আমু-শাজাহান খানসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল
নিজস্ব প্রতিবেদক
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমির হোসেন আমু ও শাজাহান খানসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।
একই সঙ্গে কারাগারে থাকা ছয় আসামিকে আগামী ২২ নভেম্বর হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পলাতক একজনের বিরুদ্ধে জারি করা হয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মার্জিনা রায়হান ও সহিদুল ইসলাম সরদার। শুনানিতে মামলার অভিযোগগুলো তুলে ধরেন প্রসিকিউটর তামিম।
গত ২ নভেম্বর প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। এর আগে ২৬ অক্টোবর তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে প্রসিকিউশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। পরে প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে তা ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে প্রসিকিউশন।
আমির হোসেন আমু ও শাজাহান খান ছাড়াও এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান, দীপু মনি ও আব্দুর রাজ্জাক এবং সাবেক সংসদ সদস্য মির্জা আজম। তাদের মধ্যে মির্জা আজম ছাড়া অন্যরা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোট রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্দোলন দমনে ভূমিকা রেখেছিল। তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও নীতিনির্ধারক হিসেবে আসামিরা আন্দোলন দমনে অংশ নেন, সহায়তা করেন এবং পরামর্শ দেন। সাতজনের বিরুদ্ধেই শীর্ষ নেতৃত্বের দায় বা সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটির অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন।