স্কুলে নারী শিক্ষককে থাপ্পড় বহিষ্কারের পর বিএনপি নেতা বললেন, ‘ওই শিক্ষিকা আওয়ামী লীগের দালাল’
নিজস্ব প্রতিবেদক
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের কালনী হিরনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী নারী শিক্ষক একরামুনন্নেছা বিউটিকে লাঞ্ছিত করায় ঘটনায় দাউদপুর ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আফজাল মোল্লাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দাউদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন সরকার ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম তাকে দল থেকে বহিষ্কারের চিঠি দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই ঘটনায় আফজাল মোল্লাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় কেউ যদি অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত হয় তাদের বিরুদ্ধে এভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে প্রধান শিক্ষক আওলাদ হোসেন দপ্তরিকে দিয়ে সহকারী শিক্ষক একরামুন্নেছা বিউটিকে নিজের কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে বিএনপি নেতা আফজাল মোল্লা, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জাকির হোসেনসহ তিনজন সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিদ্যালয়ের বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়ে কিছুদিন আগে একরামুন্নেছা বিউটি বাজে মন্তব্য করেছেন—এমন অভিযোগ তুলে আফজাল মোল্লা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি ওই নারী শিক্ষকের ওপর চড়াও হন। এ সময় প্রধান শিক্ষকের সঙ্গেও তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।
হামলার শিকার একরামুন্নেছা বিউটি অভিযোগ করে বলেন, কালনী হিরনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দাউদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আফজাল মোল্লা তাকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারপিট করেন। আফজাল মোল্লাকে শুধু বহিষ্কার করলেই চলবে না। তাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে স্থানীয় কামতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন নিয়ে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আফজাল মোল্লার সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের জেরে গত বুধবার দুপুরে কালনী হিরনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আওলাদ হোসেন খানের কক্ষে আফজাল মোল্লা প্রথমে তাকে লাঞ্ছিত এবং পরে হামলা চালিয়ে তাকে আহত করেন।
এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আফজাল মোল্লা মুঠোফোনে বলেন, ‘একরামুন্নেছা বিউটি আওয়ামী লীগের দালাল।’ তাছাড়া আর কোনো বক্তব্য জানাতে অপারগতা জানান তিনি।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম আব্দুল্লাহ-বিন-শফিক বলেন, শিক্ষিকাকে লাঞ্ছিত ও হামলার ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।