তিনবার জীবন পেয়ে পাকিস্তানকে ট্রফি জেতালেন ফখর
তিনবার জীবন পেয়ে পাকিস্তানকে ট্রফি জেতালেন ফখর
নিজস্ব প্রতিবেদক
ফখর জামানের ফাইনালে আরও একটি মাস্টারক্লাস সেঞ্চুরি এবং ৭ নম্বরে নামা আরাফাত মিনহাসের ৩১ বলে ৬১ রানের টর্নেডো ইনিংসে ভর করে পাকিস্তান ৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ফেলে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ৩ উইকেট ও ৯ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে ট্রফি উঁচিয়ে ধরে স্বাগতিকেরা। মাঝে সাদ বেগের ৭৫ বলে ৭৪ রানের দারুণ ইনিংসটি পাকিস্তানের ইনিংসে বড় শক্তি জোগায়। তিনি ও ফখর তৃতীয় উইকেটে ১৪৯ রানের জুটি গড়ে ১৪ রানে ২ উইকেট হারানো দলকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করান। ম্যাচের শেষটাও হয় রূপকথার মতো। অধিনায়ক শাহীন আফ্রিদি দিলশান মাদুশাঙ্কাকে ডিপ মিডউইকেটের উপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে জয়সূচক রান সংগ্রহ করেন। এর আগে শ্রীলঙ্কার সেঞ্চুরিয়ান কামিন্দু মেন্ডিসের গুরুত্বপূর্ণ
উইকেটটি নিয়ে শ্রীলঙ্কার রানের গতিতে প্রথম বড় ধাক্কাটি দিয়েছিলেন শাহীনই। শেষ ৯ ওভারে একের পর এক উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কা ৩২৫/৮ রানে থমকে যায়। অথচ ৪১ ওভার শেষে ২৫৫/২ স্কোরে থাকা দলটি সহজেই ৩৫০ রানের দিকে এগোচ্ছিল। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিজেদের স্নায়ু ধরে রেখে বড় লক্ষ্য তাড়া করে শিরোপা উঁচিয়ে ধরল পাকিস্তান। শুরুতে মাদুশাঙ্কার জোড়া আঘাতে সাজঘরে ফেরেন মাআজ সাদাকাত ও বাবর আজম। ফলে দুর্দান্ত সূচনা পেয়েছিল শ্রীলঙ্কা। তবে ফখর তিনটি ক্যাচ মিসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে শ্রীলঙ্কাকে চড়া মাশুল গুণতে বাধ্য করেন। তিনি প্রথমে তরুণ সাদ বেগকে নিয়ে ১০০ ছাড়ানো রানের জুটি গড়েন। এরপর গতি তুলের দ্রুত সেঞ্চুরি করেন। এই যাত্রায় ওয়ানডে ফাইনালে দুটি সেঞ্চুরি করা দ্বিতীয় পাকিস্তানি ব্যাটার হিসেবে রেকর্ড গড়েন ফখর। মনে হচ্ছিল কয়েক ওভার বাকি থাকতেই তিনি দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেবেন। কিন্তু মাদুশাঙ্কা ফিরে এসে তাকে আউট করেন, ৯৯ বলে ১২৭ রান করেন তিনি। এর পরপরই সালমান আলী আগাও বিদায় নেন। তারপর দুই তরুণ হাসান নওয়াজ ও আরাফাত মিনহাসের জুটি চাপের মুখে অসাধারণ ধৈর্য দেখিয়ে ৯৪ রানের জুটি বাঁধেন। মিনহাস মাত্র ২৮ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন। যদিও ম্যাচ শেষ করে আসা সম্ভব হয়নি তার পক্ষে। তবে অধিনায়ক শাহীন আফ্রিদি ৯ বল বাকি থাকতেই
দলকে জয় এনে দেন। অন্যদিকে ব্যাটিংয়ের শেষ ভাগ নিয়ে নিশ্চিতভাবেই আফসোস করবে শ্রীলঙ্কা। এক পর্যায়ে দলটি ৩৪০ থেকে ৩৫০ রানের সংগ্রহের দিকে এগোলেও শেষ ১০ ওভারে খেই হারিয়ে ৩২৫ রানেই আটকে যায়। শেষ পর্যন্ত ওই ২০-২৫ রানের ঘাটতিই তাদের জন্য হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স