নিজস্ব প্রতিবেদক
র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভিন্ন ধরণের অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।
র্যাবের সৃষ্টিকাল থেকে অদ্যবধি হত্যা মামলার আসামি, মাদক ব্যবসায়ী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, অপহরণকারী, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ ও প্রতারকচক্র গ্রেফতারে সদা তৎপর রয়েছে। স্পর্শকাতর ঘটনা এবং অস্ত্র মামলার সাথে জড়িত আসামিদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছে। এছাড়াও আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষিত জনবল ব্যবহার করে র্যাব যেকোনো অপরাধ কঠোরভাবে দমনের চেষ্টা করছে।
২। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দঘাট থানার চর দৌলতদিয়া এলাকায় বসবাসকারী নবিরন নেছা (৫৫) দরিদ্রতার কারণে শারীরিকভাবে দুর্বল থাকা সত্ত্বেও নিজেই বর্গা জমিতে কৃষিকাজ করতেন। বৃদ্ধা নারী গত ০২/০৯/২০২৬ তারিখ বিকাল ১৬.০০ ঘটিকায় বর্গা জমিতে কৃষিকাজ করতে যায়। সন্ধ্যার পর বাড়ি না ফেরায় তার মেয়ে বাড়ির আশপাশ এবং সম্ভাব্য জায়গায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রাত আনুমানিক ২১.০০ ঘটিকায় পাশের আখক্ষেতে থাকা প্রতিবেশী রফিকুল ইসলাম মৃধা (৩৫) এর জমির পানিতে ভিকটিমের মেয়ে তার মায়ের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। আশপাশের লোকজনের সহায়তায় ভিকটিমকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
৩। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় যে, হৃদরোগজনিত কারণে পানিতে পড়ে গিয়ে ভিকটিমের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলের আশপাশে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম মৃধার জমির আখক্ষেতের চারপাশে অবৈধভাবে জিআই তার দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করে রাখে। ওই তারের প্রবাহিত বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে ভিকটিম মারা যায় এবং এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে অভিযুক্তরা লাশ ধানক্ষেত থেকে টেনে আখক্ষেতে রাখে এবং মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে আখক্ষেতের প¦ার্শে গর্ত খনন করে।
৪। এ ঘটনায় ভিকটিমের মেয়ে বাদী হয়ে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি এজাহার দায়ের করলে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার সাথে জড়িত অভিযুক্তদের সনাক্ত করে গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব-১০, ঢাকা বরাবর অধিযাচন পত্র প্রেরণ করেন। উক্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং প্রকৃত ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।
৫। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল গোয়েন্দা নজরদারি এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানাধীন বেপারী পাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অদ্য ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ রাত অনুমান ০২.০০ ঘটিকায় প্রধান অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম মৃধা (৩৫), পিতা- মৃত জলিল মৃধা, সাং- আইনুদ্দিন প্রামানিক পাড়া, থানা- গোয়ালন্দঘাট, জেলা- রাজবাড়ী’কে অধিযাচনপত্র পাওয়ার ৮ ঘন্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।
৬। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। র্যাব-১০ এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে আসছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-১০ সর্বদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
৭। র্যাব-১০ অপরাধ দমনে সর্বদা জনগণের পাশে রয়েছে। যেকোনো অপরাধের তথ্য র্যাবকে জানিয়ে অপরাধ দমনে সহযোগিতা করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।
*ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা, এডি*
*মেজর*
কোম্পানি কমান্ডার
সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্প
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১০
অধিনায়কের পক্ষে