ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ , ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘মাথার খু'লি উ'ড়ে গিয়েছিল, র'ক্তা'ক্ত স্বামীর দে'হ নিয়ে ছুটেছি’

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-১০-১৫ ১৮:৩৮:২২
‘মাথার খু'লি উ'ড়ে গিয়েছিল, র'ক্তা'ক্ত স্বামীর দে'হ নিয়ে ছুটেছি’ ‘মাথার খুলি উড়ে গিয়েছিল, রক্তাক্ত স্বামীর দেহ নিয়ে ছুটেছি’

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই আন্দোলনে গুলিতে স্বামী মো. ইসমাইলের মাথার খুলি ছিন্নভিন্ন হয়ে মগজ বেরিয়ে গিয়েছিল বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন স্ত্রী লাকি বেগম। তিনি বলেন, স্বামীর পুরো শরীর রক্তাক্ত ছিল। দেহ নড়াচড়া করতে না পারায় মাথায় ব্যান্ডেজ করা হয়। লাশ অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার পথেও পুলিশ ও বিজিবির বাধা এবং হেনস্তার শিকার হতে হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

 

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে ১৬তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন ইসমাইলের স্ত্রী। 

 

৩৮ বছর বয়সী লাকির গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্চারামপুর উপজেলায়। বর্তমানে রাজধানীর রামপুরা এলাকায় বসবাস। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে শহীদ হন তার স্বামী।

 

লাকি বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে অটোরিকশা চালানোর জন্য বাসা থেকে বের হন ইসমাইল। মাগরিবের নামাজের সময় আমার ছেলের বন্ধু এসে বলে যে- তোমার বাবা ডেলটা কেয়ার হাসপাতালের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন। সংবাদটি শোনার পর আমি ও আমার ছেলে অজ্ঞান হয়ে যাই। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলে দেখি ভ্যানে করে স্বামীর মরদেহ বাসায় নিয়ে এসেছেন আমাদের এক প্রতিবেশী। আমার স্বামীর মাথার খুলি ছিন্নভিন্ন হয়ে মগজ বের হয়ে যায়। মাথায় গুলি লাগায় তার সারা শরীর রক্তাক্ত ছিল। 

 

তিনি বলেন, মৃত স্বামীর মাথা ব্যান্ডেজ করার জন্য আমরা বেটার লাইফ হাসপাতালে নিয়ে যাই। কারণ ব্যান্ডেজ না করে তার দেহ নড়াচড়া করতে পারছিলাম না। বেটার লাইফ হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় স্বামীর লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যেতে পারছিলাম না। তখন আমার দেবর বাড়ি থেকে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে বেটার লাইফ হাসপাতালে আসেন। পরে আমি, আমার ছেলে ও নিকটাত্মীয়রা লাশ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হই।

 

ইসমাইলের স্ত্রী জানান, লাশ নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা তাদের নানাভাবে হেনস্তা করে। তারা অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখেন। ইসমাইল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন জানিয়ে মিথ্যা কথা বলার পর গ্রামে যেতে দেন তারা।

 

লাকি বলেন, ২০ জুলাই আমার স্বামীর লাশ গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে আমার স্বামী নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বিজিবির রেদোয়ান, রাফাত, পুলিশের রাশেদুল ও মশিউর ছিলেন। এ পর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে স্বামী হত্যার বিচার চান তিনি। 

 

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান ও মামুনুর রশিদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার, মঈনুল করিমসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

 



নিউজটি আপডেট করেছেন : News Room 3

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ