পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি চকবাজারের আগুন
পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি চকবাজারের আগুন
নিজস্ব প্রতিবেদক
পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি চকবাজারের আগুন পুরান ঢাকার চকবাজারের কাটরা মসজিদ এলাকার মনসুর খান প্লাজায় লাগা আগুন প্রায় সাত ঘণ্টা পরও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লে. কর্নেল মাহমুদুল হাসান। তিনি বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের সঙ্গে স্পেশাল রেসপন্স টিম ও লাইটিং ইউনিটসহ মোট ১২টি ইউনিট কাজ করছে। সরু রাস্তা, ভবনের কাঠামোগত জটিলতা এবং গোডাউনে বিপুল পরিমাণ মালামাল মজুত থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত একটার দিকে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান।
মাহমুদুল হাসান বলেন, বিকেল ৫টার দিকে ভবনটিতে আগুন লাগে। বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস খবর পায়। এরপর বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আগুনের ভয়াবহতা বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে আরও ইউনিট যুক্ত করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভবনটির কসমেটিকস ও ব্যাগের গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। পরে তা বিভিন্ন কম্পার্টমেন্টে ছড়িয়ে পড়ে। ভবনটির বিভিন্ন অংশে একাধিক গোডাউন রয়েছে। এসব গোডাউনে প্রচুর মালামাল থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগছে। ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা জানান, সরু রাস্তাঘাটের কারণে বিশেষায়িত ও ভারী গাড়ি ঘটনাস্থলে নেওয়া কঠিন হচ্ছে। পাশাপাশি ভবনের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হচ্ছে ঝুঁকি নিয়ে। কিছুক্ষণের মধ্যে বা ঘণ্টাখানেকের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আশা থাকলেও গোডাউনগুলোতে বিপুল পরিমাণ মালামাল মজুত থাকায় ঠিক কতক্ষণ লাগবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কাছে হতাহতের কোনো খবর নেই। তবে প্রচণ্ড ধোঁয়ার কারণে ফায়ার সার্ভিসের দু’জন কর্মী
প্রাথমিকভাবে আহত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে। ভবনটির ষষ্ঠ তলায় থাকা মালামাল পুড়ে গেছে বলে জানানো হয়েছে। পঞ্চম তলায় ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলক কম হয়েছে। পুরান ঢাকার ভবনগুলোর কাঠামো ও দোকানগুলোর বিন্যাসের কারণে আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রায় ১৫০ জন সদস্য কাজ করছেন। তাদের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও সহযোগিতা করছেন। সব মিলিয়ে ঘটনাস্থলে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জন কাজ করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স