ঢাকা , শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ , ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাহাড়ের ঘরে ঘরে তাঁতের খটখট শব্দে অর্থনৈতিক মুক্তির নতুন সুর: পার্বত্য অঞ্চলে সম্প্রীতি ও স্বাবলম্বিতার অনন্য দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী


আপডেট সময় : ২০২৬-১০-২২ ২৩:২৬:৫৭
পাহাড়ের ঘরে ঘরে তাঁতের খটখট শব্দে অর্থনৈতিক মুক্তির নতুন সুর: পার্বত্য অঞ্চলে সম্প্রীতি ও স্বাবলম্বিতার অনন্য দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পাহাড়ের ঘরে ঘরে তাঁতের খটখট শব্দে অর্থনৈতিক মুক্তির নতুন সুর: পার্বত্য অঞ্চলে সম্প্রীতি ও স্বাবলম্বিতার অনন্য দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
রাজস্থলী (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ

মোঃআইয়ুব চৌধুরী পার্বত্য চট্টগ্রামের রক্তিম পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে এখন আর কেবল প্রাকৃতিক রূপের শোভা নয়, প্রতিধ্বনিত হচ্ছে স্বাবলম্বিতার নতুন আশার সুর। পাহাড়ি জনপদের শান্তি, সম্প্রীতি ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সুদূরপ্রসারী অঙ্গীকার নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একের পর এক মানবিক ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়ায় পাহাড়ি ও বাঙালি নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এবং ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্পকে আধুনিকতার ছোঁয়ায় পুনরুজ্জীবিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সেনাবাহিনী। বাঙ্গালহালিয়া আর্মি ক্যাম্পের (৩৮ বীর) সার্বিক ব্যবস্থাপনায় স্থানীয়

পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর জন্য আয়োজিত দুই সপ্তাহব্যাপী ‘কুটির শিল্প (তাঁত শিল্প) প্রশিক্ষণ কর্মসূচি’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে অনুষ্ঠিত সমাপনী আয়োজনে কৃতী প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদপত্র তুলে দেওয়ার মাধ্যমে পাহাড়ে অর্থনৈতিক মুক্তির এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটে। গত ১১ অক্টোবর থেকে বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কনফারেন্স রুমে শুরু হওয়া এই নিবিড় প্রশিক্ষণ কর্মশালায় পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের ২০ জন প্রতিশ্রুতিশীল প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। কাঁকড়া ছড়ি, ধলিয়া পাড়া, চম্পাতলী, নোয়া পাড়া, ছাগল খাইয়া পাড়া, কুদুম ছড়া পাড়া ও রমতিয়া পাড়াসহ দুর্গম প্রান্তিক অঞ্চলের নারীরা এখানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রশিক্ষণে অংশ নেন। প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক মিলন চৌধুরীর দক্ষ তত্ত্বাবধানে সুতার মান নির্ধারণ, সু নিখুঁত ববিন ও নলি তৈরি, আধুনিক সরঞ্জামাদির সঠিক ব্যবহার, আকর্ষণীয় নকশা ফুটিয়ে তোলা, কাপড় বুনন (Weaving) এবং তাঁত যন্ত্রাংশের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপর ব্যবহারিক শিক্ষা দেওয়া হয়। নিবিড় এই প্রশিক্ষণ শেষে চূড়ান্ত পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ সকল প্রশিক্ষণার্থীর হাতে আজ পরম আনন্দের সাথে সনদপত্র তুলে দেন বাঙ্গালহালিয়া আর্মি ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন মর্তুজা সাইফ রাসেল। সনদপত্র বিতরণ শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আবেগঘন ও অনুপ্রেরণাদায়ক বক্তব্য রাখেন ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন মর্তুজা সাইফ রাসেল।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কেবল পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্বেই সীমাবদ্ধ নয়; স্থানীয় প্রতিটি মানুষের স্বাবলম্বিতা, আত্মনির্ভরশীলতা এবং সার্বিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা আমাদের অন্যতম মূল লক্ষ্য। ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্প পাহাড়ের একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও গৌরবময় ঐতিহ্য। এই সঠিক প্রশিক্ষণকে কাজে লাগিয়ে পাহাড়ি-বাঙালি নারীরা ঘরে বসেই নিজেদের পরিবারের আর্থিক সমৃদ্ধি এনে দিতে পারেন। আজকের এই অর্জন কেবল একটি কাগজের সনদ নয়; এটি পাহাড়ে স্থায়ী সম্প্রীতি রক্ষা ও গৃহ ভিত্তিক অর্থনৈতিক মুক্তির এক নতুন দিগন্তের প্রতীক।” সেনাবাহিনীর এই দূরদর্শী ও কল্যাণমুখী উদ্যোগকে স্থানীয় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেরা একবাক্যে ‘অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, স্থানীয় হেডম্যান, কার্বারী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সেনা কর্মকর্তা ও জোয়ানরা উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের উৎসাহিত করেন। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া প্রান্তিক পাহাড়ি ও বাঙালি নারীরা অত্যন্ত আবেগপ্লুত কণ্ঠে জানান, দুর্গম পাহাড় থেকে প্রতিদিন প্রশিক্ষণস্থলে নিরাপদে ও নিয়মিত যাতায়াতের সুব্যবস্থা করে দেওয়াসহ তাদের জীবনের নতুন স্বপ্ন দেখার সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাঙ্গালহালিয়া আর্মি ক্যাম্পের প্রতি তারা চিরকৃতজ্ঞ। পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমান্ত রক্ষা ও শান্তি বজায় রাখার পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নে

সেনাবাহিনীর এমন কার্যকর ও আন্তরিক উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলের শান্তিপ্র্রিয় মানুষের মনে এক নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে। সামরিক বাহিনীর এই নিবেদিতপ্রাণ মানবিক মুখ পাহাড়ে পাহাড়ে সম্প্রীতি ও সার্বিক অগ্রগতির পথকে আরও সুগম করছে। মোঃআইয়ুব চৌধুরী রাজস্থলী, রাঙ্গামাট


নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ