ঢাকা , সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬ , ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিলিস্তিনিদের পক্ষে বি'ক্ষো'ভ, লন্ডনে গ্রে'প্তা'র ১৩৯

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-১১-০১ ১২:০৪:১২
ফিলিস্তিনিদের পক্ষে বি'ক্ষো'ভ, লন্ডনে গ্রে'প্তা'র ১৩৯ ফিলিস্তিনিদের পক্ষে বিক্ষোভ, লন্ডনে গ্রেপ্তার ১৩৯

নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাজ্যের আইনে ‘সন্ত্রাসবাদী’ সংস্থা হিসেবে তালিকাভুক্ত প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে লন্ডনে বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে সতর্কতা উপেক্ষা করায় পুলিশ অন্তত ১৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

 

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের অধীনে গত বছরের জুলাইয়ে কার্যকর হওয়া এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে শনিবার লন্ডনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের বাইরে শত শত মানুষ সমবেত হন। এই দলটিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আগামী বুধবারে একটি আপিল শুনানির কথা রয়েছে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় লন্ডনের মেট্রেপলিটন পুলিশ জানায়, ‘এখন পর্যন্ত ১৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ তারা আরও উল্লেখ করে, ‘গ্রেপ্তারকৃতদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রতি সমর্থন প্রকাশের অভিযোগ রয়েছে।’

 

পুলিশের এই বার্তার জবাবে লেবার পার্টির এমপি জন ম্যাকডোনেল এক্সে পোস্ট করে বলেন, কোনো একটি সংস্থাকে নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাকে ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই সংস্থাকে সমর্থনের শামিল হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না’ এবং ‘তাই এটি গ্রেপ্তারযোগ্য অপরাধ হতে পারে না।’ তিনি আরও যোগ করেন, তিনি মনে করেন সরকার ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সন্ত্রাসী সংস্থা হিসেবে নিষিদ্ধ করে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

 

জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দায়িত্ব নেওয়ার পর এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে শনিবারের সমাবেশটিই প্রথম গণবিক্ষোভ। সংস্থাটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ব্রিটিশ সমাজে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে এবং সমালোচকদের মতে এটি ফিলিস্তিনপন্থীদের কণ্ঠরোধের একটি প্রয়াস। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে আল-কায়েদা ও আইএসের মতো নিষিদ্ধ তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

এদিকে স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবার্গে মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরেও বিক্ষোভকারীরা জমায়েত হন, তবে সেখানে কোনো গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। লন্ডনে এবং এডিনবার্গে বিক্ষোভকারীদের হাতে ‘আমি গণহত্যার বিরোধী। আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন করি’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

 

আন্দোলন আয়োজনকারী সংস্থা ডিফেন্ড আওয়ার জুরি-র এক মুখপাত্র বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে গণহত্যা বিরোধিতা ও প্যালেস্টাইন অ্যাকশন দলের প্রতি নীরব সমর্থন জানানোর জন্য সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ৪ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা সত্যি এক ভয়াবহ রূপকের মতো।’ 

 

প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের রিপোর্ট অনুযায়ী মুখপাত্রটি আরও বলেন, ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা সরাসরি ট্রাম্পের নীতি থেকে নেওয়া, তাই হ্যালোইনে এবং মার্কিন দূতাবাসের সামনে এই মাইলফলকে পৌঁছানো যথার্থ।’ তিনি যোগ করেন, এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার অর্থ হচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার ‘ট্রাম্প ও ইসরায়েলি অস্ত্র কোম্পানিগুলোকে তোষণ করছে যাদের কাজ প্যালেস্টাইন অ্যাকশন ব্যাহত করেছিল, কোনো সন্ত্রাসী হুমকির কারণে এটি করা হয়নি।’

 

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যুক্তরাজ্যের যোগাযোগ ও প্রচারণা প্রধান ফেলিক্স জ্যাকেন্স সরকারকে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড ধরার কারণে দাদা-দাদী থেকে শুরু করে কিশোর-কিশোরী সবাইকে পুলিশের ভ্যানে তোলার দৃশ্যটি বাকসংগতির ওপর এক লজ্জাজনক আঘাত।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের উচিত অবিলম্বে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা এবং আইন সংশোধন করা যাতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রতিবাদ জানানোর ক্ষমতা নাগরিকদের কমে না গিয়ে বৃদ্ধি পায়।’







 



নিউজটি আপডেট করেছেন : News Room 3

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ