন করে নৃশংসভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অন্যতম প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৩। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখার শিক্ষক- কর্মকর্তাগণ পদোন্নতি বঞ্চিত, শিক্ষকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ! বানারীপাড়ায় প্রেসক্লাবের সম্পাদক সুজন মোল্লার বড় বোনের ইন্তেকাল বরিশাল জেলা বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি শফিক শাহিন সম্পাদক মনিরুজ্জামান শেষ ঠিকানার কারিগর মনু মিয়া। বিপুল পরিমাণ ট্রেনের টিকেটসহ ০৫ জন টিকেট কালোবাজারিকে গ্রেফতার

বিপুল পরিমান ভুয়াএনআইডি কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং জাল নথিপত্র তৈরির সরঞ্জামাদি উদ্ধার।

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:৫০:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ মার্চ ২০২২
  • ১৭১৯ বার পড়া হয়েছে

বিপুল পরিমান ভুয়াএনআইডি কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং জাল নথিপত্র তৈরির সরঞ্জামাদি উদ্ধার।

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা হতে ভুয়া এনআইডি কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডর জাল সার্টিফিকেট তৈরি এবং জালিয়াতি চক্রের মূলহোতা গোলাম মোস্তফাসহ ০৫ জন গ্রেফতার। বিপুল পরিমান ভুয়াএনআইডি কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং জাল নথিপত্র তৈরির সরঞ্জামাদি উদ্ধার।

এলিট ফোর্স হিসেবে র‌্যাব আত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন থেকেই আইনের শাসন সমুন্নত রেখে দেশের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে অপরাধ চিহ্নিতকরণ, প্রতিরোধ, শান্তি ও জনশৃংখলা রক্ষায় কাজ করে আসছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জঙ্গি, মাদক, হত্যা, ধর্ষণ ও প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে দেশব্যাপী সুনাম অর্জন করেছে র‌্যাব।

 

সাম্প্রতিক সময়ে বেশকিছু বাস্তুচ্যুত মায়ানমার নাগরিক (রোহিঙ্গা) এক শ্রেণীর অসাধু চক্রের মাধ্যমে ভুয়া এনআইডি কার্ড প্রাপ্ত হয়। এছাড়া কয়েকজন জঙ্গি সদস্য আত্মগোপনের উদ্দেশ্যে ভুয়া এনআইডি কার্ডের মাধ্যমে পাসপোর্ট তৈরি করে বিভিন্ন দেশে গমন করত নানা অপকর্মের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে সেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছে।

 

 

এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে আমরা বেশকিছু দীর্ঘদিনের পলাতক আসামী গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। সেখানে আমরা দেখেছি তারা নিজেদেরকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য ভিন্ন নামে ভুয়া এনআইডি কার্ড তৈরি করে নিজের প্রকৃত পরিচয় আড়াল করে অন্যত্র বসবাস করছে। আপনারা দেখেছেন সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে বেশ কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা ঘাতক পরিবহনের চালকদের গ্রেফতারে দেখেছি তাদের অনেকেই অপরিপক্ক চালক এবং তারা ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহ করত পরিবহন চালাচ্ছে।

 

সম্প্রতিকালে পরিলক্ষিত হচ্ছে যে, কতিপয় অসাধু ব্যক্তি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে অনলাইনে চটকদার বিজ্ঞাপণের মাধ্যমে বিভিন্ন দ্রব্য বেচাকেনার পাশাপাশি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভুয়া এনআইডি কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, বিভিন্ন প্রকার জাল সনদ তৈরি করে আসছে। বর্ণিত বিজ্ঞাপণটি র‌্যাবের সাইবার মনিটরিং সেলের নজরে আসলে র‌্যাব উক্ত চক্রের সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

 

 

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২১শে মার্চ ২০২২ তারিখ র‌্যাব-৩ এর অভিযানে রাজধানীর মালিবাগ, বাসাবো, শাহজাহানপুর ও কোতয়ালী থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এই প্রতারণা চক্রের মূলহোতা (১) মোঃ গোলাম মোস্তফা (৬০), পিতা-মৃতঃ আফসার উদ্দিন আকন্দ, উজিরপুর, বরিশাল ও তার সহযোগী যথাক্রমে (২) মোঃ জালাল বাশার (৫৪), পিতা-মৃতঃ সৈয়দ আলম মোল্লা, মোকসেদপুর, গোপালগঞ্জ (৩) মোঃ মুসলিম উদ্দিন (৬৫), পিতা-মৃতঃ আফসার উদ্দিন, পালং, শরীয়তপুর, (৪) মোঃ মিনারুল ইসলাম (মিন্নি) (২২), পিতা-মৃতঃ শহীদ বেপারী, বকশীগঞ্জ, জামালপুর, এবং ৫। মোঃ তারেক মৃধা (২১), পিতা-মোঃ নাজমুল মৃধা, ঘোষহির হাট, শরীয়তপুর’দেরকে গ্রেফতার করা হয়।

 

 

উক্ত অভিযানে উদ্ধার করা হয় ০২ টি কম্পিউটার, ২৪৬০ টি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের জাল প্রাপ্তি স্বীকার রশিদ, ২৬ টি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, ০১ টি ল্যাপটপ, ০১ টি ডিজিটাল ক্যামেরা, ১৮ টি ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স, ৮০ টি সাদা রঙের প্লাস্টিকের ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরীর বøাঙ্ক কার্ড, ৫০ টি স্বচ্ছ কার্ড হোল্ডার, ০২ রিল সিকিউরিটি লেমিনেটিং পেপার যা দিয়ে জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স ও জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরী করা যায়, ০১ টি কার্ড প্রিন্টার, ০৪ টি সফ্টওয়্যারের সিডি, ০৪ টি পেনড্রাইভ, ০৫ টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ২৮০০/-টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা বর্ণিত প্রতারণার সাথে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য প্রদান করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃতরা ৫-৭ জনের একটি চক্র। তারা গত ০৮-১০ বছর যাবত ভুয়া এনআইডি কার্ড, ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জাল সার্টিফিকেট ও অন্যান্য জাল নথিপত্র তৈরি করে আসছে। গ্রেফতারকৃত মোস্তফা এই চক্রের মূলহোতা বাকীরা তার সহযোগী। এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন নির্বাচন অফিস ও বিআরটিএ অফিসের সামনে অবস্থান করে গ্রাহকদের টার্গেট করত।

 

পরবর্তীতে তাদেরকে দ্রæততম সময়ের মধ্যে  ড্রাইভিং লাইসেন্স ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দিয়ে প্রতারণা করত। বিশ্বাস যোগ্যতা অর্জনে তারা হুবহু জাল প্রাপ্তি স্বীকার পত্র ও মানি রিসিটটি বিআরটিএ ও বিভিন্ন ব্যাংকসহ ভুয়া সীল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে গ্রাহককে প্রদান করত। একইভাবে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রæপে চটকদার বিজ্ঞাপন পোস্ট করত।

 

 

পরবর্তীতে কোন গ্রাহক তাদের সাথে এনআইডি/ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য যোগাযোগ করলে তারা তাদের মধ্যে কেউ গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ করে দ্রæততম সময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স/এনআইডি প্রাপ্তির অফার দিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করার ক্ষেত্রে তার ফেইক আইডি ব্যবহার করত। তারা প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য গ্রাহকদের নিকট ৩-৪ হাজার টাকা দাবী করত।

 

 

এছাড়া দ্রুত এনআইডি/ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের জন্য ক্ষেত্র বিশেষে তারা ৮-১০ হাজার টাকা দাবী করত। এক্ষেত্রে তারা বাইক রাইডার, লাইসেন্স বিহীন বিভিন্ন গাড়ির চালক যারা দ্রæত সময়ের মধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স/এনআইডি পেতে আগ্রহী অথবা যারা অবৈধভাবে লাইসেন্স/এনআইডি প্রত্যাশী তাদের টার্গেট করে থাকে।

 

গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য তারা সাধারণত বিভিন্ন বিআরটিএ অফিস, নির্বাচন কমিশন অফিস বা সংশ্লিষ্ট অফিসের আশেপাশে দেখা করত। পরবর্তীতে তারা ৩-৭ দিনের মধ্যে ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স/এনআইডি সরবরাহ করে। জরুরী ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে তারা একদিনের মধ্যেই সরবরাহ করে থাকে। তারা মোবাইল ব্যাংকিং বা সরাসরি অর্থ লেনদেন করে থাকে।

 

গ্রেফতারকৃত গোলাম মোস্তফা উক্ত চক্রের মূলহোতা। সে এইচএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। পরবর্তীতে আনুমানিক ৩০ বছর পূর্বে সে ঢাকায় আসে। ঢাকায় এসে সে ডেন্টাল মেডিকেল কলেজ থেকে এক্সরে মেশিন টেকনিশিয়ান এর ০১ বছরের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে সে একটি ক্লিনিকে ৫-৭ বছর এক্সরে মেশিন টেকনিশিয়ান হিসেবে চাকুরী করে। আনুমানিক ২০০০ সালে সে নিজে একটি এক্সরে মেশিন নিয়ে ছোট দোকান দেয়। ২০১০ সালে তিনি প্রতারণার সাথে জড়িত হয়। তার একাধিক লেগুনা গাড়ি রয়েছে। একই ধরণের প্রতারণায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং একাধিকবার তিনি কারাবরণ করেছে।

 

গ্রেফতারকৃত মিনারুল ২০২০ সালে জামালপুরের একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে টেক্সটাইল ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে। সে গত ০১ বছর যাবত এই চক্রের সাথে কাজ করছে। সে কম্পিউটার এক্সপার্ট এবং ভুয়া এনআইডি কার্ড ও ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ জাল সার্টিফিকের তৈরির ক্ষেত্রে গ্রাফিক্স ও ডিজাইনের কাজ করত।

 

 

গ্রেফতারকৃত মুসলিম জন্ম থেকেই ঢাকায় বসবাস করছে। তিনি প্রাথমিকভাবে লেগুনাসহ বিভিন্ন সিএনজি এর চালক হিসেবে কাজ করছে। গত ০৮-১০ বছর যাবত সে পুরাতন মটর সাইকেল কেনা বেচাসহ বিআরটিএ ও নির্বাচন অফিসের সামনে থেকে গ্রাহক সংগ্রহ, যোগাযোগ ও কার্ড তৈরির পর সরবরাহসহ বিভিন্ন প্রতারণার কাজ করত।

 

গ্রেফতারকৃত জালাল গত ১৫ বছর যাবত ঢাকা বসবাস করছে। সে প্রথমে প্রেসে কাজ করত। পরবর্তীতে আদালতের সামনে দালালি করত। গত ৫-৭ বছর যাবত সে এই প্রতারণার সাথে যুক্ত হয়। গ্রাহক সংগ্রহ, যোগাযোগ ও কার্ড তৈরির পর সরবরাহসহ বিভিন্ন প্রতারণার কাজ করত।

 

গ্রেফতারকৃত তারেক পেশায় গত ০১ বছর যাবত এই চক্রের সাথে জড়িত। পূর্বে সে ২-৩ বছর যাবত বিভিন্ন চিপস্ কোম্পানীর মার্কেটিং এর কাজ করেছে। গ্রাহক সংগ্রহ, যোগাযোগ ও কার্ড তৈরির পর সরবরাহসহ বিভিন্ন প্রতারণার কাজ করত।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

মোঃ খায়রুল কবীর
সহকারী পুলিশ সুপার
স্টাফ অফিসার (মিডিয়া)
পক্ষে পরিচালক

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সিংগাইরে আল ইহসান সমবায় সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে গ্রাহকদের লাখ লাখ টাকা আত্নসাতের অভিযোগ

বিপুল পরিমান ভুয়াএনআইডি কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং জাল নথিপত্র তৈরির সরঞ্জামাদি উদ্ধার।

আপডেট সময় ০১:৫০:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ মার্চ ২০২২

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা হতে ভুয়া এনআইডি কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডর জাল সার্টিফিকেট তৈরি এবং জালিয়াতি চক্রের মূলহোতা গোলাম মোস্তফাসহ ০৫ জন গ্রেফতার। বিপুল পরিমান ভুয়াএনআইডি কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং জাল নথিপত্র তৈরির সরঞ্জামাদি উদ্ধার।

এলিট ফোর্স হিসেবে র‌্যাব আত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন থেকেই আইনের শাসন সমুন্নত রেখে দেশের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে অপরাধ চিহ্নিতকরণ, প্রতিরোধ, শান্তি ও জনশৃংখলা রক্ষায় কাজ করে আসছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জঙ্গি, মাদক, হত্যা, ধর্ষণ ও প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে দেশব্যাপী সুনাম অর্জন করেছে র‌্যাব।

 

সাম্প্রতিক সময়ে বেশকিছু বাস্তুচ্যুত মায়ানমার নাগরিক (রোহিঙ্গা) এক শ্রেণীর অসাধু চক্রের মাধ্যমে ভুয়া এনআইডি কার্ড প্রাপ্ত হয়। এছাড়া কয়েকজন জঙ্গি সদস্য আত্মগোপনের উদ্দেশ্যে ভুয়া এনআইডি কার্ডের মাধ্যমে পাসপোর্ট তৈরি করে বিভিন্ন দেশে গমন করত নানা অপকর্মের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে সেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছে।

 

 

এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে আমরা বেশকিছু দীর্ঘদিনের পলাতক আসামী গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। সেখানে আমরা দেখেছি তারা নিজেদেরকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য ভিন্ন নামে ভুয়া এনআইডি কার্ড তৈরি করে নিজের প্রকৃত পরিচয় আড়াল করে অন্যত্র বসবাস করছে। আপনারা দেখেছেন সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে বেশ কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা ঘাতক পরিবহনের চালকদের গ্রেফতারে দেখেছি তাদের অনেকেই অপরিপক্ক চালক এবং তারা ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহ করত পরিবহন চালাচ্ছে।

 

সম্প্রতিকালে পরিলক্ষিত হচ্ছে যে, কতিপয় অসাধু ব্যক্তি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে অনলাইনে চটকদার বিজ্ঞাপণের মাধ্যমে বিভিন্ন দ্রব্য বেচাকেনার পাশাপাশি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভুয়া এনআইডি কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, বিভিন্ন প্রকার জাল সনদ তৈরি করে আসছে। বর্ণিত বিজ্ঞাপণটি র‌্যাবের সাইবার মনিটরিং সেলের নজরে আসলে র‌্যাব উক্ত চক্রের সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

 

 

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২১শে মার্চ ২০২২ তারিখ র‌্যাব-৩ এর অভিযানে রাজধানীর মালিবাগ, বাসাবো, শাহজাহানপুর ও কোতয়ালী থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এই প্রতারণা চক্রের মূলহোতা (১) মোঃ গোলাম মোস্তফা (৬০), পিতা-মৃতঃ আফসার উদ্দিন আকন্দ, উজিরপুর, বরিশাল ও তার সহযোগী যথাক্রমে (২) মোঃ জালাল বাশার (৫৪), পিতা-মৃতঃ সৈয়দ আলম মোল্লা, মোকসেদপুর, গোপালগঞ্জ (৩) মোঃ মুসলিম উদ্দিন (৬৫), পিতা-মৃতঃ আফসার উদ্দিন, পালং, শরীয়তপুর, (৪) মোঃ মিনারুল ইসলাম (মিন্নি) (২২), পিতা-মৃতঃ শহীদ বেপারী, বকশীগঞ্জ, জামালপুর, এবং ৫। মোঃ তারেক মৃধা (২১), পিতা-মোঃ নাজমুল মৃধা, ঘোষহির হাট, শরীয়তপুর’দেরকে গ্রেফতার করা হয়।

 

 

উক্ত অভিযানে উদ্ধার করা হয় ০২ টি কম্পিউটার, ২৪৬০ টি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের জাল প্রাপ্তি স্বীকার রশিদ, ২৬ টি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, ০১ টি ল্যাপটপ, ০১ টি ডিজিটাল ক্যামেরা, ১৮ টি ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স, ৮০ টি সাদা রঙের প্লাস্টিকের ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরীর বøাঙ্ক কার্ড, ৫০ টি স্বচ্ছ কার্ড হোল্ডার, ০২ রিল সিকিউরিটি লেমিনেটিং পেপার যা দিয়ে জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স ও জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরী করা যায়, ০১ টি কার্ড প্রিন্টার, ০৪ টি সফ্টওয়্যারের সিডি, ০৪ টি পেনড্রাইভ, ০৫ টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ২৮০০/-টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা বর্ণিত প্রতারণার সাথে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য প্রদান করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃতরা ৫-৭ জনের একটি চক্র। তারা গত ০৮-১০ বছর যাবত ভুয়া এনআইডি কার্ড, ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জাল সার্টিফিকেট ও অন্যান্য জাল নথিপত্র তৈরি করে আসছে। গ্রেফতারকৃত মোস্তফা এই চক্রের মূলহোতা বাকীরা তার সহযোগী। এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন নির্বাচন অফিস ও বিআরটিএ অফিসের সামনে অবস্থান করে গ্রাহকদের টার্গেট করত।

 

পরবর্তীতে তাদেরকে দ্রæততম সময়ের মধ্যে  ড্রাইভিং লাইসেন্স ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দিয়ে প্রতারণা করত। বিশ্বাস যোগ্যতা অর্জনে তারা হুবহু জাল প্রাপ্তি স্বীকার পত্র ও মানি রিসিটটি বিআরটিএ ও বিভিন্ন ব্যাংকসহ ভুয়া সীল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে গ্রাহককে প্রদান করত। একইভাবে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রæপে চটকদার বিজ্ঞাপন পোস্ট করত।

 

 

পরবর্তীতে কোন গ্রাহক তাদের সাথে এনআইডি/ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য যোগাযোগ করলে তারা তাদের মধ্যে কেউ গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ করে দ্রæততম সময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স/এনআইডি প্রাপ্তির অফার দিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করার ক্ষেত্রে তার ফেইক আইডি ব্যবহার করত। তারা প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য গ্রাহকদের নিকট ৩-৪ হাজার টাকা দাবী করত।

 

 

এছাড়া দ্রুত এনআইডি/ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের জন্য ক্ষেত্র বিশেষে তারা ৮-১০ হাজার টাকা দাবী করত। এক্ষেত্রে তারা বাইক রাইডার, লাইসেন্স বিহীন বিভিন্ন গাড়ির চালক যারা দ্রæত সময়ের মধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স/এনআইডি পেতে আগ্রহী অথবা যারা অবৈধভাবে লাইসেন্স/এনআইডি প্রত্যাশী তাদের টার্গেট করে থাকে।

 

গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য তারা সাধারণত বিভিন্ন বিআরটিএ অফিস, নির্বাচন কমিশন অফিস বা সংশ্লিষ্ট অফিসের আশেপাশে দেখা করত। পরবর্তীতে তারা ৩-৭ দিনের মধ্যে ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স/এনআইডি সরবরাহ করে। জরুরী ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে তারা একদিনের মধ্যেই সরবরাহ করে থাকে। তারা মোবাইল ব্যাংকিং বা সরাসরি অর্থ লেনদেন করে থাকে।

 

গ্রেফতারকৃত গোলাম মোস্তফা উক্ত চক্রের মূলহোতা। সে এইচএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। পরবর্তীতে আনুমানিক ৩০ বছর পূর্বে সে ঢাকায় আসে। ঢাকায় এসে সে ডেন্টাল মেডিকেল কলেজ থেকে এক্সরে মেশিন টেকনিশিয়ান এর ০১ বছরের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে সে একটি ক্লিনিকে ৫-৭ বছর এক্সরে মেশিন টেকনিশিয়ান হিসেবে চাকুরী করে। আনুমানিক ২০০০ সালে সে নিজে একটি এক্সরে মেশিন নিয়ে ছোট দোকান দেয়। ২০১০ সালে তিনি প্রতারণার সাথে জড়িত হয়। তার একাধিক লেগুনা গাড়ি রয়েছে। একই ধরণের প্রতারণায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং একাধিকবার তিনি কারাবরণ করেছে।

 

গ্রেফতারকৃত মিনারুল ২০২০ সালে জামালপুরের একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে টেক্সটাইল ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে। সে গত ০১ বছর যাবত এই চক্রের সাথে কাজ করছে। সে কম্পিউটার এক্সপার্ট এবং ভুয়া এনআইডি কার্ড ও ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ জাল সার্টিফিকের তৈরির ক্ষেত্রে গ্রাফিক্স ও ডিজাইনের কাজ করত।

 

 

গ্রেফতারকৃত মুসলিম জন্ম থেকেই ঢাকায় বসবাস করছে। তিনি প্রাথমিকভাবে লেগুনাসহ বিভিন্ন সিএনজি এর চালক হিসেবে কাজ করছে। গত ০৮-১০ বছর যাবত সে পুরাতন মটর সাইকেল কেনা বেচাসহ বিআরটিএ ও নির্বাচন অফিসের সামনে থেকে গ্রাহক সংগ্রহ, যোগাযোগ ও কার্ড তৈরির পর সরবরাহসহ বিভিন্ন প্রতারণার কাজ করত।

 

গ্রেফতারকৃত জালাল গত ১৫ বছর যাবত ঢাকা বসবাস করছে। সে প্রথমে প্রেসে কাজ করত। পরবর্তীতে আদালতের সামনে দালালি করত। গত ৫-৭ বছর যাবত সে এই প্রতারণার সাথে যুক্ত হয়। গ্রাহক সংগ্রহ, যোগাযোগ ও কার্ড তৈরির পর সরবরাহসহ বিভিন্ন প্রতারণার কাজ করত।

 

গ্রেফতারকৃত তারেক পেশায় গত ০১ বছর যাবত এই চক্রের সাথে জড়িত। পূর্বে সে ২-৩ বছর যাবত বিভিন্ন চিপস্ কোম্পানীর মার্কেটিং এর কাজ করেছে। গ্রাহক সংগ্রহ, যোগাযোগ ও কার্ড তৈরির পর সরবরাহসহ বিভিন্ন প্রতারণার কাজ করত।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

মোঃ খায়রুল কবীর
সহকারী পুলিশ সুপার
স্টাফ অফিসার (মিডিয়া)
পক্ষে পরিচালক