ঢাকা , সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬ , ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জে আত্মসমর্পণ করলেন তিন জেলার ৬৫ চরমপন্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-১১-০১ ১৯:৫২:৩১
সিরাজগঞ্জে আত্মসমর্পণ করলেন তিন জেলার ৬৫ চরমপন্থী সিরাজগঞ্জে আত্মসমর্পণ করলেন তিন জেলার ৬৫ চরমপন্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী ও সর্বহারা সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ফোর্স-১২-এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা আত্মসমর্পণ করেন।

 

আত্মসমর্পণকারীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে আইনি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে পাবনার ৪৫ জন, রাজবাড়ীর ১৩ জন এবং সিরাজগঞ্জের সাতজন রয়েছেন।

 

এসআরবি-১২-এর সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আমিরুল ইসলাম খান আলিম, এসআরবি ফোর্সেসের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল ইফতেখার আহমেদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ এবং রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) ও যুগ্ম সচিব শাহানা আখতার জাহান।

 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এসআরবি ফোর্স-১২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আতিকুর রহমান মিয়া। সভাপতিত্বও করেন তিনি।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, যারা আত্মসমর্পণ করেছেন, তাদের আইনি পরামর্শ দেওয়া হবে। তারা যাতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। দীর্ঘ ১৭ বছরের নানা জটিলতা ও সমস্যার সমাধানেও তাদের পাশে দাড়ানোর আশ্বাস দেন তিনি।

 

এ ছাড়া ৫ আগস্টের পর লুট হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। আত্মসমর্পণ করতে আসা মো. মাজেদ আলী মুন্সী বলেন, অন্ধকারের পথ ছেড়ে আলোর পথে আসতে পেরে আজ খুব ভালো লাগছে।

 

আরেক আত্মসমর্পণকারী পাবনার বাবু মিয়া ওরফে আইনুল হোসেন বলেন, ভুল পথে চলতে গিয়ে অনেক কিছু হারিয়েছি। এভাবে জীবনের ১৫ বছর কেটে গেছে। আমার সঙ্গীরা প্রায়ই বলতেন, অনেক দিন ধরে বাড়িতে যাওয়া হয় না।

 

আলমগীর নামের আরেক আত্মসমর্পণকারী বলেন, একসময় বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতাম। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র না পেয়ে অনেকেই দস্যুবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়তেন।

 

উল্লেখ্য, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন এলাকায় একসময় চরমপন্থীদের তৎপরতা ছিল। এসব এলাকায় চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধের ঘটনাও ঘটত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং চরমপন্থীদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে এসব সংগঠনের বহু সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন।







 



নিউজটি আপডেট করেছেন : News Room 3

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ