কপালে ‘যন্ত্র’ লাগিয়ে খেলছেন গিল, এটি কী, কোন কাজে লাগে?
কপালে ‘যন্ত্র’ লাগিয়ে খেলছেন গিল, এটি কী, কোন কাজে লাগে?
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিউজিল্যান্ড সফরে যাওয়ার পর থেকেই ভারতীয় ওয়ানডে অধিনায়ক শুভমান গিলের কপালে একটি যন্ত্রের দেখা মিলছে। সোনালি রঙের ওই বস্তু মূল ম্যাচেও তার কপালে লাগানো ছিল। ওই অবস্থায় করেছেন ব্যাটিং-ফিল্ডিং। নজর এড়ায়নি প্রতিপক্ষ কিউই পেসার কাইল জেমিসনেরও। গিলের কাছে গিয়ে তিনি ওই যন্ত্র সম্পর্কে জানতে চান। অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে জয় পেয়েছে সফরকারী ভারত। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে তারা কিউইদের ৫ উইকেটে হারিয়েছে। যেখানে ধাতব যন্ত্রটি পরে মাঠে নেমেছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক। জানা গেছে, বস্তুটি একটি প্রযুক্তির অংশ, যার নাম ‘টেম্পল’। ভারতের খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জোমাটোর সহপ্রতিষ্ঠাতা দীপিন্দর গোয়েলের তৈরি, যা স্বাস্থ্য ও ফিটনেস বিষয়ে তথ্য দেয়। আরও পড়ুন জানুয়ারিতে বাংলাদেশে আসছে ভারত, সম্ভাবনা ‘শতভাগ’ ভারতীয় দলে বারবার উপেক্ষিত, বাবার জন্যই ভোর ৫টায় উঠে অনুশীলন করেন সরফরাজ সূর্যকুমারকে টপকে নতুন রেকর্ড ঈষান কিষানের প্রচলিত স্মার্টওয়াচ কিংবা ফিটনেস ট্র্যাকার সাধারণত হাতে পরতে হয়। কিন্তু টেম্পল ব্যবহার করা হয় কপালের কানের পাশের অংশে। এর মাধ্যমে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা যায়। কপালের যেকোনো এক
পাশে ত্বকের সঙ্গে ছোট এই যন্ত্রটি লাগানো হয়। এ জন্য ‘গ্রিপস’ নামের বিশেষ আঠাযুক্ত প্যাচ ব্যবহার করা হয়। এর ফলে দৈনন্দিন কাজকর্ম কিংবা শরীরচর্চার সময়ও যন্ত্রটি ওই জায়গায় আটকে থাকে। এর মূল প্রযুক্তির নাম ‘ব্রেনফ্লো’। আলোকসংবেদী সেন্সরের সাহায্যে এটি মস্তিষ্কের কাছাকাছি রক্তপ্রবাহের পরিবর্তন শনাক্ত করে। সহজভাবে বললে, বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সময় মাথায় রক্ত সঞ্চালনের কী ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে, সেটি পরিমাপ করে যন্ত্রটি। এ ছাড়া ‘এনট্রপি’ নামে একটি পরিমাপও দেয় টেম্পল। দীপিন্দর গোয়েলের ভাষায়, এটি হলো শরীরের বেঁচে থাকার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে যে পরিমাণ শক্তি বা চাপ ব্যয় হচ্ছে, তার একটি নির্দেশক। নির্দিষ্ট সময়ে শরীর কতটা চাপের মধ্যে রয়েছে, সে সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার উদ্দেশে এই পরিমাপ তৈরি করা হয়েছে। শরীরচর্চা, অপর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ, ক্যাফেইন গ্রহণ, এমনকি ধ্যানের মতো বিষয়ও এই পরিমাপকে প্রভাবিত করতে পারে। শরীরচর্চা কিংবা প্রতিযোগিতার সময় শরীর কীভাবে সাড়া দিচ্ছে এবং কোন বিষয়গুলো পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে, তা বুঝতে এই যন্ত্রের তথ্য কাজে লাগাতে পারেন ক্রীড়াবিদরা। শুভমান গিল যদিও এখনও প্রযুক্তিটি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। ঠিক কী কারণে তিনি এই যন্ত্র ব্যবহার করছেন এবং ভারতের আনুষ্ঠানিক ফিটনেস পর্যবেক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। এর আগে ভারতের আরেক ক্রীড়াবিদ, ব্যাডমিন্টন তারকা পিভি সিন্ধুকেও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এই যন্ত্র ব্যবহার করতে দেখা
গেছে।
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের মতো আসরেও তার কপালে ছিল টেম্পল। সিন্ধু যন্ত্রটি কীভাবে ক্রীড়াবিদদের স্বাস্থ্য ও পারফরম্যান্সের বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণে সহায়তা করতে পারে, বিশেষ করে শারীরিক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে তা ব্যাখ্যা করেছিলেন। তিনি এনডিটিভিকে বলেন, ‘আপনি যখন তথ্যগুলো দেখবেন, তখন বুঝতে পারবেন আপনার শরীর কতটা শক্তি সঞ্চয় করছে এবং আপনি কতটা ভালো ঘুমাচ্ছেন। তবে বিষয়টি ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ভিন্ন হয়।’ হৃদস্পন্দনের উঠা-নামা, পুষ্টিসংক্রান্ত তথ্যও মিলবে এই প্রযুক্তিতে।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স