ব্যানারে ছবি নেই জিয়াউর রহমানের, শেখ মুজিবকে ‘জাতির পিতা’ বলায় দুই দফা হট্টগোল

আপলোড সময় : ০৭-১১-২০২৬ ০৭:০৬:১৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৭-১১-২০২৬ ০৭:০৬:১৪ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

জয়পুরহাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভার মূল ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় তীব্র অসন্তোষ ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। এসময় এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

 

পরবর্তীতে কসটেপ দিয়ে ছবি সাঁটিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করা হলেও, এক বক্তার বক্তব্যে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ হিসেবে সম্বোধন করায় আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। 

 

পরে দুই দফায় হট্টগোলের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া এই সভায় দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন জেলা প্রশাসক। একইসঙ্গে প্রধান অতিথি এ ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই আলোচনা সভা হওয়ার কথা ছিল। তবে মূল ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় প্রধান অতিথি জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী মঞ্চে ওঠেননি এবং অনুষ্ঠান শুরু করা যায়নি।

 

পরে জেলা প্রশাসকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা মঞ্চে গিয়ে ব্যানার নামিয়ে জিয়াউর রহমানের ছবি-সংবলিত একটি পোস্টার কসটেপ দিয়ে ব্যানারে সাঁটানোর পর প্রতিমন্ত্রী মঞ্চে আসেন। ফলে নির্ধারিত সময়ের প্রায় আধা ঘণ্টা পর অনুষ্ঠান শুরু হয়।

 

এদিকে আলোচনা সভা চলাকালে জিয়া পরিষদের জয়পুরহাট পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান তার বক্তব্যে একাধিকবার শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ বলে সম্বোধন করলে সভাস্থলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি একেএম গোলাম মাহফুজ শুভ, ইসলাম উত্তেজিত হয়ে ডায়াসের দিকে তেড়ে যান এবং পরবর্তীতে ওই বক্তাকে ডায়াস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায়  জেলা ছাত্রদল, জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দলের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করেন।
​
জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া জানান, ইন্টারনেট থেকে ছবি সংগ্রহ করে ব্যানারটি তৈরি করা হয়েছিল। তবে এ ত্রুটির জন্য তিনি অনুষ্ঠানে সবার সামনে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

 

জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী অনুষ্ঠানস্থলের বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি ও ঘটনার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পুরো বিষয়টি ইচ্ছাকৃত কি না, তা খতিয়ে দেখে জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রশাসককে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

 

এদিকে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ ওহাব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক তথা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ ১৯ বছর পর এই দিবস পালন করা হচ্ছে, অথচ শহীদ জিয়ার ছবি ছাড়াই ব্যানার তৈরি করা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং প্রশাসনের ভেতরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের চক্রান্তের বহিঃপ্রকাশ।

 

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম, সিভিল সার্জন আল-মামুন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন।








 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]