ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ , ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপি নেতা পিন্টুর মৃ'ত্যু, তিন কারা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পিবিআই

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-১০-২৭ ১৬:২৯:২৮
বিএনপি নেতা পিন্টুর মৃ'ত্যু, তিন কারা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পিবিআই বিএনপি নেতা পিন্টুর মৃত্যু, তিন কারা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পিবিআই

নিজস্ব প্রতিবেদক

কারাগারে বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্তে তিন কারা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তাদের মধ্যে দুজন মামলার আসামি ও একজন সাক্ষী।

 

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে পিবিআইয়ের রাজশাহী কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

 

জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়া কর্মকর্তারা হলেন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের তৎকালীন উপকারা মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) বজলুর রশীদ, সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম এবং মামলার সাক্ষী কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন।

 

জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৩ মে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় মারা যান বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু। তিনি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন।

 

তার মৃত্যুর প্রায় ১০ বছর পর ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতে হত্যা মামলা করেন পিন্টুর ছোট ভাই নাসিম উদ্দিন রিন্টু। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৭ জনকে আসামি করা হয়। শুনানি শেষে আদালত মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের দায়িত্ব দেয় পিবিআইকে।

 

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, হাজি সেলিম, ইরফান সেলিম, তৎকালীন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন, রাজশাহীর তৎকালীন ডিআইজি প্রিজন বজলুর রশীদ, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খান ও জেলার শাহাদাত হোসেন খান।

 

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০০৯ সালে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মামলায় নাসির উদ্দিন পিন্টুকে আসামি করা হয়। ওই বছরের ৩ জুন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। বাদীর দাবি, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া সত্ত্বেও তাকে সাজা দেওয়া হয় এবং রিমান্ডে নির্যাতনের কারণে তিনি শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়েন।

 

এজাহার অনুযায়ী, পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আকতার কল্পনা সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেন। পাশাপাশি ২০১৪ সালে তার চিকিৎসার জন্য উচ্চ আদালতে আবেদন করা হয়।

 

এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত নিজ খরচে পিন্টুকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ আই হসপিটালে নিয়মিত চিকিৎসার নির্দেশ দেন। তবে মামলার বাদীর অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে তাকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ এবং পরে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

 

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, আদালতের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ২ মে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান ডা. রইছ উদ্দিন কারাগারে গেলেও নিরাপত্তার অজুহাতে তাকে পিন্টুর চিকিৎসা করতে দেওয়া হয়নি। এর পরদিনই কারাগারে পিন্টুর মৃত্যু হয়।

 

বাদীর অভিযোগ, মৃত্যুর পর রাজশাহীর তৎকালীন ডিআইজি প্রিজন বজলুর রশীদ ঘটনাটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে প্রচার করেন।

 

এ বিষয়ে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী আবদুল মালেক রানা বলেন, আদালত হত্যা মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তিন কারা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।







 



নিউজটি আপডেট করেছেন : News Room 3

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ