ঢাকা , রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ , ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জান্নাতের নিয়ামতগুলো দেখতে কেমন হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-১০-১১ ১২:১৭:৫৩
জান্নাতের নিয়ামতগুলো দেখতে কেমন হবে? জান্নাতের নিয়ামতগুলো দেখতে কেমন হবে?
নিজস্ব প্রতিবেদক


জান্নাতের রূপ ও এর ভেতরে থাকা নিয়ামত সম্পর্কে ইবনুল কাইয়ুম (রহ.) অত্যন্ত চমৎকার এক বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আপনি যদি এর মাটি ও ভূমির কথা জিজ্ঞেস করেন, তবে তা হলো কস্তুরী ও জাফরান। আপনি যদি এর ছাদের কথা জিজ্ঞেস করেন, তবে তা হলো পরম করুণাময়ের আরশ। আপনি যদি এর পাথরগুলোর কথা জিজ্ঞেস করেন, তবে সেগুলো মুক্তা ও রত্নরাজির। আপনি যদি এর ইমারতগুলোর কথা জিজ্ঞেস করেন, তবে তা সোনা ও রূপার ইটে তৈরি। আপনি যদি এর গাছপালার কথা জিজ্ঞেস করেন, তবে এমন কোনো গাছ নেই যার কাণ্ড সোনা ও রূপার তৈরি নয়। আপনি যদি এর ফলমূলের কথা জিজ্ঞেস করেন, তবে তা মাখনের চেয়েও নরম এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি।


আপনি যদি এর পাতাসমূহের কথা জিজ্ঞেস করেন, তবে তা সবচেয়ে নরম কাপড়ের চেয়েও সুকোমল। আপনি যদি এর নদীগুলোর কথা জিজ্ঞেস করেন, তবে সেখানে রয়েছে অপরিবর্তিত স্বাদের দুধের নদী, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু মদের নদী, বিশুদ্ধ মধুর নদী এবং স্বচ্ছ সুপেয় পানির নদী। আপনি যদি তাদের খাদ্যের কথা জিজ্ঞেস করেন, তবে তা হবে পছন্দের যেকোনো ফলমূল এবং মানুষের মনে চাওয়া যেকোনো পাখির গোশত। আপনি যদি তাদের পানীয়ের কথা জিজ্ঞেস করেন, তবে তা হবে তাসনিম, আদা ও কাফুর মিশ্রিত পানীয়। আপনি যদি তাদের পানপাত্রের কথা জিজ্ঞেস করেন, তবে তা স্ফটিকস্বচ্ছ, সোনা ও রূপায় নির্মিত। আপনি যদি এর ছায়ার কথা জিজ্ঞেস করেন, তবে একজন দ্রুতগামী অশ্বারোহী এর একটি গাছের ছায়াতেই একশ বছর ধরে ভ্রমণ করেও তা পার হতে পারবে না। আপনি যদি এর বিশালতার কথা জিজ্ঞেস করেন, তবে এর সর্বনিম্ন স্তরের একজন মানুষের রাজ্য, প্রাচীর, প্রাসাদ ও উদ্যানগুলোর দূরত্ব হবে এমন, যা ভ্রমণ করতে এক হাজার বছর সময় লাগবে। আপনি যদি এর তাবু ও আবাসগুলোর কথা জিজ্ঞেস করেন, তবে একটি তাবু হবে ষাট মাইল লম্বা এক বিশাল মুক্তার মতো। লোক


দেখানোর জন্য আমলকারীদের যেভাবে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে সর্বনিম্ন স্তরের জান্নাতের অধিকারীর জন্য যে নেয়ামত মুত্তাকিদের জান্নাতের যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে কোরআনে আপনি যদি এর সুউচ্চ টাওয়ারগুলোর কথা জিজ্ঞেস করেন, তবে সেগুলো হলো ইমারতের ওপর নির্মিত প্রাসাদ, যার নিচ দিয়ে নদী প্রবাহিত হয়। আপনি যদি আকাশের দিকে এর বিস্তৃতির কথা জিজ্ঞেস করেন, তবে উজ্জ্বল দৃশ্যমান তারকা এবং আকাশের যে দূরতম তারা মানুষের দৃষ্টিসীমার বাইরে—সেগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখুন। আপনি যদি এর বাসিন্দাদের পোশাকের কথা জিজ্ঞেস করেন, তবে তা হবে রেশম ও স্বর্ণের। আপনি যদি এর বিছানাপত্রের কথা জিজ্ঞেস করেন, তবে এর গদিগুলো হবে সর্বোচ্চ স্তরে বিছানো অত্যন্ত সুরভিত রেশমের তৈরি। আপনি যদি এর বাসিন্দাদের মুখাবয়ব ও সৌন্দর্যের কথা জিজ্ঞেস করেন, তবে তা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো। আপনি যদি তাদের বয়সের কথা জিজ্ঞেস করেন, তবে মানবজাতির পিতা আদমের আকৃতিতে তারা প্রত্যেকেই ৩৩ বছরের যুবক হবেন। আপনি যদি তাদের শ্রবণকৃত শব্দের কথা জিজ্ঞেস করেন, তবে তা হবে হুর আল-আইনদের গান, তার চেয়েও সুন্দর হবে ফেরেশতা ও নবীদের কণ্ঠস্বর, আর সর্বোপরি সবচেয়ে সুন্দর হবে বিশ্বজগতের রবের নিজস্ব বাণী। আপনি যদি তাদের সেবক বা খাদেমদের কথা জিজ্ঞেস করেন, তবে তারা হবে চিরযুবা বালক, যারা দেখতে বিক্ষিপ্ত মুক্তার মতো সুন্দর। আপনি যদি তাদের সহধর্মিণী ও জীবনসঙ্গিনীদের কথা জিজ্ঞেস করেন, তবে তারা হবে তরুণী ও পূর্ণযৌবনা, যাদের অঙ্গে যৌবনের লাবণ্য প্রবাহিত; তারা মুখাবয়ব প্রকাশ করলে সূর্যও তাদের সৌন্দর্যের সাথে প্রতিযোগিতা করবে, মুচকি হাসলে তাদের দাঁতের ফাঁক থেকে আলো ঠিকরে পড়বে; যদি আপনি তাদের ভালোবাসায় সিক্ত হন, তবে দুই আলোর মিলনের ব্যাপারে আপনার যা ইচ্ছে বলতে পারেন; একজন স্বামী তার স্ত্রীর গালের মসৃণতায় নিজের মুখ এমনভাবে দেখতে পাবেন যেন তিনি কোনো ঝকঝকে


আয়নার দিকে তাকিয়ে আছেন, এমনকি স্ত্রীর মাংস ও হাড়ের পেছনের দীপ্তিও তার চোখে ধরা পড়বে; যদি তাদের দুনিয়ায় পাঠানো হতো, তবে তারা আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থান এক সুবাসিত বাতাসে ভরে দিত, সৃষ্টির প্রতিটি মুখ তাদের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করত, পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী সবকিছু তাদের জন্য সুসজ্জিত হয়ে উঠত, প্রত্যেকেই সবকিছু বাদ দিয়ে শুধু তাদের দিকেই চেয়ে থাকত, নক্ষত্রের আলো যেমন সূর্যের আলোয় ম্লান হয়ে যায়, তেমনি তাদের মুখের সামনে সূর্যের আলোও নিষ্প্রভ হয়ে যেত, আর পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকা প্রতিটি মানুষই তখন চিরঞ্জীব ও সবকিছুর সংরক্ষক সত্তার ওপর ঈমান আনত।


নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ