ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ , ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বকেয়া বেতনের দাবিতে সুপার অ'ব'রু'দ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-১১-০৩ ১৩:৫৫:৪৩
কুড়িগ্রামে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বকেয়া বেতনের দাবিতে সুপার অ'ব'রু'দ্ধ কুড়িগ্রামে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বকেয়া বেতনের দাবিতে সুপার অ'ব'রু'দ্ধ
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-

কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার কামাত আঙ্গারিয়া দাখিল মাদ্রাসার ছয় মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে সুপারিনটেনডেন্ট (সুপার) মোঃ সাইদুর রহমান ও অফিস সহকারী মোঃ শফিয়ার রহমানকে পাঁচ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন সহকারী শিক্ষক–কর্মচারীরা। আজ সোমবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত মাদ্রাসাটির কার্যালয়ে দুজনকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এ সময় মাদ্রাসার সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন সহকারী শিক্ষক–কর্মচারীরা। ‘ছয় মাস ধরে বেতন নাই, বেতন চাই, বেতন চাই’ বলে স্লোগানও দেন তাঁরা। শিক্ষকদের অভিযোগ, মাদ্রাসা সুপারের কারণে প্রশাসনিক জটিলতায় ছয় মাস ধরে মাদ্রাসার ১৮ শিক্ষক-কর্মচারী বেতন পাচ্ছেন না। বিষয়টি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত সুপারের বিরুদ্ধে তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসাটির সহকারী শিক্ষক মোঃ ইমরুল কায়েস মুঠোফোনে বলেন, ‘আমরা শিক্ষক। মানুষ আমাদের কাছে আরও ভদ্র আচরণ প্রত্যাশা করে। কিন্তু পেটের দায়ে সুপার স্যার ও অফিস সহকারীকে অবরুদ্ধ করতে হয়েছে। ছয় মাস ধরে বেতন বন্ধ। আমরা বাজারে যেতে পারি না।

আমাদের সংসার কীভাবে চলে? আমরা সুপার স্যারের অধীনে চাকরি করি। তিনি কীভাবে সমস্যার সমাধান করবেন, সেটা তাঁর বিষয়।’ এদিকে খবর পেয়ে মাদ্রাসাটির সভাপতি ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব প্রভাষক মোঃ শহিদুল ইসলাম আকন্দ বেলা তিনটার দিকে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করেন। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষক–কর্মচারীদের সঙ্গে সভাপতি বৈঠকে বসেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে মাদ্রাসার সুপার মোঃ সাইদুর রহমান তাঁর চাচাতো ভাই ও অফিস সহকারী মোঃ শফিয়ার রহমানকে শিক্ষক হিসেবে পদায়ন দেখান। এ নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়। পরে অফিস সহকারী পদে বহাল থাকার দাবিতে শফিয়ার রহমান আদালতে মামলা করেন। প্রায় এক বছর আগে করা মামলাটি এখনো চলমান। পদবি নিয়ে এই জটিলতার নিষ্পত্তি না হওয়ায় ছয় মাস ধরে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বন্ধ রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মোঃ সাইদুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, অফিস সহকারী মোঃ শফিয়ার রহমানের পদবি পরিবর্তন করে তাঁকে ইবতেদায়ি শিক্ষক হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই ভুল সংশোধনের জন্য এনটিআরসিএতে (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষে) কাজ চলছে। পদবি সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে বেতন নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি তা নিতে রাজি না হওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। সোমবার সকালে দায়িত্ব পালন করতে মাদ্রাসায় এলে তাঁকে অবরুদ্ধ করা হয়। সহকারী শিক্ষক মোঃ আতাউর রহমান বলেন, মাদ্রাসা সুপার অফিস সহকারীকে ইবতেদায়ি শিক্ষক হিসেবে পদায়ন করেছেন। এ

কারণে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হওয়ায় মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা কেউ বেতন পাচ্ছেন না। তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চান। সুপারের কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁরা কেন বেতন–ভাতা থেকে বঞ্চিত হবেন। মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত কামাত আঙ্গারিয়া দাখিল মাদ্রাসাটি ১৯৮৫ সালে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মাদ্রাসাটিতে ২১৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ১৮। এর আগে গত ২৩ জুলাই এনটিআরসির নিবন্ধন সনদ জালিয়াতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মাদ্রাসা সুপার সাইদুর রহমান। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ বলেন, মাদ্রাসাটির সুপারকে অবরুদ্ধ করার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যা সমাধানে মাদ্রাসার সভাপতিকে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ