ঢাকা , শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬ , ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম মেডিকেলে ন্যায্যমূল্যের ওষুধের বাড়তি দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-১১-০৬ ১৮:২৯:২৩
চট্টগ্রাম মেডিকেলে ন্যায্যমূল্যের ওষুধের বাড়তি দাম চট্টগ্রাম মেডিকেলে ন্যায্যমূল্যের ওষুধের বাড়তি দাম
এম মনির চৌধুরী রানা

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিচতলায় ন্যায্যমূল্যের নামে পরিচালিত ওষুধের দোকানে অতিরিক্ত দামে ওষুধ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। একই ওষুধ হাসপাতালের বাইরের ফার্মেসিতে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেলে ও হাসপাতালের ভেতরের দোকানে বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনেরা। মেরোভিয়া ১ গ্রাম ইনজেকশন বিক্রির ক্ষেত্রে এমন দামের বড় ব্যবধানের তথ্য সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চমেক হাসপাতালের নিচতলার সংশ্লিষ্ট ফার্মেসিতে প্রতিটি মেরোভিয়া ১ গ্রাম ইনজেকশন বিক্রি করা হচ্ছে ১ হাজার ১২২ টাকায়। অথচ হাসপাতালের বাইরের একটি

ফার্মেসিতে একই ইনজেকশনের দাম ৭৩৭ টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি ইনজেকশনে দামের পার্থক্য ৩৮৫ টাকা বেশি নেয়া হয়েছে। হাসপাতালের বিক্রয়মূল্যের তুলনায় এই ব্যবধান প্রায় ৩৪ শতাংশ। অন্যদিকে, বাইরের ফার্মেসির দামের তুলনায় হাসপাতালের দোকানে একই ইনজেকশন প্রায় ৫২ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। একই ওষুধের ক্ষেত্রে দুই ফার্মেসির দামে এত বড় ব্যবধান কেন, ন্যায্যমূল্যের নামে পরিচালিত দোকানে বাইরের ফার্মেসির তুলনায় বেশি দাম নেওয়ার কারণ কী, ওষুধের মূল্য নির্ধারণ ও বিক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে এসব প্রশ্ন উঠেছে।একাধিক ক্রেতার অভিযোগ অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ শুধু একজন ক্রেতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রোগীর আর ও কয়েকজন স্বজন একই ফার্মেসির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, চিকিৎসার প্রয়োজনে জরুরি ওষুধ কিনতে এসে অনেক সময় দাম যাচাই করার সুযোগ থাকে না। রোগীর চিকিৎসার তাগিদে বাধ্য হয়েই স্বজনদের ওষুধ কিনতে হয়। এই সুযোগে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। রোগীর স্বজনদের জন্য ওষুধ কেনা এমনিতেই একটি বড় আর্থিক চাপ। বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অনেক পরিবারকে ওষুধের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হয়। সেখানে ন্যায্যমূল্যের দোকানে যদি বাজারের তুলনায় বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ ওঠে, তাহলে এর জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। সাংবাদিকের উপস্থিতিতে বিষয়টি সামনে আসার পর ক্রেতাকে ২ হাজার ২৪৫ টাকা ফেরত দেওয়া হয়। ফেরত দেওয়া অর্থের মধ্যে ৩ টি মেরোভিয়া ১ গ্রাম ইনজেকশনের পাশাপাশি অন্য ওষুধের মূল্য ও থাকতে পারে। ফলে ফেরত দেওয়া অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব এবং কোন কোন ওষুধের মূল্য ফেরত দেওয়া হয়েছে, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তবে ঘটনাটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। সাধারণ একজন ক্রেতা ওষুধ ফেরত দিতে গেলে কেন তাঁকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হলো না, সাংবাদিকের উপস্থিতির পরই কেন টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলো একজন ক্রেতাকে তাঁর অভিযোগের প্রতিকার পেতে কেন সাংবাদিকের সহায়তা নিতে হবে, এসব প্রশ্নের ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট ফার্মেসি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া প্রয়োজন। তদারকি ও মূল্য নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন বিষয়টি শুধু একটি ফার্মেসির বিক্রয়মূল্যের ব্যবধান নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাসপাতালের ওষুধ সরবরাহব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও রোগীর স্বার্থ রক্ষার প্রশ্ন। সরকারি হাসপাতালের ভেতরে ন্যায্যমূল্যের নামে পরিচালিত দোকানে ওষুধের দাম কীভাবে নির্ধারণ করা হয়, ক্রয়মূল্য ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে কতটুকু ব্যবধান রাখা হচ্ছে এবং নিয়মিত তদারকি করা হয় কি না, তা অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ওষুধের ক্রয়চালান, বিক্রয় রসিদ, মূল্যতালিকা এবং অনুমোদিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) যাচাই করা জরুরি। কারণ, বাইরের কোনো

ফার্মেসিতে ওষুধের দাম কম হলেই হাসপাতালের দোকানের বিক্রয়মূল্য বেআইনি প্রমাণিত হয় না। তবে একই ওষুধের দামে এত বড় ব্যবধানের অভিযোগ ওঠার পর এর যৌক্তিক ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট ফার্মেসির বিক্রয়মূল্য নির্ধারণের ভিত্তি কী, ওষুধ কেনার প্রকৃত মূল্য কত এবং রোগীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের হিসাব কীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে এসব বিষয় খতিয়ে দেখলে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। চমেক হাসপাতাল প্রতিদিন অসংখ্য রোগী ও তাঁদের স্বজনের চিকিৎসার অন্যতম ভরসাস্থল। সেখানে চিকিৎসা নিতে এসে ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে ও যদি অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হয়, তাহলে রোগীদের ভোগান্তি আর ও বাড়ে। ন্যায্যমূল্যের দোকানের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত রোগীদের সাশ্রয়ী মূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা, বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করা নয়। সংশ্লিষ্ট ফার্মেসি কর্তৃপক্ষ, হাসপাতাল প্রশাসন ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উচিত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা। একই সঙ্গে ওষুধের ক্রয়মূল্য, বিক্রয়মূল্য ও অনুমোদিত এমআরপি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। হাসপাতালের ভেতরের ওষুধের দোকানগুলোর মূল্যতালিকা প্রকাশ্যে রাখা এবং নিয়মিত তদারকির আওতায় আনাও জরুরি। ন্যায্যমূল্যের দোকানেই যদি ওষুধের দাম নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, ক্রেতার অভিযোগ গুরুত্ব না পায় এবং প্রতিকার

পেতে সাংবাদিকের উপস্থিতি প্রয়োজন হয়, তাহলে সেই ন্যায্যমূল্যের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। চিকিৎসাসেবার জায়গায় ওষুধ কেনাকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনদের এমন আর্থিক ভোগান্তির শিকার হতে হবে কেন? এই প্রশ্নের জবাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই দিতে হবে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ