ইতালিতে দক্ষ কর্মীদের কাজের সুযোগ, গুরুত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশ

আপলোড সময় : ০৫-১১-২০২৬ ১০:০২:১২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৫-১১-২০২৬ ১০:০৫:০১ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইতালিতে দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভাষা শিক্ষা, নাগরিক শিক্ষা ও পেশাগত প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশটির অভিবাসন আইনের ২৩ নম্বর অনুচ্ছেদ (আর্টিকেল ২৩) অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোতে বিদেশি কর্মীদের জন্য এসব প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রয়েছে। বিজ্ঞাপন এর মাধ্যমে ইতালির শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কর্মী তৈরি এবং বৈধ অভিবাসনের পথ সহজ করাই লক্ষ্য। বাংলাদেশের কর্মীদের জন্যও এই ব্যবস্থায়

ইতালিতে কাজের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে অনুমোদিত প্রি-ডিপারচার প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শর্তে প্রচলিত কর্মী নিয়োগের কোটা ব্যবস্থার বাইরে ইতালিতে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারেন। ২০২৩ সালে ইতালির শ্রম ও সামাজিক নীতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের, অভিবাসন ও সংহতি নীতিবিষয়ক মহাপরিচালকের দপ্তর আর্টিকেল ২৩-এর আওতায় পেশাগত এবং ভাষা ও নাগরিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশিকা প্রণয়ন করে। ২০২৩ সালের ৭ জুলাই নির্দেশিকাটি গৃহীত হয়। এতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন, প্রকল্প মূল্যায়ন এবং অংশগ্রহণকারীদের দক্ষতা যাচাইয়ের মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এসব প্রশিক্ষণ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের এক বা একাধিক দেশে পরিচালনা করতে হবে। প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো, ইতালির শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট খাতের চাহিদা অনুযায়ী বিদেশি কর্মীদের দক্ষ করে তোলা। প্রশিক্ষণে ইতালীয় ভাষার পাশাপাশি দেশটির সংবিধানের মৌলিক নীতি, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামো ও কার্যক্রম এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। ভাষা প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের কমপক্ষে (এ১) পর্যায়ের দক্ষতা অর্জন করতে হবে। পেশাগত প্রশিক্ষণে নির্দিষ্ট কাজের দক্ষতা, কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, শ্রমিকদের অধিকার, সংশ্লিষ্ট পেশার পরিভাষা এবং চাকরি খোঁজার পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তাত্ত্বিক ও ব্যাবহারিক উভয় ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। বিজ্ঞাপন •

প্রশিক্ষণে কোনো ফি নেওয়া যাবে না ইতালির নির্দেশিকায় প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের অর্থ নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান সরাসরি কিংবা পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক বা ফি দাবি করতে পারবে না। প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। কোন পেশায় কতজন কর্মীর চাহিদা রয়েছে, কোন খাতে নিয়োগ দেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কী ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন, তা আগেই নির্ধারণ করতে হবে। এ ছাড়া ইতালীয় নিয়োগকর্তা ও কোম্পানিগুলোর সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ চলাকালে অংশগ্রহণকারীদের সম্ভাব্য চাকরির সুযোগ, কর্মসংস্থান চুক্তির শর্ত এবং ইতালিতে প্রবেশের পদ্ধতি সম্পর্কে জানাতে হবে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের পেশাগত দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা ও নির্বাচিত ব্যক্তিদের তালিকা ইতালির শ্রম ও সামাজিক নীতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। এসব প্রকল্পের প্রস্তাব ইতালির শ্রম ও সামাজিক নীতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের, অভিবাসন ও সংহতি নীতিবিষয়ক মহাপরিচালকের দপ্তরে জমা দিতে হয়। মন্ত্রণালয়ের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিশন প্রকল্পগুলো মূল্যায়ন ও অনুমোদনের দায়িত্ব পালন করে। • বাংলাদেশে আর্টিকেল-২৩ নিয়ে দূতাবাসের উদ্যোগ বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য আর্টিকেল ২৩-এর আওতায় দক্ষ অভিবাসনের সুযোগ তুলে ধরেছে ঢাকায় অবস্থিত ইতালির দূতাবাস। বিশ্বব্যাপী ইতালীয় ভাষা সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষ্যে গত ৩ নভেম্বর ঢাকায় ‘ল্যাংগুয়েজ, সিভিক অ্যান্ড প্রফেশনাল ট্রেইনিং ফর স্কিলড মাইগ্রেশন টু ইতালি’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ইতালির দূতাবাস ও তাদের আন্তর্জাতিক সহযোগী অংশীদারদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর সামনে ইতালিতে দক্ষ অভিবাসনের সুযোগ এবং দেশটির অভিবাসন আইনের সাম্প্রতিক বিধান তুলে ধরা হয়। এতে ইতালীয় ভাষা শিক্ষা, নাগরিক শিক্ষা ও পেশাগত প্রশিক্ষণের গুরুত্ব বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। এ ছাড়া ছিলেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মিশনপ্রধান ড. লরা নিকোল টম-বন্ডে, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রতিনিধি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) প্রতিনিধিরা। ইতালির দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রন্টিয়ার স্কিলস ও ফরম্যাটের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, ইতালিতে বৈধভাবে কাজের সুযোগ রয়েছে। এ জন্য কোনো দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে অবৈধ পথে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। দূতাবাসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আর্টিকেল ২৩-এর আওতায় প্রকল্পগুলো ইতালির বেসরকারি খাতের উদ্যোগে পরিচালিত হয় এবং এসব প্রকল্পের সংখ্যা সীমিত। সাধারণত জাতীয় সংবাদপত্রে প্রশিক্ষণ ও নিয়োগের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। এ ধরনের সুযোগ সম্পর্কে জানতে আগ্রহীদের দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলো নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। • বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ ইতালির ২০২৩ সালের নির্দেশিকায় বাংলাদেশের নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের যেকোনো দেশে এসব প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে। সে হিসাবে বাংলাদেশেও আর্টিকেল ২৩-এর আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে। অনুষ্ঠানে ইতালির সরকারি কর্মী নিয়োগের কোটা ব্যবস্থা ‘দেক্রেতো ফ্লুসি’র পরিসংখ্যানও তুলে ধরা
হয়।

এতে বলা হয়, ২০২৬ সালে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০ জন, ২০২৭ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন এবং ২০২৮ সালে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ইতালির। তিন বছরে সব মিলিয়ে ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০ জন কর্মী নেওয়া হবে। বিভিন্ন দেশের জন্য নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী এসব কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, অনিয়মিত অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতার কারণে বাংলাদেশের জন্যও সংরক্ষিত কোটা রয়েছে। তবে প্রচলিত কোটা ব্যবস্থার বাইরে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে ইতালির অভিবাসন আইনের আর্টিকেল ২৩। এই ধারার আওতায়, ইতালির শ্রম ও সামাজিক নীতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় অনুমোদিত ও সনদপ্রাপ্ত প্রি-ডিপারচার প্রশিক্ষণ প্রকল্প সম্পন্ন করা ব্যক্তিরা ডেকরেতো ফ্লুসির নির্ধারিত কোটা ছাড়াই বৈধভাবে ইতালিতে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। এই প্রশিক্ষণে তিনটি বিষয় বাধ্যতামূলক। এগুলো হলো : প্রাথমিক ইতালীয় ভাষা শিক্ষা, ইতালি সম্পর্কে মৌলিক নাগরিক শিক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট কাজের খাতের পেশাগত দক্ষতা অর্জন। প্রশিক্ষণ বাংলাদেশ থেকেই সম্পন্ন করতে হবে এবং এ জন্য কর্মীদের কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না। অনুষ্ঠানে ফরম্যাটের প্রতিনিধি আন্তোনিও মিলো আর্টিকেল ২৩-এর পাঁচটি সুবিধার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থায় প্রচলিত কোটা ছাড়াই ইতালিতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং প্রশিক্ষণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। শুরু থেকেই ইতালি সরকার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে। প্রশিক্ষণ শেষে কর্মীরা ইতালীয় ভাষা ও সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পর্কে ধারণা নিয়ে দেশটিতে যেতে পারবেন। আর যারা শেষ পর্যন্ত ইতালিতে যাবেন না, তাঁরাও অর্জিত দক্ষতা বাংলাদেশে কাজে লাগাতে পারবেন। • ভিসা ও দালালের খরচ নিয়ে সতর্কতা অনুষ্ঠানে ইতালিতে যাওয়ার নামে প্রতারণার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। আয়োজকেরা জানান, ইতালির ভিসার সরকারি ফি ৫০ থেকে ১১৬ ইউরো। এর সঙ্গে ভিএফএসের ফি ৩৮ ইউরো যুক্ত হয়। সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১৫৪ ইউরো খরচ হয়। অথচ একই ভিসার জন্য দালালেরা ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার ইউরো পর্যন্ত নিচ্ছেন। এর বিনিময়ে অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া কাগজপত্র ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। আয়োজকেরা বলেন, বৈধ পথে ইতালিতে যেতে খরচ তুলনামূলক কম। প্রতারণার শিকার হওয়ার ক্ষেত্রে দালালদের পেছনে অর্থ ব্যয় বড় কারণ। নির্দেশিকা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ও আন্তঃসরকারি সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, অলাভজনক সংস্থা, নিয়োগকর্তাদের সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন এবং স্বীকৃত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এসব প্রকল্পের আবেদন করতে পারে। সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণকেও ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হয়। ৩ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠান থেকে বাংলাদেশে আর্টিকেল ২৩-এর আওতায় কতটি প্রকল্প ইতোমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে, কতজন কর্মী প্রশিক্ষণ পাবেন কিংবা কতজন ইতালিতে কাজের সুযোগ পাবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। দূতাবাস জানিয়েছে, প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইতালিতে চাকরি বা ভিসা পাওয়া যাবে না। অনুমোদিত প্রকল্প, নিয়োগকর্তার সম্পৃক্ততা এবং দেশটির প্রযোজ্য অভিবাসন ও কর্মসংস্থান প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে ইতালিতে ২ লাখ ১৭ হাজার বাংলাদেশি বৈধভাবে বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে ৮০ হাজার ওয়ার্ক পারমিট ভিসার আওতায় রয়েছেন। আর্টিকেল ২৩-এর প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে কোনো খরচ নেই। এ কারণে দালালের পরিবর্তে ইতালির দূতাবাস ও জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) বৈধ তথ্য অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়। এদিকে, ইতালিতে পৌঁছানোর আট দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেশটির পুলিশ সদর দপ্তর কয়েস্তোরায় গিয়ে রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন করতে হবে। চুক্তি অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই বছরের পারমিট দেওয়া হবে, যা নবায়নযোগ্য। পাঁচ বছর বৈধভাবে বসবাসের পর স্থায়ী বা অনির্দিষ্ট মেয়াদের পারমিট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। • সরকারি প্রশিক্ষণব্যবস্থায় যুক্ত করার পরিকল্পনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, ইতালিতে যাওয়ার সময় কর্মীদের হাতে প্রবাসী কার্ড তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। এর মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানো, পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা হবে। দক্ষ অভিবাসনের ক্ষেত্রে বোয়েসেলসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণার্থীরা পাঁচ থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে বাংলা ও ইংরেজির বাইরে তৃতীয় ভাষা হিসেবে ইতালীয় ভাষায় দক্ষ হয়ে উঠছেন তাঁরা। এই প্রশিক্ষণ পদ্ধতিকে একটি মডেল হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। কারিকুলামটি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার ও ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যতটা সম্ভব চালুর চেষ্টা করা হবে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইতালির দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ফেদেরিকো জাম্পারেলি এবং ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন বাইবা জারিনা। তিনি ইউরোপে নিরাপদ, বৈধ ও দক্ষ অভিবাসনের জন্য ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ নিয়ে আলোচনা করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইতালির দূতাবাসের মাইগ্রেশন অ্যাডভাইজার জিউসেপ্পে ডি জিওভান্নি। তিনি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে ইতালিতে প্রবেশের বিধিমালা ও নতুন আর্টিকেল ২৩-এর বিধান তুলে ধরেন। পরে আর্টিকেল ২৩-এর কয়েকটি প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন ফরম্যাটের মাসিমিলিয়ানো ডি ফুসকো, ফ্রন্টিয়ার স্কিলসের আন্তোনিও মিলো এবং ইউপি রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির ম্যানেজার এন্নিও মিলানো। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) হেড অব প্রোগ্রাম গুঞ্জন ডালাকোটি এবং বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) চিফ অব মিশন ড. লরা নিকোল টম-বন্ডে। সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আর্টিকেল ২৩-এর আওতায় প্রশিক্ষণ নেওয়া দুটি প্রকল্পের শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে ফ্রন্টিয়ার স্কিলসের ‘টিএএসটিই’ প্রকল্পের সম্ভাব্য অভিবাসীরা রেস্টুরেন্ট ও হসপিটালিটি খাতে ঢাকার রিজেন্সি হোটেলে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। অন্যদিকে ইতালির প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ফরম্যাটের অধীনে টেক্সটাইল খাতের একদল শিক্ষার্থীও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ইনফোমাইগ্রেন্টস।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]