ঢাকা , সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ , ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বালুর নিচে চা'পা পড়ছে জীবন ও প্রকৃতি: ব্রাহ্মণপাড়ায় বেপরোয়া পুকুর ভরাট, মহাবিপর্যয়ের শ'ঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-১০-১৮ ২০:১৮:১৩
বালুর নিচে চা'পা পড়ছে জীবন ও প্রকৃতি: ব্রাহ্মণপাড়ায় বেপরোয়া পুকুর ভরাট, মহাবিপর্যয়ের শ'ঙ্কা বালুর নিচে চাপা পড়ছে জীবন ও প্রকৃতি: ব্রাহ্মণপাড়ায় বেপরোয়া পুকুর ভরাট, মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা
মোঃ অপু খান চৌধুরী।।

চোখের সামনে একে একে বিলীন হয়ে যাচ্ছে রূপসী বাংলার প্রাণ—গ্রামের শান্ত, শ্যামল পুকুরগুলো। যে জলাধারগুলো একসময় গ্রামের প্রতিটি মানুষের তৃষ্ণা মেটাত, শিশু-কিশোরদের আনন্দমুখর সাঁতার আর গবাদিপশুর একমাত্র আশ্রয় ছিল, তা আজ বালুর নিচে চাপা পড়ছে নিষ্ঠুরভাবে। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় প্রকৃতির এই নীরব কান্না আর স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘশ্বাসকে উপেক্ষা করে কেবল বাণিজ্যিক স্বার্থে বালু ফেলে একের পর এক পুকুর ভরাট করে ফেলা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে

বহুতল ভবন, দোকানপাট ও ঝলমলে মার্কেট নির্মাণের এক অন্ধ প্রতিযোগিতায় নেমেছেন একশ্রেণীর ভূমিগ্রাসী। এতে কেবল ভৌগোলিক চিত্রই বদলে যাচ্ছে না, ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে পুরো ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা। নিভে যাচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানির রিজার্ভ ব্যবস্থা, বিঘ্নিত হচ্ছে জীববৈচিত্র্য, আর মেঘের ঘনঘটা নামলেই দেখা দিচ্ছে থমকে যাওয়া জলাবদ্ধতার আতঙ্ক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত মাত্র দুই বছরে ব্রাহ্মণপাড়া-মিরপুর সড়কের পাশেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে অন্তত ১০টি সুপ্রাচীন পুকুর। বর্তমানে উপজেলা সদরের মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে আরও দুটি পুকুরে বুলডোজার আর বালুর ভারী ট্রাকে চলে দেদারসে ভরাট উৎসব। এ ছাড়া সদরের আরও চারটি পুকুরের বুকে ইতিমধ্যেই বালুর চাদর জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নন্দীপাড়া, কল্পবাস, বড়ধুশিয়া ও চান্দলা এলাকাতেও রেহাই পাচ্ছে না প্রকৃতির এই পরম বন্ধু জলাধারগুলো।

অথচ ১৯৯৫ সালের বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৬(ঙ) ধারা স্পষ্ট নির্দেশ দেয়—অনুমতি ছাড়া কোনো প্রাকৃতিক জলাধার ভরাট বা জমির শ্রেণি পরিবর্তন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনের তোয়াক্কা না করে চোখের সামনে চলে এমন নির্মমতা, যার শিকার হচ্ছে জলজ উদ্ভিদ, মাছ, ব্যাঙ থেকে শুরু করে নানা প্রজাতির পাখি। শুধু পরিবেশই নয়, কোনো অগ্নিদুর্ঘটনায় আগুন নেভানোর কিংবা আপদকালীন পানির ন্যূনতম উৎসটুকুও আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম বলেন, কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) কাটা ও বিক্রি বন্ধে খুব শীঘ্রই একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হবে। উপজেলায় বর্তমানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) না থাকায় দাপ্তরিক কাজের অতিরিক্ত চাপের কারণে নিয়মিত সরজমিনে সময় দেওয়া কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ে। তারপরও পুকুর ভরাটের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ বা আবেদন এলেই আমরা সরজমিনে উপস্থিত হয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তা বন্ধ ও গুঁড়িয়ে দিচ্ছি।

তিনি আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ড্রেজার বসানো কিংবা পুকুর ভরাট করা সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। পরিবেশ রক্ষায় খুব শিগগিরই অবৈধ ড্রেজার ও পুকুর ভরাটের বিরুদ্ধে কঠোর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ