মেট্রোরেলসহ তিন প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়ন চায় বাংলাদেশ

আপলোড সময় : ০৫-১১-২০২৬ ১১:০০:৫২ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৫-১১-২০২৬ ১১:০০:৫২ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-৫-এর দক্ষিণ রুট, মতলব উত্তর–গজারিয়া সেতু নির্মাণ এবং ২৬০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী রেলকোচ কেনার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে অর্থায়ন চেয়েছে বাংলাদেশ।

 

দুই দেশের মধ্যে ২০২৩-২০২৭ মেয়াদে স্বাক্ষরিত ৩০০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিলের (ইডিসিএফ) আওতায় এসব প্রকল্পে অর্থায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

 

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা করেছে।

 

বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব কোরিয়া (কেক্সিম), কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন (কেআইসি) এবং শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

 

দুই দেশের মধ্যে ২০২৩-২০২৭ মেয়াদে ৩০০ কোটি ডলারের ইডিসিএফ কাঠামোগত চুক্তি চলমান রয়েছে। এ তহবিলের আওতায় ৩০টি প্রকল্পের জন্য ২৭৮ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে।

 

কেক্সিমের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে বৈঠকে ইডিসিএফের অবশিষ্ট অর্থ ব্যবহারে একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ। এ সময় কোরীয় পক্ষ জানায়, তহবিলের আওতায় অগ্রাধিকারযোগ্য প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মেট্রোরেলসহ প্রস্তাবিত তিন প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

 

দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থ ও অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় উপমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করে কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী। এ সময় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় পরিচালিত সমন্বিত প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন (আইজিএনডি) উদ্যোগের মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে দক্ষিণ কোরিয়ার কারিগরি সহায়তার প্রশংসা করেন তিনি।

 

বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল রূপান্তর, বিকল্প অর্থায়ন এবং ভবিষ্যতে ইডিসিএফের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

 

কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশনের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ডিজিটাল অবকাঠামোসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ ক্ষেত্রে ১০০ থেকে ২০০ কোটি ডলারের বাংলাদেশ সার্বভৌম তহবিলকে সম্ভাব্য বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে আলোচনায় আনা হয়।

 

পাশাপাশি কোরীয় তহবিল ব্যবস্থাপকদের মাধ্যমে কেআইসির ইকুইটি বিনিয়োগের সঙ্গে কেক্সিমের অর্থায়ন যুক্ত করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হয়।

 

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান এলজি এআই রিসার্চের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ভাষার উপযোগী বৃহৎ ভাষা মডেল (এলএলএম) তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদনশিল্প ও সরকারি সেবায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সহযোগিতার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

এ ছাড়া কোরীয় বিনিয়োগবিষয়ক একটি ব্যবসায়িক বৈঠকে বাংলাদেশের হালকা প্রকৌশল ও যন্ত্রাংশ উৎপাদন খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। এ সময় কোরীয় কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কোরিয়ার সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।






 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]