অর্থাভাবে ব'ন্ধ চিকিৎসা, দৃষ্টিশক্তি হা'রি'য়ে মৃ'ত্যু'ঝুঁ'কি'তে রাকিব
অর্থাভাবে ব'ন্ধ চিকিৎসা, দৃষ্টিশক্তি হা'রি'য়ে মৃ'ত্যু'ঝুঁ'কি'তে রাকিব
স্টাফ রিপোর্টারঃ
মাত্র ২৫ বছর বয়সেই দুরারোগ্য ব্যাধির সঙ্গে লড়াই করছেন রাকিব রায়হান। ব্রেইন টিউমার ও ক্যান্সারে আক্রান্ত এই তরুণের চিকিৎসা চালাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে তাঁর পরিবার। দুই দফা অস্ত্রোপচারে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। ২০২৬ সালে আবারও রোগের জটিলতা দেখা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও অর্থাভাবে তা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পরিবারের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস ধরে যথাযথ চিকিৎসা ছাড়াই বাড়িতে পড়ে আছেন রাকিব। ইতিমধ্যে হারিয়েছেন দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি। একদিকে অসুস্থ ছেলের জীবন বাঁচানোর আকুতি, অন্যদিকে ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় হামলার আশঙ্কা-দুই সংকটে দিশেহারা তাঁর পরিবার। রাকিব রায়হান নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার পালড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা দুলাল মিয়া ও মা অজুফা খাতুন।
তিনি কেন্দুয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে অনার্স সম্পন্ন করেছেন। লেখাপড়া শেষ করে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন থাকলেও অসুস্থতা ও আর্থিক সংকটে থমকে গেছে তাঁর জীবন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে রাকিবের ব্রেইন টিউমার শনাক্ত হয়। এরপর তাঁর দুই দফা অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসার পেছনে তখন প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয় হয় পরিবারের। ছেলের চিকিৎসা চালাতে গিয়ে নিজেদের সঞ্চয় শেষ করার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নিতে হয় তাঁদের। কিন্তু দীর্ঘ চিকিৎসার পরও স্বস্তি মেলেনি পরিবারটির। ২০২৬ সালে আবারও রাকিবের রোগের জটিলতা দেখা দেয়। তাঁকে প্রথমে ময়মনসিংহে নেওয়া হলে সেখান থেকে ঢাকার জাতীয় নিউরোসায়েন্সেস ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রেফার করা হয় বলে জানিয়েছে পরিবার।
পরিবারের দাবি, নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে তাঁদের জানানো হয়, রাকিবের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। পরে তাঁকে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা না হলে রাকিবের জীবনহানির আশঙ্কা রয়েছে। দেশে অস্ত্রোপচার করাতে গেলেও প্রায় ১৫ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে বলে তাঁদের জানানো হয়। এত বিপুল অর্থ জোগাড় করার সামর্থ্য এখন আর নেই পরিবারটির। ছেলের চিকিৎসার জন্য নিজেদের সবকিছু ব্যয় করে বর্তমানে বসতঘর ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পদ অবশিষ্ট নেই বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতেও তাঁদের ঋণ করতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে রাকিবকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হন তাঁরা। পরিবারের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস ধরে রাকিবের যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে না। টিউমারের জটিলতায় তাঁর দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে গেছে। বর্তমানে বাড়িতে শয্যাশায়ী অবস্থায় দিন কাটছে তাঁর। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে না পেরে অসহায়ভাবে দিন পার করছে পরিবারটি।
রাকিবের পরিবারের সংকট শুধু চিকিৎসার অর্থ জোগাড়েই সীমাবদ্ধ নয়। চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় পরিবারটির ওপর চাপ বাড়ছে। পরিবারের অভিযোগ, টাকা ফেরত দিতে না পারায় তাঁদের ওপর নিয়মিত হামলা চালানো হচ্ছে। এতে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, একদিকে অসুস্থ ছেলের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারছেন না, অন্যদিকে ঋণ পরিশোধের চাপ সামলাতেও হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা। অর্থাভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতার কারণে পরিবারটির স্বাভাবিক জীবনযাপনও ব্যাহত হচ্ছে। রাকিবের পরিবার এখন সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহযোগিতা কামনা করছে। তাঁদের প্রত্যাশা, আর্থিক সহায়তা পেলে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করে রাকিবের জীবন রক্ষার চেষ্টা করা সম্ভব হবে। মাত্র ২৫ বছর বয়সী একজন শিক্ষিত তরুণের এমন সংকট এবং তাঁর পরিবারের অসহায়ত্ব স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও ভাবিয়ে তুলেছে। পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাকিবের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্বজনেরা।
রাকিব রায়হানের পরিবারের এখন একটাই আকুতি-অর্থের অভাবে যেন চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে তাঁর জীবন শেষ হয়ে না যায়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা পেতে সমাজের মানবিক মানুষ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছে পরিবারটি।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স