নিজস্ব প্রতিবেদক
সুনামগঞ্জের ছাতকে জাউয়া বাজার ইউনিয়নের পাইগাঁও ও চরমহল্লা ইউনিয়নের জালালীচর গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে সালিশকারীসহ উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক লোক আহতের খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রসহ লাঁঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুপক্ষ। সংঘর্ষ চলাকালে দুপক্ষের লোকজন একে অন্যের দিকে বৃষ্টির মতো পাথর ছুড়তে থাকে। এতে দুপক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হন।
এ ঘটনায় ছালিক মিয়া (৩৫), সুনা মিয়া (৪০), জাফর মিয়া (২৮), সাইফুর রহমান (২৮), হানিফ (৩০), একলাছ উদ্দিন (৪৫), মাহমুদ আলী (৪২), আজমীর (৩০), মানিক মিয়া (২৬), আলমগীর (৩০), আইয়ুব আলী (৩৫) ও হেলাল উদ্দিনসহ আহত ব্যক্তিদের ছাতক, কৈতক ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরে খবর পেয়ে ছাতক থানা ও জাউয়া বাজার তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তিন রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছেন ছাতক থানার ওসি কামাল হোসেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার চরমহল্লা ইউনিয়নের নানকার গ্রামের মাঠে ফুটবল খেলা নিয়ে পাইগাঁও ও জালালীচর গ্রামবাসীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে দুই গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই দিন রাতেই উভয় পক্ষের লোকজনের উপস্থিতিতে স্থানীয় মুরব্বিরা বিষয়টি আপস-মীমাংসা করে দেন।
ছাতক থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, ফুটবল খেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার আবারও দুই গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে জাউয়া-ছাতক সড়কের রাঙ্গা-ডিঙ্গা নামক স্থানে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।