ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ , ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে জুয়েল খান, এখন বিএনপিপন্থী সংগঠনের প্রধান অতিথি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-১০-২২ ২০:২৫:৩১
আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে জুয়েল খান, এখন বিএনপিপন্থী সংগঠনের প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে জুয়েল খান, এখন বিএনপিপন্থী সংগঠনের প্রধান অতিথি
পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

একসময় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, সাবেক বরিশাল সিটি করপোরেশন মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর নির্বাচনী প্রচারে সম্পৃক্ততা এবং দলটির নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ

যোগাযোগের অভিযোগ; আর এখন বিএনপিপন্থী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব পালন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ইঞ্জিনিয়ার মো. জুয়েল খানের রাজনৈতিক অবস্থান ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে এমনই প্রশ্ন উঠেছে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে। এর মধ্যেই পটুয়াখালীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের জেলা শাখার সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় তাঁকে প্রধান অতিথি করায় নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জুয়েল খান বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল মহানগর শাখার আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি দলটির প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এমনকি

সাদিক আবদুল্লাহর নির্বাচনী প্রচারে লিফলেট বিতরণ এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এসব ছবি সরিয়ে ফেলার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় পটুয়াখালী শহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের ব্যায়ামাগার মোড়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের জেলা শাখার উদ্যোগে সাংগঠনিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জুয়েল খানকে প্রধান অতিথি করায় তাঁর অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় এসেছে। জুয়েল খানের অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা সাদিক আবদুল্লাহর নাম। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাদিক আবদুল্লাহর সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জুয়েল খান। নির্বাচনী প্রচারে তাঁর সঙ্গে লিফলেট বিতরণ এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ছবিও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, একসময় জুয়েল খানের ফেসবুক ওয়ালে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ছবি দেখা যেত। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সেসব ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বরিশাল মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের

কয়েকজন নেতাকর্মীর কাছে ছবিগুলোর অনুলিপি রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এসব ছবির মূল উৎস, প্রকাশের সময়, স্থান ও কর্মসূচির পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একটি ভিডিও বক্তব্যে বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মীর জাহিদুল কবীরকে জুয়েল খানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে দেখা গেছে। বক্তব্যে জাহিদুল কবির জুয়েল খানকে নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে গভীর সম্পৃক্ততা সহ আওয়ামী লীগের সময় তার বিভিন্ন কর্মকান্ড তুলে ধরেন। বক্তব্যটি বরিশাল মহানগর জাতীয়তাবাদী দলের একটি আলোচনা সভার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন খান স্বপনের উপস্থিতির কথাও বলা হয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জুয়েল খানের কার্যালয়ে শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টাঙানো ছিল এবং ওই কার্যালয়ে বসা অবস্থায় তাঁর ছবি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ও দলীয় কার্যালয়ে যাতায়াতের অভিযোগও উঠেছে। সাদিক আবদুল্লাহর সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে ব্যবসায়িক নথি কিংবা অন্য কোনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথিত ঘনিষ্ঠতা ও নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণের অভিযোগের বিপরীতে বর্তমানে বিএনপিপন্থী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে জুয়েল খানের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহলের ব্যক্তিরা। তাঁদের প্রশ্ন, তিনি কখন জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, কী প্রক্রিয়ায় তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অবগত কি না। তবে কোনো নেতার সঙ্গে ছবি থাকা কিংবা কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিতি একাই দলীয় আনুগত্যের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে মূল ছবি ও ভিডিও, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কার্যক্রমের নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি। আয়োজক এবং পটুয়াখালী জেলা শাখার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক মো. নুরুল ইসলাম প্রিন্সের বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম

বরিশাল মহানগর কমিটির অনুমোদনে বরিশাল মহানগর বিএনপির কারো সুপারিশ কিংবা কেহ অবগত কিনা এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইঞ্জিনিয়ার মো. জুয়েল খান বলেন, এসব কোন প্রশ্নের মধ্যেই পড়ে না। সাদেক আব্দুল্লাহ সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণার ছবি বা অন্যান্য সব ছবি এআই দিয়ে করা। এ ব্যাপারে আর কিছু বলতে চাই না। বরিশাল জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহিন বলেন,

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম সংগঠন এবং এই সংগঠনের কমিটির ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা। বিএনপির সহযোগী ১১ টি সংগঠনের মধ্যে পড়ে না। যদি কোন বিতর্কিত ব্যক্তি জাতীয়তাবাদী নামে সংগঠনের কমিটিতে থাকে তবে তাকে অবশ্যই অব্যাহতি দিতে হবে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ