কেন্দুয়ায় দুই পক্ষের সং'ঘ'র্ষে আ'হ'ত ৩৫
কেন্দুয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৩৫
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। বুধবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ১০ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি ওয়ার্ড বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইফরান মিয়ার সঙ্গে সুনু মিয়া ও শাকিল পক্ষের বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে মৎস্যচাষি আব্দুর রহমান ওরফে ইয়ারখানের মাছ পরিবহনকে কেন্দ্র করে সুনু ও শাকিল পক্ষের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। এ ঘটনায় ইফরান মিয়া আব্দুর রহমানের পক্ষ নেওয়ায় বিরোধ আরও তীব্র হয়।
সুনু মিয়া পক্ষের লোকজনের অভিযোগ, বুধবার সকালে সুনু মিয়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ইফরান মিয়ার লোকজন তার ওপর হামলা চালান। পরে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩৫ জন আহত হন।
সুনু মিয়া পক্ষের গুরুতর আহতরা হলেন-বাবুল মিয়া, কাঞ্চন মিয়া, সোহেল মিয়া, সৃজল হক, বকুলা আক্তার ও বাচ্চু মিয়া। অপর পক্ষের গুরুতর আহতরা হলেন নজরুল ইসলাম, সাইকুল ইসলাম ও দেলোয়ার মিয়া।
সুনু মিয়া বলেন, ওয়ার্ড বিএনপির সম্মেলনের সময় আমরা ইফরানকে সমর্থন না করায় তার সঙ্গে আমাদের বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর আগে আব্দুর রহমান (ইয়ারখান) গ্রামীণ সড়ক দিয়ে পুকুরের মাছ পরিবহনের জন্য বড় ট্রাক ব্যবহার করতেন। এতে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গ্রামবাসী বড় গাড়ি চলাচলে নিষেধ করেন। এ নিয়ে আমাদের সঙ্গে তার বিরোধ হয়। পরে ইফরানের সঙ্গে আব্দুর রহমান যোগ দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালান।
তবে আব্দুর রহমানের ছেলে আল মামুন বলেন, আমরা কয়েকটি পুকুরে মাছ চাষ করেছি। মাছ পরিবহনের জন্য ৩৬ ড্রামের গাড়ি পুকুরে প্রবেশ করাতে চাইলে সুনু ও শাকিল পক্ষের লোকজন বাধা দেন। পরে ১৮ ড্রামের গাড়ি দিয়েও মাছ পরিবহনের চেষ্টা করা হলে তারা বাধা দেন। এতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ইফরান মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
কেন্দুয়া থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি পেমই তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ দেখভাল করছে।
পেমই তদন্ত কেন্দ্রের এসআই বাবুলের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Room 3
কমেন্ট বক্স