ঢাকা , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ , ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মির্জাপুরে সরকারি জমিতে অ'বৈধ শতাধিক করাতকল, উ'চ্ছেদ অভিযানে প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-১০-২৮ ১৮:৩৯:০১
মির্জাপুরে সরকারি জমিতে অ'বৈধ শতাধিক করাতকল, উ'চ্ছেদ অভিযানে প্রশাসন মির্জাপুরে সরকারি জমিতে অবৈধ শতাধিক করাতকল, উচ্ছেদ অভিযানে প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সরকারি বনাঞ্চল ও হাট-বাজারের জমি দখল করে গড়ে ওঠা শতাধিক অবৈধ করাতকলের (স মিল) বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে নেমেছে স্থানীয় প্রশাসন ও বনবিভাগ। এসব অবৈধ করাতকলে সরকারি বনের চোরাই কাঠসহ সড়ক ও বসতবাড়ির গাছ চেরাই করায় একদিকে পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

 

দেওহাটা বাজারে এরই মধ্যে একটি অবৈধ করাতকল উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং অন্যদের বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শনে এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

 

মির্জাপুর উপজেলার লতিফপুর, তরফপুর, আজগানা, গোড়াই ও বাঁশতৈল ইউনিয়নজুড়ে বিস্তৃত রয়েছে প্রায় ১৪ হাজার একর সরকারি বনাঞ্চল, যেখানে শাল, গজারি, নিম ও কড়ইসহ বহু মূল্যবান বনজ বৃক্ষ রয়েছে। বনবিভাগের বিধিমালা অনুযায়ী সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ১০ কিলোমিটার সীমানার ভেতরে কোনো করাতকল স্থাপনের সুযোগ না থাকলেও আইন অমান্য করে হাটুভাঙ্গা, বাঁশতৈল, তক্তারচালা, পেকুয়া, আজগানা, খাটিয়ারঘাট, দেওহাটা ও বংশীনগরসহ পাহাড়ি এলাকার বিভিন্ন বাজারে গড়ে তোলা হয়েছে ৮০ থেকে ৯০টি করাতকল। দিনে ও রাতের আঁধারে বনের মূল্যবান গাছ কেটে এনে এসব মিলে চেরাই শেষে পাচার করা হচ্ছে।

 

বনাঞ্চলের বাইরেও মির্জাপুর পৌরসভাসহ জামুর্কি, ভাতগ্রাম, ভাওড়া, ওয়ার্শি, বানাইল, আনাইতারা, মহেড়া ও ফতেপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজারের সরকারি জমি দখল করে প্রভাবশালীরা আরও ৩০ থেকে ৩৫টি অবৈধ করাতকল পরিচালনা করছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, কোনো ধরনের বৈধতা না থাকায় বিপুল রাজস্ব লোকসানের পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশ ও প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করা হচ্ছে।

 

বনবিভাগের বাঁশতৈল রেঞ্জের আজগানা বিট কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, উপজেলায় শতাধিক করাতকল গড়ে উঠলেও মাত্র ১০ থেকে ১২টির বৈধ লাইসেন্স রয়েছে। রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী একটি মহল নিজেদের আধিপত্য খাটিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে এসব মিল পরিচালনা করছে।

 

বনবিভাগের মির্জাপুর উপজেলা বাঁশতৈল রেঞ্জ অফিসের (ডিএফও) অফিসার মোসা. অমি আক্তার বলেন, সরকারি বনাঞ্চল বা হাট-বাজারের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে করাতকল স্থাপনের কোনো আইনি এখতিয়ার কারও নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এসব অবৈধ করাতকলের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান শুরু হয়েছে।

 

অভিযানের বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌফিক রেজা জানান, গত সোমবার দেওহাটা বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে শহিদ মিয়া নামের এক ব্যবসায়ীর একটি অবৈধ করাতকল সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই এলাকার আরও ১২-১৩টি করাতকলের মালিককে বৈধ কাগজপত্র প্রমাণের জন্য এক মাসের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বৈধতা দেখাতে ব্যর্থ হলে পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি অবৈধ করাতকল গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

 






 



নিউজটি আপডেট করেছেন : News Room 3

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ