ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬ , ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএম কলেজের মেধাবী ছাত্রী ঝুমুরের হ'ত্যা'কা'রী'দে'র ফাঁ'সি'র দা'বি'তে মা'ন'ব'ব'ন্ধ'ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-১০-০৭ ২২:১৭:৫৫
বিএম কলেজের মেধাবী ছাত্রী ঝুমুরের হ'ত্যা'কা'রী'দে'র ফাঁ'সি'র দা'বি'তে মা'ন'ব'ব'ন্ধ'ন বিএম কলেজের মেধাবী ছাত্রী ঝুমুরের হ'ত্যা'কা'রী'দে'র ফাঁ'সি'র দা'বি'তে মা'ন'ব'ব'ন্ধ'ন
রাহাদ সুমন,বরিশাল ব্যুরো:


বরিশাল সরকারি বজ্রমোহন (বিএম) কলেজের মেধাবী ছাত্রী ঝুমুর খানম সেতুকে পরিকল্পিতভাবে মানসিক নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ করেছেন মৃতের পরিবারের সদস্য, স্বজন ও এলাকাবাসী। বুধবার সকালে ঝুমুরের হত্যাকারীদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তারপূর্বক ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অরাজনৈতিক সংগঠন ঢাকাস্থ প্রজন্ম আগৈলঝাড়ার নেতৃবৃন্দরা এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সভার আয়োজন করেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়কে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন চলাকালিন অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, মেধাবী ছাত্রী ঝুমুর খানম সেতু বরিশাল সরকারি বিএম কলেজ থেকে মাস্টার্স পাশ করেছেন। এরপর পরিবারের সম্মতিতে তিনি বিয়ের পিড়িতে বসেছিলেন। কিন্তু তার প্রবাসী স্বামী ও তার লোভী পরিবারের অব্যাহত মানসিক নির্যাতনের কারণে অকালেই ঝড়ে গেছে মেধাবী ঝুমুরের প্রান। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার উত্তর শিহিপাশা গ্রামের আব্দুল করিম খানের মেয়ে ঝুমুর খানম সেতুর সাথে সামাজিকভাবে পাশ্ববর্তী গৌরনদী পৌর এলাকার চরগাধাতলী মহল্লার বাসিন্দা মৃত হারুন কাজীর ছেলে শাহারিয়া কাজী ওরফে শাহাবুদ্দিনের সাথে বিয়ে হয়।


দাম্পত্য জীবনে তাদের চার বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বক্তারা আরো বলেন, বিয়ের পর থেকে ঝুমুরের কুয়েত প্রবাসী স্বামী শাহারিয়া, তার মা রুনু বেগম, বোন নাজমিন বেগম, শারমিন ও রিয়া খানমসহ নাজমিনের জামাতা সাইদুল হাওলাদার কারণে-অকারণে ঝুমুরকে মানসিক নির্যাতন করে আসছিলো। একপর্যায়ে স্বামীর বাড়ি থেকে ঝুমুরকে তার একমাত্র মেয়েসহ তাড়িয়ে দেয়া হয়। সেই থেকে ঝুমুর তার কন্যাকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় গ্রহন করেন। মৃত ঝুমুরের বাবা করিম খানের বরাত দিয়ে বক্তারা বলেন, বিয়ের সময় পর্যাপ্ত মালামাল না দেয়া, পাঁচশ' বরযাত্রীকে না আনাসহ ঝুমুর দেখতে সুন্দরী না হওয়ার অজুহাত তুলে, দীর্ঘদিন থেকে শাহারিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা ঝুমুরকে মানসিক নির্যাতন করে আসছিলো। ঘটনারদিন (৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে শাহারিয়া ভিডিও কল দিয়ে ঝুমুরকে অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে তাকে (ঝুমুর) বিষপান করে মরে যাওয়ার কথা বলে। স্বামীর এ মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে ঝুমুর বিষপান করে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতালে ও পরে ওই রাতেই বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা এগারোটার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঝুমুর খানম সেতুকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। পরবর্তীতে ওই গৃহবধূর স্বজনরা তাৎক্ষনিক ঝুমুরকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন বিকেল পাঁচটার দিকে ঝুমুর মৃত্যুরকোলে ঢলে পড়েন।


উল্লেখ্য, নিহত ঝুমুরের ময়নাতদন্ত শেষে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। এরপর মঙ্গলবার দিবাগত রাত দশটার দিকে জানাজা শেষে ঝুমুরকে তার বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ