ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ , ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অ'স্ত্রের লাইসেন্স নেই ইশরাকের সঙ্গে রা'ই'ফেল হাতে থাকা সাবেক ছাত্রদল নেতা পাভেলের

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-১০-২৬ ১৬:১১:৫০
অ'স্ত্রের লাইসেন্স নেই ইশরাকের সঙ্গে রা'ই'ফেল হাতে থাকা সাবেক ছাত্রদল নেতা পাভেলের অস্ত্রের লাইসেন্স নেই ইশরাকের সঙ্গে রাইফেল হাতে থাকা সাবেক ছাত্রদল নেতা পাভেলের

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে দেখা যাওয়ার পর আলোচনায় আসেন সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ ঘটনায় তাঁর পাশাপাশি সহযোগীদের হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক পাভেল শিকদারকে একটি রাইফেল হাতে দেখা যায়। তবে পাভেলের নামে কোনো অস্ত্রের লাইসেন্স নেই। রাইফেলটি ইশরাক হোসেনের নামে লাইসেন্স করা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পাভেলের হাতে থাকা রাইফেলটি ইশরাক হোসেনের নামে লাইসেন্স করা। তবে এ বিষয়ে পাভেলের কাছে কোনো তথ্য জানতে চাওয়া হয়নি এবং কোনো তদন্তও করা হয়নি।

 

অস্ত্র হাতে অভিযানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ওই ভিডিওতে ইশরাক হোসেনের পাশাপাশি পাভেল শিকদারসহ আরও কয়েকজনকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা যায়। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ইশরাক হোসেন মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পাভেলের হাতে দেখা যাওয়া রাইফেলটি বিদেশি এবং পয়েন্ট ২২ বোরের। এটি জার্মানিতে তৈরি ওয়ালথার কোল্ট এমফোর মডেলের রাইফেল। অস্ত্রটির বিপি নম্বর ১০২০৩৩।

 

ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী জানান, রাইফেলটির মালিক ইশরাক হোসেন বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। তবে অস্ত্রটি অন্য একজনের হাতে থাকার বিষয়ে কোনো তদন্ত করা হয়নি।

 

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইশরাক হোসেন আগ্নেয়াস্ত্র হাতে একটি গাড়ি থেকে নামছেন। এরপর তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা রেললাইনের পাশে অবস্থান করা কয়েকজনের দিকে এগিয়ে যান।

 

ওই অভিযানে ইশরাকের সঙ্গে তাঁর নিয়োগ করা দুই ব্যক্তিগত দেহরক্ষী তোফাজ্জল হোসেন ও লাভলু উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের দুজনের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। এ ছাড়া একজন সরকারি দেহরক্ষীও সেখানে ছিলেন। ভিডিওতে ওই সরকারি দেহরক্ষীকে অস্ত্র তাক করে থাকতে দেখা যায়।

 

ভিডিওর আরেকটি অংশে দেয়ালের ওপর রাইফেল হাতে পাভেল শিকদারকে দেখা যায়। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, তাঁরা বিষয়টি নিয়ে কোনো তদন্ত করেননি।

 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগ্নেয়াস্ত্রসংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী, লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্ধারিত শর্তে আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র বহন করতে পারেন। তবে জনসাধারণের মধ্যে ভয় বা আতঙ্ক সৃষ্টি হয়, এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা আইনবিরুদ্ধ। একইভাবে অন্যের নামে লাইসেন্স করা অস্ত্র ব্যবহার বা তা নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দেওয়ার ক্ষেত্রেও আইন ও বিধিমালার বিষয় রয়েছে।

 

একজনের নামে লাইসেন্স করা অস্ত্র অন্য কেউ নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দিতে পারেন কি না, সে বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার বলেন, এ বিষয়ে তাঁরা কোনো অনুসন্ধান করেননি।

 

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাভেল শিকদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠানো হলেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

 



নিউজটি আপডেট করেছেন : News Room 3

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ