কেন্দুয়ায় জমি নিয়ে বি'রো'ধ, বসতঘর ভা'ঙ'চু'রে'র অ'ভি'যো'গ
কেন্দুয়ায় জমি নিয়ে বি'রো'ধ, বসতঘর ভা'ঙ'চু'রে'র অ'ভি'যো'গ
স্টাফ রিপোর্টারঃ
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার ১৪ নম্বর মোজাফরপুর ইউনিয়নের গগডা (তবিয়ারগাতী) গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগকারী নয়ন বানু জানিয়েছেন। নয়ন বানু ওই গ্রামের মৃত মোকসুদ আলীর স্ত্রী।
তাঁর অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাঁর তিন নাতি রায়হান, রকি ও মোস্তাকিম বসতঘরটি ভেঙে ফেলেছেন। নয়ন বানু বলেন, তাঁর তিন ছেলে ফজু রহমান, ছইদু রহমান ও হাকিম এবং দুই মেয়ে ললিতা ও লেপু। ছেলে ফজু রহমান জীবিত থাকাকালে তাঁকে তিন শতাংশ জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দলিল করে দিয়েছিলেন তিনি। তবে পরবর্তী সময়ে জানতে পারেন, তিন শতাংশ জমির কথা বলে সাড়ে ১৭ শতাংশ জমি তাঁর নামে লিখে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তাঁর অন্য দুই ছেলে ও দুই মেয়ের অংশও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি জানার পর ছোট ছেলে ছইদু রহমানকে আইনের আশ্রয় নিতে বলেন তিনি। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলেও জানান নয়ন বানু। ঘর ভাঙচুরের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি ছোট ছেলে ছইদু রহমানের বাড়িতে ছিলেন।
দুপুর ৩টার দিকে নিজের থাকার ঘর ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুরোনো বাড়িতে গিয়ে দেখেন, তাঁর তিন নাতি ঘরটি ভেঙে ফেলেছেন। অভিযোগের বিষয়ে রায়হান বলেন, নতুন ঘর নির্মাণের জন্য তাঁরা পুরোনো ঘরটি ভেঙেছেন। দাদির থাকার ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপাতত দাদির জন্য অন্য একটি ঘর রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে গ্রামের মাতব্বরেরা বিস্তারিত জানেন বলেও দাবি করেন তিনি। এদিকে মোজাফরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শরীফ আহমেদ বলেন, ১৯৮২ সালের মাঠ পর্চা অনুযায়ী ফজু রহমান ও ছইদু রহমান জমির মালিক হন। পরে ১৯৮৬ সালে ছইদু রহমান, তাঁর মা ও বোনদের অংশ ফজু রহমানের কাছে বিক্রি করেন। ২০০৬ সালে মাঠ পর্চা চূড়ান্ত হলে খারিজসংক্রান্ত বিষয়ে আদালতে মামলা করা হয়। তিনি আরও বলেন, গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে ফজু রহমান ও তাঁর ছেলেদের জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করে পেমই তদন্ত কেন্দ্রের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ইকবাল
হোসেন বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী জমির দখল বুঝে নেওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এক পক্ষ ঘর ভেঙে নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, আগামী মাসের ১৬ তারিখ আদালতে উভয় পক্ষকে তলব করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স