কাউখালীতে বেকুটিয়া সেতুর নিচের ডলফিন চত্বরে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়
কাউখালীতে বেকুটিয়া সেতুর নিচের ডলফিন চত্বরে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়:
কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি।
টানা সরকারি ছুটি ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাশকে কেন্দ্র করে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার কঁচা নদীর তীরে নবনির্মিত ‘ডলফিন চত্বর’ ও বেকুটিয়া সেতু এলাকা এখন মুখরিত ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায়। কাউখালী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই বিনোদন চত্বরে প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সব বয়সী মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, দুর্গাপূজা কিংবা টানা ছুটির সুবাদে কাউখালীসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা এবং দূরদূরান্ত থেকে পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব ও নবদম্পতিরা ছুটে আসছেন এখানে। প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকজুড়ে কঁচা নদীর তীর, নদীর অপরূপ জলরাশি, ডলফিনের মুখ থেকে পানি পড়ার নান্দনিক দৃশ্য এবং নদীর চরের মৃদু বাতাসে মন জুড়িয়ে যাচ্ছে দর্শনার্থীদের।
বিশেষ করে নদীর তীরঘেঁষা বাতাসে দুলতে থাকা কাশবন এবং সেখানে দর্শনার্থীদের ছুটাছুটি চারপাশের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। ঘুরতে আসা মানুষের সুবিধার্থে নদীর পাড়ে ও চত্বর এলাকায় গড়ে উঠেছে বেশ কিছু খাবারের হোটেল ও রেস্তোরাঁ। যেখানে বিভিন্ন স্বাদের সুস্বাদু খাবার বিক্রি হচ্ছে। ফলে বিনোদনের পাশাপাশি ভোজনরসিকদের জন্যও এটি একটি আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। কাউখালীর পাশাপাশি ভাণ্ডারিয়া, নেছারাবাদ, রাজাপুর, কাঁঠালিয়া ও পিরোজপুর সদর থেকেও প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে ঘুরতে আসছেন। ছুটিতে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীরা এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। মাগুরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ সুরভী বলেন, “পূজার ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এসে বেকুটিয়া ব্রিজের নিচে ডলফিন চত্বরে ঘুরে ভীষণ ভালো লেগেছে। শহরের যান্ত্রিক কোলাহল ও ব্যস্ততার মাঝে এখানকার নিরাপদ খোলা বাতাস ও নদীর স্নিগ্ধ দৃশ্য আমার মন জুড়িয়ে দিয়েছে।
বারবার এখানে আসতে ইচ্ছে করে। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী রাফিদ ও কাউখালীর গৃহবধূ আইরিন জানান, কাউখালীতে বিনোদনের জায়গার বেশ সংকট রয়েছে। তাই বেকুটিয়া সেতুর নিচের ডলফিন চত্বর এলাকায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত একটি মানসম্মত ইকোপার্ক গড়ে তোলা হলে তা আরও আকর্ষণীয় হবে। তখন কাউখালীসহ আশপাশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ আরও স্বাচ্ছন্দ্যে পরিবার নিয়ে এসে মনকে সতেজ করতে পারবেন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, উপজেলা প্রশাসনের এই সুন্দর উদ্যোগটি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ এবং এর পরিধি আরও বাড়ালে এটি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে রূপ নিতে পারে। বার্তা প্রেরক, রিয়াদ মাহমুদ সিকদার কাউখালী, পিরোজপুর। তারিখ,২৩/১০/২০২৬।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স