ঢাকা , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ , ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউল আহসানের অভিযানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহে ব্যর্থ তদন্ত কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-১০-২৮ ১৯:৫৭:৪০
জিয়াউল আহসানের অভিযানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহে ব্যর্থ তদন্ত কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের অভিযানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহে ব্যর্থ তদন্ত কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক

র‍্যাবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অভিযানে ১০৩ জনকে হত্যার অভিযোগে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার সংশ্লিষ্টতার ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম। র‍্যাব-৮-এর আর্কাইভ থেকে সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল নথি এবং জিয়াউল আহসান ও গোয়েন্দা সদস্যদের চলাচলসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন বলে আদালতকে জানিয়েছেন তিনি।

 

বুধবার (২৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে জেরার সময় এসব তথ্য জানান তদন্ত কর্মকর্তা।

 

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে করা এ মামলায় জিয়াউল আহসান একমাত্র আসামি। এদিন পঞ্চম দিনের মতো তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী সাহিদুর রহমান। মামলায় প্রসিকিউশনের ১৫তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিচ্ছেন তিনি। নিরাপত্তার কারণে জিয়াউল আহসানকে কারাগারে রেখেই ভার্চ্যুয়ালি বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

 

জেরার একপর্যায়ে বিভিন্ন অভিযানের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জানতে চান আসামিপক্ষের আইনজীবী। জবাবে রফিকুল ইসলাম বলেন, তার বর্ণিত যেসব অভিযানের নির্বাহী তদন্ত হয়েছিল, সেগুলোর প্রতিবেদন তিনি সংগ্রহ করেছেন। তবে এসব প্রতিবেদনে জিয়াউল আহসানের নাম পাওয়া যায়নি। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, প্রতিবেদনগুলো ছিল ‘ফরমায়েশি’।

 

অভিযানের প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হতো কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেসব অভিযান সঠিকভাবে পরিচালিত হতো, সেগুলোর প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হতো। তবে অনিয়মের মাধ্যমে পরিচালিত অভিযানের প্রতিবেদন পাঠানো হতো না।

 

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, তদন্তের প্রয়োজনে তিনি র‍্যাব-৮-এর কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে বিভিন্ন অভিযানের সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল নথি এবং জিয়াউল আহসানসহ গোয়েন্দা শাখার সদস্যদের চলাচলসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব তথ্য সংগ্রহ করতে পারেননি।

 

এ ছাড়া অভিযানে আহত ও নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং সংশ্লিষ্ট র‍্যাব সদস্যদের নাম সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে গিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি। তবে এসব তথ্য চেয়ে কোনো লিখিত চাহিদাপত্র দেননি বলে জেরায় স্বীকার করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী সাহিদুর রহমান দাবি করেন, তদন্ত কর্মকর্তা কখনো র‍্যাব-৮ কিংবা র‍্যাব সদর দপ্তরে যাননি। তবে এ দাবি নাকচ করে রফিকুল ইসলাম বলেন, আইনজীবীর বক্তব্য সত্য নয়।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। জবানবন্দিতে তিনি তদন্তকালে বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন, তথ্য-উপাত্ত ও আলামত সংগ্রহ এবং মামলার অভিযোগের সঙ্গে সেগুলোর সংশ্লিষ্টতার বিষয় তুলে ধরেন।

 

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগে মোট ১০৩ জনকে হত্যার অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন।

 

প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে সড়কের পাশে জিয়াউল আহসানের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা করা হয়।

 

দ্বিতীয় অভিযোগে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খালসংলগ্ন বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল ও মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগে একই সময়ে বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় কথিত বনদস্যু দমন অভিযানের আড়ালে মাসুদসহ আরও ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগে ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। একই দিন ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আমলে নেন। পরে ২৩ ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

 



নিউজটি আপডেট করেছেন : News Room 3

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ