মা'দকের উদ্বেগজনক বিস্তার

আপলোড সময় : ০৭-১১-২০২৬ ১১:৫৭:৩২ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৭-১১-২০২৬ ১১:৫৭:৩২ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। ধ্বংস হচ্ছে কিশোর থেকে তরুণ সমাজ। মাদকের এই ভয়াল থাবায় শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে। এর পেছনে এক শ্রেণির রাজনৈতিক নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতা দায়ী। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মাদক নিয়ন্ত্রণের হাতও বদল হয়ে যায়। মাদকাসক্তদের মধ্যে তরুণদের সংখ্যা শীর্ষে। তথ্য প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে এখন ঘরে বসেও পাচ্ছে মাদকের যোগান। মাদক চক্রের কাছে অনলাইনে অর্ডার দিলে তারা এখন ‘হোম ডেলিভারি’ও দেয়! 

 

রাজধানী ছাড়িয়ে অন্যান্য জেলাশহর এমনকি গ্রামাঞ্চলেও হাত বাড়ালে পাওয়া যাচ্ছে সব ধরনের মাদক। মাদকের কারণে বাড়ছে ছোট অপরাধ থেকে শুরু করে নৃশংস হত্যাকাণ্ডও। মাদকাসক্ত সন্তানের কাছ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না তার জন্মদাতা পিতামাতাও। মাদকের টাকা না পেয়ে বাবা-মাকে নৃসংশভাবে টুকরা টুকরা করে হত্যা করার খবরও বিভিন্ন সময়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে।

 

গতকাল শুক্রবার মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে ডিবেট ফর ডেমোক্রাসি তোপখানা রোডের সিরডাপ মিলনায়তনে ‘মাদককে না বলুন’, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ুন’ শীর্ষক একটি সেমিনার আয়োজন করে। সেখানে বক্তারা বর্তমানে মাদকের দেশব্যাপী ভয়াবহ বিস্তার, রোধ করার উপায় এবং আসক্তদের রক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সেমিনারে যৌথভাবে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে স্টেট ইউনির্ভাসিটি অব বাংলাদেশ ডিবেটিং সোসাইটি ও ইডেন মহিলা কলেজ ডিবেটিং ক্লাব। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, বিশেষ অতিথি ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক মো. হাসান মারুফ ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত কামাল ও ৭১ টিভির বার্তা সম্পাদক শাহ আজিজুর রহমান কিরণ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রাসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

 

এমপি ইশরাক হোসেন বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততা ও পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে। যে সরকার ক্ষমতায় থাকে সেই রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে নিজ নিজ স্পটগুলোতে মাদক ব্যবসা পরিচালনা হয়। তিনি বলেন, মাদক কারবারির সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তির রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। মাদক ব্যবসার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি জড়িত থাকলে তার মুখোশ উন্মোচিত করে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত। একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে মাদক ছড়িয়ে দিয়ে আমাদের সমাজ ও জাতি ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে। মাদকের বিরুদ্ধে নিজের যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে বলে ইশরাক জানান।

 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, মাদকের ব্যবহার যে হারে দেশব্যাপী বেড়েছে সেই তুলনায় মাদক অধিদপ্তরের জনবল, যানবাহনসহ অন্যান্য অবকাঠামো স্বল্পতা রয়েছে। তবে কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলছে। মাদক উদ্ধার ও আটক করাও হচ্ছে। মাদকের পেছনের গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। নানা কায়দায় সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক পাচার হয়ে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। এমনকি শিশুদেরও মাদক বহনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে মাদক ঢুকছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিতভাবেই মাদক উদ্ধার করছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অবকাঠামো ও জনবল বৃদ্ধির জন্য বর্তমান সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। তা বাস্তবায়নের কার্যক্রম চলছে। তিনি বলেন, ঘর থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করতে হবে। সকল পেশা ও ধর্মের লোকদের মাদকের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তাহলে তরুণ সমাজকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

 

ডা. মোহিত কামাল বলেন, দেশব্যাপী তরুণরা ব্যাপকহারে মাদকাসক্ত হচ্ছেন। তাদের মধ্যে সিংহভাগই ইয়াবা আসক্ত। বর্তমানে মাদকাসক্তের হার গ্রামাঞ্চলেও বেড়ে চলেছে। এমন কোনো জায়গা নাই যেখানে মাদকের ব্যবহার হয় না। তরুণদের মৃত্যুর হারও বেড়েছে। মাদকের কারণে তরুণদের মধ্যে অসংক্রামক ব্যধি সর্বাধিক। অপরাধ ও নৃশংসতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণও মাদক। মাদক নির্মূল করতে হলে দলমত নির্বিশেষে সকল পেশা ও ধর্মবর্ণের লোকদের আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া বিকল্প নাই। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু নিজের সন্তান রক্ষায় সকলকে পিতার ভূমিকা নিয়ে মাদককে ছাড়া না দেওয়ার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। তাহলে তাদের সন্তানরা মাদকের ভয়াল থাবা থেকে তারা রক্ষা পাবেন বলে তিনি জানান।

 

এদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাতেনাতে মাদকসহ গ্রেফতার করার পর দেখা যায়, কিছু দিন পর সেই ব্যক্তি জামিন নিয়ে এলাকায় ফিরে আসে। ফিরে এসে আবার একই ব্যবসায় নেমে পড়ে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের একার পক্ষে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধ করা সম্ভব নয়। মাদক নির্মূল করতে হলে ঘর থেকেই সামাজিক আন্দোলন শুরু করতে হবে। রাজধানী থেকে শুরু করে প্রতিটি গ্রাম, পাড়া মহল্লায় সব পেশা ও ধর্মের লোক মিলে এটার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। কোনো মাদকও যেন কোনো এলাকায় কেউ বিক্রি করতে না পারে সেই ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। এই ব্যাপারে পুরো সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

 







 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]