শীতের আগেই কুড়িগ্রামের মাঠে আগাম সবজি চাষের ব্যস্ততা
শীতের আগেই কুড়িগ্রামের মাঠে আগাম সবজি চাষের ব্যস্ততা
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
শীতের আমেজ এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি। তবে শীতকালীন সবজি চাষে কুড়িগ্রামের কৃষকদের ব্যস্ততা শুরু হয়েছে আগেই। ভোরের আলো ফুটতেই কোদাল, সার ও সেচের সরঞ্জাম নিয়ে মাঠে ছুটছেন তারা। কেউ জমি প্রস্তুত করছেন, কেউ সার প্রয়োগ ও সেচ দিচ্ছেন, আবার কেউ আগাছা পরিষ্কারে ব্যস্ত।
এরই মধ্যে কোনো জমিতে দেখা মিলছে মুলার চারা, কোথাও বেড়ে উঠছে ফুলকপি ও বাঁধাকপি। লাউ, বেগুনসহ নানা সবজির সবুজে বদলে যাচ্ছে মাঠের দৃশ্য। কৃষকদের লক্ষ্য, শীত পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই আগাম সবজি বাজারে তুলে ভালো দাম পাওয়া। কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, আগাম শীতকালীন সবজি চাষকে কেন্দ্র করে কৃষকদের ব্যস্ততা বেড়েছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জমিতে চলছে নানা ধরনের পরিচর্যার কাজ। অনেক কৃষক নিজেরাই এসব কাজে অংশ নিচ্ছেন।
আবার কোথাও শ্রমিক দিয়ে চলছে জমি প্রস্তুত ও ফসলের পরিচর্যা। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, আগাম সবজি উৎপাদনে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় খরচ ও শ্রম দুটিই বেশি লাগে। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে বীজ বপন, সার প্রয়োগ, সেচ, আগাছা দমন ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ—প্রতিটি ধাপেই বাড়তি যত্ন নিতে হয়। এরপরও মৌসুমের শুরুতে বাজারে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনায় আগাম সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন তারা। কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আগাম সবজি চাষ করতে হলে জমিতে বেশি সময় দিতে হয়। সার, সেচ ও শ্রমিকের খরচও বেশি হয়। তবে শীতের শুরুতে সবজির দাম ভালো থাকে। তাই বাড়তি পরিশ্রম হলেও আগাম সবজি চাষ করছি।’ আরেক কৃষক মোঃ মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতে সবজির চাহিদা বেশি থাকে, ফলে দামও ভালো পাওয়া যায়। গত বছর আগাম সবজি চাষ করে লাভ হয়েছিল।
সে কারণে এবারও বেশি জমিতে আগাম সবজি আবাদ করেছি।’ তবে আগাম সবজি চাষে সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকিও রয়েছে। কৃষকদের অন্যতম দুশ্চিন্তার কারণ আবহাওয়া। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে কোমল চারা নষ্ট হতে পারে। আবার শীতের আগে দীর্ঘ সময় গরম আবহাওয়া থাকলেও কিছু সবজির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে নিয়মিত জমি পর্যবেক্ষণ করছেন কৃষকেরা। কুড়িগ্রাম কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর কুড়িগ্রাম জেলায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজির আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে আগাম শাক-সবজি। জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকেরা জমির ধরন, আবহাওয়া ও বাজারের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন জাতের সবজি আবাদ করছেন। কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রাসেল মিয়া বলেন, ‘কৃষকেরা আগাম শীতকালীন সবজি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তাদের নিয়মিত কৃষি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কোন সবজিতে কী পরিমাণ সার প্রয়োগ করতে হবে, কখন সেচ দিতে হবে এবং রোগবালাই দেখা দিলে কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে—এসব বিষয়ে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
শীত নামার আগেই কুড়িগ্রামের মাঠজুড়ে এখন আগাম সবজি চাষের ব্যস্ততা। কৃষকের পরিশ্রমে ধীরে ধীরে সবুজ হয়ে উঠছে জমি। তাদের প্রত্যাশা, অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলন হলে মৌসুমের শুরুতেই বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাবে। আর তাতেই মিলবে পরিশ্রমের সার্থকতা।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স