কোমল পানীয়ের ওপর ‘চিনি কর’ আরোপ জার্মানির
নিজস্ব প্রতিবেদক
চিনিযুক্ত কোমল পানীয়ের ব্যবহার কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জার্মানি। ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে দেশটিতে চিনিযুক্ত পানীয়ের ওপর বিশেষ কর কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
জার্মানির অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে ক্ষমতাসীন জোটের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ‘চিনি কর’ প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের পথ তৈরি হয়েছে।
জার্মান সংবাদমাধ্যম আরএনডির হাতে আসা খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি ১০০ মিলিলিটার পানীয়তে অন্তত ৫ গ্রাম চিনি থাকলে প্রতি লিটারে ২৬ সেন্ট কর দিতে হবে। চিনির পরিমাণ ৮ গ্রাম বা তার বেশি হলে প্রতি লিটারে করের পরিমাণ হবে ৩২ সেন্ট। বুধবার (১৪ অক্টোবর) মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি অনুমোদনের কথা রয়েছে।
মধ্য-বামপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এসপিডি) অর্থমন্ত্রী লার্স ক্লিংবাইল এ উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদকদের কম চিনিযুক্ত পানীয় তৈরিতে উৎসাহিত করতে চান।
সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এ কর থেকে ২০২৭ সালে প্রায় ৬৯ কোটি ইউরো এবং ২০২৮ সালে ৯২ কোটি ৫০ লাখ ইউরো রাজস্ব আসতে পারে।
কর আরোপ নিয়ে জোটে মতবিরোধ
চিনিযুক্ত পানীয়ের ওপর কর আরোপের প্রস্তাব নিয়ে জার্মানির ক্ষমতাসীন জোটের মধ্যে আগে থেকেই মতবিরোধ ছিল। দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে চ্যান্সেলরের দপ্তর ক্লিংবাইলের আগের প্রস্তাব আটকে দিয়েছিল।
রক্ষণশীল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) কয়েকজন রাজ্য পর্যায়ের নেতা এ করের বিরোধিতা করেন। তাদের যুক্তি, কর আরোপের ফলে ভোক্তাদের ব্যয় বাড়বে এবং বাজারে সরকারের হস্তক্ষেপ আরও বিস্তৃত হবে।
জার্মানিতে চিনির ব্যবহার সুপারিশের চেয়ে বেশি
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সুপারিশ অনুযায়ী, একজন সুস্থ ও স্বাভাবিক ওজনের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক চিনি গ্রহণ ৫০ গ্রামের নিচে রাখা উচিত। সম্ভব হলে তা ২৫ গ্রামের নিচে, অর্থাৎ প্রায় ছয় চা-চামচে সীমিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
তবে জার্মানিতে চিনির ব্যবহার এ সুপারিশের চেয়ে বেশি। দেশটিতে পুরুষেরা প্রতিদিন গড়ে ৭৮ গ্রাম এবং নারীরা ৬১ গ্রাম চিনি গ্রহণ করেন। অন্যান্য উৎসের চিনিও হিসাব করলে দৈনিক গ্রহণের পরিমাণ ১০০ গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
চিনিযুক্ত পানীয়ের ওপর কর আরোপের মাধ্যমে চিনির ব্যবহার কমানো এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করছে জার্মান সরকার।