পদ্মার ভাঙনে বিলীন ৬ বছর আগে নির্মিত কোটি টাকার দীর্ঘ সেতু
পদ্মার ভাঙনে বিলীন ৬ বছর আগে নির্মিত কোটি টাকার দীর্ঘ সেতু
নিজস্ব প্রতিবেদক
ফরিদপুরে পদ্মা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ছয় বছর আগে নির্মিত ৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ফরিদপুর সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে ফেসবুকে বিষয়টি ভাইরাল হয়। এলাকাবাসী
সূত্রে জানা গেছে, সেতুটি নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কবিরপুর এলাকায় অবস্থিত। সেতুটি দিয়ে ফরিদপুরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের আজমত আলী মণ্ডলের ডাঙ্গী, মোনতাজ মাদবরের ডাঙ্গী ও আদর্শ গ্রামের পাশাপাশি মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের সেলিমপুর, জয়পুর, নতুন হাট, গঙ্গাবর্দী, হরিহরদিয়া, পাটগ্রাম ও নটাখোলা গ্রামের অন্তত দুই হাজার মানুষ যাতায়াত করতেন। সেতুটির পূর্ব পাড়ে মানিকগঞ্জ অংশে পদ্মা নদীর মূল ধারা প্রবাহিত হচ্ছে। পশ্চিমদিকে পদ্মা নদীর আরেকটি শাখা ফরিদপুর অংশ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
পদ্মা নদীর এ দুটি ধারার মাঝখানের চর এলাকায় সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে এলজিইডির উদ্যোগে সাত কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এর দৈর্ঘ্য ৪০ মিটার এবং প্রস্থ ১২ ফুট। নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোস্তফা হোসেন জানান, ওই এলাকায় দুই মাস আগে থেকে ভাঙন শুরু হয়েছে। তবে গত ১৫ দিনে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যায়। গত চার দিন ধরে সেতুটির পূর্ব পাশের সড়কের অংশ ভাঙনে বিলীন হতে শুরু করে। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সেতুটির পূর্ব পাশের অংশ নদীতে ধসে পড়ে। ইউপি সদস্য মোস্তফা হোসেন আরও বলেন, গত দুই মাসের ভাঙনে ওই এলাকার আদর্শ গ্রামে ৫০টি পরিবারের বসতবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া আরও ২০০ পরিবারের বসতভিটাসহ মোট ২৫০টি বসতবাড়ি বিলীন হয়েছে। এর পাশাপাশি অন্তত ৮২৫ একর ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান বলেন, সেতুটির পূর্ব পাশের পাইলিংয়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় সেতুটি নদীতে বসে গেছে। তিনি বলেন, সেতুটি রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ওই এলাকায় বালুর বস্তা ফেললেও তা কোনো কাজে আসেনি। ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া জানান, কবিরপুর এলাকায় ভাঙন শুরু হওয়ার পর জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ তারা একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, সেতু রক্ষার জন্য ১৫০ মিটার অংশে বালুর বস্তা ফেলা হয়েছিল। কিন্তু নদীভাঙন চলেছে অন্তত দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। ফলে সেতুটি রক্ষা করা যায়নি। তাছাড়া, এ বর্ষার মধ্যে সেতু রক্ষায় শক্তিশালী উদ্যোগ নেওয়া যায়নি। ফরিদপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী
মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম বলেন, গত ৩৫ বছরে ওই এলাকায় এমন ভাঙন দেখা যায়নি। এলাকাবাসী বলছেন, নদী ভাঙতে ভাঙতে তার পুরোনো জায়গায় ফিরে আসছে। ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসেন বলেন, সেতুটির দুই দিকে পদ্মা নদীর দুটি ধারা রয়েছে। দুটি ধারাতেই ভাঙন চলছে। চরের মাঝখানে সেতুটি নির্মাণ করেছিল এলজিইডি। তিনি বলেন, নদী ভাঙতে ভাঙতে অন্তত ৫০০ মিটার ভেতরে চলে এসেছে। আর ভাঙন চলছে ১ হাজার ৩০০ মিটার এলাকাজুড়ে। তিনি বলেন, এ অবস্থায় ভাঙন রোধে পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়। পানি কমলে বিশেষজ্ঞ দল এনে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স