ঢাকা , শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬ , ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুলবাড়ীতে ১২ বছরের শিশু এখন ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা; থানায় মামলা, ধর্ষক বৃদ্ধ পলাতক

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৫-০৮ ২২:০৭:১২
ফুলবাড়ীতে ১২ বছরের শিশু এখন ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা; থানায় মামলা, ধর্ষক বৃদ্ধ পলাতক ফুলবাড়ীতে ১২ বছরের শিশু এখন ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা; থানায় মামলা, ধর্ষক বৃদ্ধ পলাতক

 

মো. হারুন-উর-রশীদ,ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) থেকে:

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে  ১২ বছরের এক শিশু প্রতিবেশী বৃদ্ধের হাতে ধর্ষণের শিকার হয়ে ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত মোঃ নুরুল ইসলাম দয়াল (৬৫) এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মা মোছাঃ আবিদা খাতুন বাদী হয়ে ৮ মে শুক্রবার ২০২৬ তারিখে ফুলবাড়ী থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।

 

এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম দয়াল উপজেলার মালিপাড়া গ্রামের মৃত ইউসুফ উদ্দিনের ছেলে।ভুক্তভোগী শিশুটি তার মামার বাড়িতে থাকার সুবাদে প্রতিবেশী দয়াল প্রায়ই সেখানে যাতায়াত করত। অভিযোগ রয়েছে, যাতায়াতের এক পর্যায়ে শিশুটিকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করে সে।সর্বশেষ গত ৫ মে ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৫:৪৫ মিনিটে শিবনগর ইউনিয়নেরমালিপাড়া গ্রামের একটি ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। এ সময় ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিশুটির জন্ম তারিখ ২৬ মে ২০১৪। সে হিসেবে তার বয়স ১২ বছরের কিছু বেশি।তার বাবা কেরামত আলী একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং পেশায় ভিক্ষুক। মা মিল চাতালে ধান-ভুট্টা শুকানোর কাজ করেন। অত্যন্ত দরিদ্র ও অসহায় এই পরিবারের শিশুটিকে একা পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।

গোপন সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে ভুক্তভোগীর পরিবারকে মামলা না করতে এবং গর্ভপাত করানোর জন্য স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। বিষয়টি অর্থের বিনিময়ে স্থানীয়ভাবে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাও চলে। তবে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে শিশুটির পরিবার আইনি লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, অর্থের বিনিময়ে এমন জঘন্য অপরাধের আপস হলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়বে।

ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আঃ লতিফ শাহ জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী পরিবার এজাহার জমা দিয়েছেন এবং আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়েছি। এজাহারে তিনজনকে সাক্ষী করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।



নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ