ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ , ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘টাকা দিয়ে ম'র'ণের টিকিট কিনেছি’, ৮ পি'স্তলের ভিডিও ছড়িয়ে যুবকের হু'মকি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-১১-০৪ ১৯:৪৫:৪৫
‘টাকা দিয়ে ম'র'ণের টিকিট কিনেছি’, ৮ পি'স্তলের ভিডিও ছড়িয়ে যুবকের হু'মকি ‘টাকা দিয়ে মরণের টিকিট কিনেছি’, ৮ পিস্তলের ভিডিও ছড়িয়ে যুবকের হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘খেলা দেখছো কোথায়, ভালো হয়ে যা। চাঁদাবাজি বন্ধ কর। টাকা দিয়ে মরণের টিকিট আনছি’ - এমন হুমকি দিয়ে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র সাজিয়ে ভিডিও ধারণ করেছিলেন চট্টগ্রামের রাউজানের এক যুবক।

 

সম্প্রতি ২১ সেকেন্ডের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে পুলিশের দাবি, ভিডিওটি সাম্প্রতিক নয়; ২০২৩ সালের শেষ দিকে ধারণ করা হয়েছিল। দুই পক্ষের বিরোধের জেরে পুরোনো ভিডিওটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

ভিডিওতে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনকারী যুবকের নাম হৃদয় হোসেন শাওন ওরফে হৃদয় বুলেট। তিনি রাউজানের নোয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে রাউজান থানায় দুটি মামলা রয়েছে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওতে সাত থেকে আটটি পিস্তল দেখা গেলেও সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি খেলনা পিস্তল। বাকিগুলো বিভিন্ন সন্ত্রাসীর কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। অস্ত্রগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে লুট হওয়া নয়।

 

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাতে ‘মামুন চেয়ারম্যানের সমর্থক গোষ্ঠী’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে কাপড়ের ওপর সারি করে রাখা একাধিক পিস্তল দেখা যায়। এর সঙ্গে দেওয়া পোস্টে অস্ত্রগুলো অবৈধ এবং থানা থেকে লুট হওয়া বলে দাবি করা হয়। হৃদয়ের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মানুষকে জিম্মি করার অভিযোগও তোলা হয়। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হৃদয় ও একই এলাকার আরাফাত মামুন একসময় একসঙ্গে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকার সময় তাদের মধ্যে সখ্য গড়ে ওঠে। পরে জামিনে বেরিয়ে আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের বিরোধ তৈরি হয়। সম্প্রতি হৃদয়ের বাবা বাদশাকে মামুন মারধর করেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। এরপর দুই পক্ষের বিরোধ আরও তীব্র হয়। এরই জেরে মামুনের অনুসারীরা পুরোনো ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন বলে পুলিশের ভাষ্য।

 

এ বিষয়ে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। হৃদয় বুলেটকে আগেও গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। হৃদয়ের সঙ্গে মামুনের বিরোধ রয়েছে। দুই পক্ষই বিভিন্ন অপরাধে জড়িত এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

 

চট্টগ্রামের রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি মূলত ২০২৩ সালের শেষ দিকের। বিভিন্ন সন্ত্রাসীর কাছ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে হৃদয় ভিডিওটি ধারণ করে নিজের মুঠোফোনে রেখেছিলেন। সাম্প্রতিক বিরোধের সুযোগ নিয়ে মামুন ভিডিওটি ছড়িয়ে দিয়েছেন। ভিডিওতে প্রদর্শিত অস্ত্রের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে লুণ্ঠিত কোনো অস্ত্র নেই। এর আগেই অভিযান চালিয়ে ওই চক্রের দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছিল। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও জড়িত ব্যক্তিদের পুনরায় গ্রেপ্তারে রাউজান থানা-পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম বলেন, ভিডিওটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। খোঁজখবর নিয়ে এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাউজানে রাজনৈতিক বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। গত দুই বছরে উপজেলায় ২৭টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে ২০টিই রাজনৈতিক বিরোধের জেরে। সর্বশেষ গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে যুবদল কর্মী মোহাম্মদ করিমকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়।






 



নিউজটি আপডেট করেছেন : News Room 3

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ