সাজেকে অ'ব'রো'ধ শিথিলের দিনেই কর্মবিরতিতে যাবেন যানচালক ও শ্রমিকরা
নিজস্ব প্রতিবেদক
সাজেক সড়কে ১২ ঘণ্টার জন্য অবরোধ শিথিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। ঠিক সেই সময় খাগড়াছড়ি সাজেক সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালক শ্রমিকরা বেতন ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে এদিন কর্মবিরতি পালন করবে বলে জানা গেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে খাগড়াছড়ি জীপ মালিক সমিতির অর্থ সম্পাদক মাসুম পারভেজ ইত্তেফাক ডিজিটালকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে খাগড়াছড়ি জীপ মালিক সমিতির অর্থ সম্পাদক মাসুম পারভেজ বলেন, সাজেক সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির আন্দোলন করে আসছে। কিন্তু কয়েকদিন পর পর বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত আয় না হওয়ায় তাদের দাবি করা বেতন ভাতা বৃদ্ধি করা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে চালক শ্রমিকরা আমাদের জানিয়েছেন তাদের বেতন ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে তারা কর্মবিরতি পালন করবে। তবে চালক শ্রমিকরা এ ব্যাপারে লিখিত কোনো নোটিশ দেয়নি।
পরিবহন চালক ও শ্রমিকদের ভাষ্য, খাগড়াছড়ি সাজেক সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালক-শ্রমিকরা বেতন ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন করে আসছে বলে জানা গেছে। এই দাবি আদায়ে রোববার খাগড়াছড়ি দীঘিনালা সড়কে কর্মবিরতি পালন করবে তারা।
এর আগে গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। এটি তাদের তৃতীয় দফার কর্মসূচি। সংগঠন দুটির অন্যতম দাবি, পিসিজেএসএসের সন্তু লারমা-সমর্থিত সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে সরিয়ে নিতে হবে। তাদের অভিযোগ, ওই সশস্ত্র সদস্যদের কারণে এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তবে পিসিজেএসএস এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংগঠনটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমার দাবি, সাজেকে সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও হয়রানির বিষয়টি আড়াল করতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
মূলত দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিরতার মধ্যেই সাজেকে টানা অবরোধ চলছিল। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ সচল রাখতে রোববার ১২ ঘণ্টার জন্য অবরোধ শিথিলের ঘোষণা দেয় আন্দোলনকারী দুটি সংগঠন। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যানবাহন চলাচলে বাধা থাকবে না। তবে সোমবার থেকে ফের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হবে। গত শুক্রবার রাতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীসহ পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে এক দিনের জন্য কর্মসূচি শিথিল করা হচ্ছে।
সাজেক ঘিরে অস্থিরতা অবশ্য নতুন নয়। গত ১১ অক্টোবর প্রথম দফায় অবরোধ শুরু হলে সেখানে প্রায় দেড় হাজার পর্যটক আটকা পড়েন। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়। দাবি পূরণ না হওয়ার অভিযোগ তুলে ১৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় অবরোধ শুরু হয়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর কর্মসূচি স্থগিত ছিল। বিরতি শেষে ২২ অক্টোবর থেকে শুরু হয় তৃতীয় দফার অনির্দিষ্টকালের অবরোধ।
নিরাপত্তাঝুঁকির কথা জানিয়ে ২২ অক্টোবর থেকেই সাজেক পর্যটন ভ্যালি বন্ধ রেখেছে রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসন। পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সময় উজো বাজার এলাকায় গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই ঘটনায় ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দায়ী করলেও অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংগঠনটি। পরে হামলা, লাঠিপেটা এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের প্রতিবাদে ২৪ অক্টোবর রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে অর্ধদিবস অবরোধ পালন করে ‘ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ’।
এদিকে এর আগে শনিবার দুপুরে সাজেক ভ্যালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের সঙ্গে প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)র সশস্ত্র সদস্যদের সন্ত্রাসীদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব পিপিএম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এতে হতাহতের কোন সংবাদ পাওয়া যায়নি।
সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সাজেক ইউনিয়নের কলাবুনিয়ার যে এলাকায় সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যে তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে সেটি দুর্গম এলাকা। তবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।